চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

একে একে নিভছে আশার বাতি

মসজিদে বিস্ফোরণে এ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ২৪ জন

এ যেন ‘হারাধনের দশটি ছেলে’ কবিতার মতোই করুণ পরিণতির গল্প। একে একে নিভে যাচ্ছে জীবনের আশা। হাজারো চেষ্টায়ও বাঁচানো যাচ্ছে না নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় অগ্নিদগ্ধদের। শনিবার দিবাগত রাতে মৃত্যু হয়েছে আরও দুইজনের। এ নিয়ে ওই বিস্ফোরণে প্রাণ হারালেন ২৪ জন।

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিটিউটে চিকিৎসাধীন শামীম হাসান মারা যান রাত তিনটার দিকে। এরপর মারা যান নাদিম নামের আরেক ব্যক্তি।

বিজ্ঞাপন

রোববার সকালে মৃত্যু হয় দগ্ধ আরেকজনের।

মৃত্যুর মিছিলের শুরুটা হয়েছিল শিশু জুয়েলকে দিয়ে। ঘটনার দিন শুক্রবার রাতে প্রথম মৃত্যু হয় তার। তারপর শনিবার একে একে প্রাণ হারান রিফাত (১৮), মোস্তফা কামাল (৩৪), জুবায়ের (১৮), সাব্বির (২১), কুদ্দুস ব্যাপারী (৭২), হুমায়ুন কবির (৭০), ইব্রাহিম (৪৩), মুয়াজ্জিন দেলোয়ার হোসেন (৪৮), জুনায়েদ (১৭), জামাল (৪০), জয়নাল আবেদিন (৪০) ও মাইনুদ্দিন (১২)।

শনিবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবদুল মালেক (৬২), মিজান হোসেন নিজাম (৪০) ও নাদিম (৪৫) নামে তিনজনের মৃত্যু হয়।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার রাতে নারায়ণগঞ্জ শহরের তল্লা এলাকার বায়তুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তাতে অর্ধশত মানুষ দগ্ধ হয়। যাদের মধ্যে গুরুতর ৩৭ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিটিউটে ভর্তি করা হয়েছিল।

এশার নামাজের সময় ঘটা ওই বিস্ফোরণে দগ্ধদের উদ্ধার করে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় তাদেরকে বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিটিউটে ভর্তি করা হয়।

বিস্ফোরণে মসজিদের ভেতর আগুন জ্বলে উঠে এবং কাঁচ ভেঙে মুসল্লিরা আহত হয়। মসজিদের ভেতরের ৬টি এসি দুমড়ে মুচড়ে গেছে। ২৫টি সিলিং ফ্যানের পাখা বাঁকা হয়ে গেছে।

প্রাথমিকভাবে মসজিদের এসি থেকে বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে ধারণা করা হলেও পরে ফায়ার সার্ভিস জানায়, ওই মসজিদের নিচ দিয়ে যাওয়া গ্যাস পাইপ লিকেজের কারণে বিস্ফোরণ ঘটে।

ঘটনা তদন্তে এরই মধ্যে আলাদা তিনটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।