চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

একুশে পদকপ্রাপ্ত ভাষা সংগ্রামী দম্পতির স্বর্ণালি দিনের কথা

বিচারপতি কাজী এবাদুল হক ও অধ্যাপক ড. শরিফা খাতুন। একজন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি, অপরজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক। ব্যক্তিগত জীবনে স্বামী-স্ত্রী এ দু’জনের সবচেয়ে মূল্যবান পরিচয় হচ্ছে, ওনারা ভাষা সংগ্রামী। মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় এই দু’জন সংগ্রামী ব্যক্তিত্ব নিজ নিজ অবস্থান থেকে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। যার স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৭ সালে একুশে পদক পেয়েছেন অধ্যাপক ড. শরিফা খাতুন। আর ২০১৬ সালে পদক পেয়েছিলেন বিচারপতি কাজী এবাদুল হক।

ফেনীতে জন্ম নেয়া এ দু’জনই শিক্ষাজীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। বিচারপতি কাজী এবাদুল হক ১৯৫২ সালে ফেনীতে ভাষা আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ১৯৫৪-৫৫ সালে তিনি ফেনী ভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক ছিলেন। অধ্যাপক শরিফা খাতুনও ভাষা আন্দোলনে সাহসী ভূমিকা রাখেন। বিভিন্ন স্কুলে গিয়ে বাংলা ভাষার পক্ষে প্রচারণা চালান। স্কুলের ছাত্রীদের সংগঠিত করেন। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ইডেন কলেজ প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে দেয়াল টপকে চলে আসেন আমতলায়, অমান্য করেন ১৪৪ ধারা।

বিজ্ঞাপন

চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাতকারে দু’জনেই জানিয়েছেন ভাষা আন্দোলনের সেইসব স্বর্ণালি দিনের কথা। পাঠকদের জন্য শেয়ার করেছেন তাদের ব্যক্তিগত ও কর্মজীবনের স্মৃতি।

চ্যানেল আই অনলাইন: আপনাদের দু’জনের মধ্যে অদ্ভূত কিছু মিল রয়েছে। দু’জনেই ভাষা সংগ্রামী এবং একুশে পদক পেয়েছেন, আবার শিক্ষাজীবনে একই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ একই এলাকার মানুষ আপনারা, আপনাদের জীবন ও ভাষা সংগ্রামের গল্পটা শুনতে চাই।

কাজী এবাদুল হক:  হ্যাঁ, ঠিক। আমার জন্ম  ১৯৩৬ সালের জানুয়ারি এবং ড. শরিফা খাতুনের জন্ম  ১৯৩৬ সালের ডিসেম্বরে। আমার পড়ালেখার শুরু হয়  ফেনীতে। আইএ পাস করার পর ঢাকা কলেজে ভর্তি হই। কিন্তু ঢাকায় পড়াশোনা নিয়মিত করতে না পেরে ফেনীতে ফিরে যাই। ১৯৫৫ সালে ফেনী কলেজ থেকে বিএ পাস করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ালেখা শুরু করি। আমি ছিলাম আইনে। তিনি ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে। একই এলাকায় বাড়ি এবং একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করলেও তার সাথে আমার পূর্ব পরিচয় ছিলো না।  তবে তার এক সহপাঠি ছিলো আব্দুর রব। তার সাথে আমার পরিচয় ছিলো। আমি যখন ফেনী কোর্টে আইন পেশা শুরু করি, তখন সে ফেনী গার্লস স্কুলের হেড মিস্ট্রেস। আমাদের পরিচয়ের মধ্যে বিয়ে হয়নি। বিয়ে হয়েছে পারিবারিকভাবে।  এইতো।

অধ্যাপক শরিফা খাতুন: আমাদের অভিজ্ঞতা ভালো ছিলো। তিনি যেমনটা বলছিলেন যে, আমাদের পূর্ব পরিচয়, দেখা-সাক্ষাৎ হয়নি। সেই সুযোগও ছিলো না। আমাদের পরিচয়-পরিণয় সবকিছূ পারিবারিক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়। কাজী আব্দুল হক, কাজী মমতাজ উদ্দীন, আব্দুল গফুর আমার প্রমুখ জ্যাঠা, চাচাত শ্বশুর; এনারাই আমাদের বিয়ে দেওয়ার জন্য সবকিছু ঠিকঠাক করেন। এভাবেই তো জীবন চলা শুরু। বহু বছর একসাথে কেটে গেল!

চ্যানেল আই অনলাইন: সেই ১৯৩৬ সাল থেকে শুরু করে, আজ ২০১৭ সাল। জীবনের এতোটা বছর কেটে গেল। তখনকার  আর এখনকার সময়কে কিভাবে মূল্যায়ন করেন?

কাজী এবাদুল হক: সময়ের সাথে সাথে মানুষের জীবনাচরণ, ব্যবহার, পরিবেশ অনেক কিছুই পরিবর্তন হয়ে যায়। এক্ষেত্রে একটি স্মৃতি খুব মনে পড়ে। আমার বিয়ে হলো। শহরে থাকতাম। আমার বাবা-মা এবং তার বাবা-মা থাকতো গ্রামে। একদিন গ্রামে আমরা একসাথে রিক্সা  করে যাচ্ছিলাম। তখন রিক্সার চারিদিকে পর্দা ঢেকে দেওয়া হয়।  রাস্তা দিয়ে এভাব একসাথে বাড়ি যাচ্ছিলাম। সে কথা মনে পড়লে খুব মজা পাই এখনো। ঢাকা কলেজে পড়ার সময় আমি দেখেছি মেয়েরা বোরখা পরে পর্দায় ঢাকা ঘোড়ার গাড়ি করে ক্লাসে আসতো।  ইডেন কলেজে কোন ল্যাবরেটরি ছিলো না। তাই বিজ্ঞানের ছাত্রীরা ঢাকা কলেজে ল্যাবে করতো। ঘোড়ার গাড়িতে পর্দা ঢেকে দেওয়া হতো। সব জানালা বন্ধ থাকতো। এইবার বুঝুন। এতো বছর পর পৃথিবীর কী পরিবর্তন!

অধ্যাপক শরিফা খাতুন: সম্পূর্ণ বদলে যাচ্ছে পৃথিবী, দেশ এবং সমাজ-সংস্কৃতি। অনেক বেশি বদলে যাচ্ছে! এই বদলে যাওয়া দেখছি চোখের সামনেই। বদলে যাওয়াই তো নিয়ম। আমি পড়তাম মানবিক  বিভাগে। তাই ঢাকা কলেজে যেতে হতো না। আমি ইডেনেই ক্লাস করতাম। আমাদের মধ্যে অনেকেই বোরখা পরতো না। নিজের মতো থাকতো।

চ্যানেল আই অনলাইনআপনাদের যখন কলেজ জীবন। তখন ভাষা আন্দোলন চলছে। সেই সময়কার আপনাদের অভিজ্ঞতা কেমন ছিলো?

কাজী এবাদুল হক: ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস সবারই জানা। আমি তখন ঢাকা কলেজ থেকে ফেনী চলে যাই।  একুশে ফেব্রুয়ারির ছাত্র ধর্মঘট ফেনীতেও  খুব ভালোভাবে পালিত হয়। ফেনী হাইস্কুল এবং কলেজ পাশাপাশি। কলেজের ছাত্ররাই নেতৃত্ব দিতেন। তার মধ্যে অন্যতম ছিলেন  এবিএম মুসা, কুব্বাত আহমেদ, শান্তি সুর, সিদ্দিক উল্লাহ , খলিল উল্লাহ প্রমুখ ছাত্রনেতারা। সেটি ১৯৪৮ সালে। এই সময় কিন্তু আন্দোলন কম হয়নি। তবে তা ছাত্রদের মধ্যে সীমিত ছিলো।  ছাত্ররাই মিছিল, সভা করেছে, জোরদার আন্দোলন হয়েছে। ১৯৫২ সালে যে আন্দোলন শুরু হয় তা জোরদার ছিলো বেশি। একুশে ফেব্রুয়ারি ফেনীতে সাধারণ ধর্মঘট পালিত হয়। তখন নেতৃত্বে ছিলেন জননেতা খাজা আহমদ, ড. তোফাজ্জল। কলেজের ছাত্রদের মধ্যে ছিলেন আমাদের কলেজের জেনারেল সেক্রেটারি জিয়াউদ্দীন আহমেদ। আমি ছিলাম সাহিত্য সম্পাদক।  ফরমান উল্লাহ খান, আবুল কাসেম, আমির হোসেন, অপর একজন সিদ্দিক উল্লাহ, মোশাররফ হোসেন সহ অনেকেই ছিলেন। এরা মূলত ৫২ এর একুশে ফেব্রুয়ারির সাধারণ  ধর্মঘট আয়োজন করেন। তখন যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো ছিলো না। সন্ধ্যার পর ফেনীতে খবর আসে ঢাকাতে গোলাগুলি হয়েছে। কয়েকজন হতাহত হয়েছেন। এই খবর আসা মাত্র ছাত্ররা হোস্টেল থেকে মিছিল নিয়ে বেরিয়ে পড়ে। শহরের জনগণও অংশগ্রহণ করে। শহরের বিভিন্ন বাসা ও মেসের ছাত্ররা অংশগ্রহণ করে। এই আন্দোলন বেশ কয়েকদিন  ধরে চলে।  আমরা কমিটির পক্ষ থেকে ফেনী  শহরের বাইরের যতো স্কুল ছিলো একেকজন একেক স্কুলে গিয়ে ছাত্রদের সংগঠিত করি। খাজা আহমেদসহ আমরা কয়েকজন জীপ ভাড়া করে ফেনী থেকে চৌমুহনিতে চলে গেলাম। চৌমুহনি কলেজের ছাত্ররা আমাদের স্বাগত জানায়। তাদের মধ্যে একজন ছাত্রনেতা ছিলেন ফজলুল করিম। পরবর্তীতে সাংবাদিকতা করতেন। আরেকজন ছিলেন রইসুদ্দিন আহমেদ। চৌমুহনী কলেজের শিক্ষার্থীরা আমাদেরকে বেশ ভালোভাবে আপ্যায়ন করেছিল।

চ্যানেল আই অনলাইন: স্যার (কাজী এবাদুল হক) যখন ফেনীতে ভাষা আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তখন আপনি (অধ্যাপক শরিফা খাতুন) ঢাকায়। ইডেন গার্লস কলেজের হোস্টেলে থাকতেন। ভাষা আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্রে থেকে আপনি সেই ঐতিহাসিক সংগ্রাম সরাসরি প্রত্যক্ষ করেছেন। আপনার সেই অংশগ্রহণ এবং অভিজ্ঞতা কেমন ছিলো?

অধ্যাপক শরিফা খাতুন: ১৯৪৮ সাল ছিলো ভাষা আন্দোলনের সূচনার সময়। আমি  তখন নোয়াখালীর উমা গার্লস হাইস্কুলে পড়ছিলাম। মার্চ মাসে  ধর্মঘট হয়েছিল। তখন আমাদের স্কুলের ছাত্রীরা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতির দাবিতে মিছিল-স্লোগান করে। আমি প্রথম সেখানে অংশগ্রহণ করি।

চ্যানেল আই অনলাইন: ইডেন কলেজে ভর্তির পরই তো মূলত ভাষা আন্দোলনে আপনার প্রত্যক্ষ যোগদান শুরু হয়….

অধ্যাপক শরিফা খাতুন: হ্যাঁ, ১৯৫১ সালে আমি ইডেনে ভর্তি হই। দিনগুলো চলে যাচ্ছিল। ১৯৫২ সালের ২৬ জানুয়ারি খাজা নাজিম উদ্দীন ঢাকায় এলেন। তিনি ঘোষণা দিলেন ‘উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা’। এই ঘোষণার পর ছাত্রসমাজ প্রতিবাদে ফেটে পড়ে। এই খবর আমাদের কলেজে এসে পৌঁছে। পরদিন আমরা মিছিল বের করি। কলেজ থেকে মিছিল নিয়ে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে যাই।

চ্যানেল আই অনলাইন: আপনারাতো অনেকের সঙ্গে ওই সংগ্রামে মিছিল-মিটিংয়ে যেতেন, সেসব স্মৃতি কী মনে পড়ে?

অধ্যাপক শরিফা খাতুন: অনেকেই ছিলেন। আমাদের কলেজের জিএস ছিলেন রওশন আরা। নেত্রীদের মধ্যে ছিলেন মনোয়ারা বেগম, জেবুন্নেসা বেগম, হেনা, এরাই ইডেন কলেজে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে মিছিল, মিটিংয়ে নেতৃত্ব দিতো।  ইডেন কলেজের ক্যাম্পাসে একটি লিচু গাছ ছিলো। সেখানে দাড়িয়ে আমরা সভা-সমাবেশ, মিছিল-মিটিং করতাম। ৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় মিটিং হয়।  জিএস’র নেতৃত্বে আমরা মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করি। সেখানে সিদ্ধান্ত হয় একুশে ফেব্রুয়ারি সারা দেশে ছাত্র ধর্মঘট পালন করা হবে। আমাদের দায়িত্ব দেওয়া হয় পোস্টার, ব্যাজ ইত্যাদি করা এবং সেগুলো প্রচার করার দায়িত্ব দেওয়া হয়। আমাদের কাজ ছিলো বিভিন্ন স্কুলে স্কুলে গিয়ে ভাষা আন্দোলনের পক্ষে সচেতনতা তৈরি করা। আমরা কয়েকজন মিলে মুসলিম গার্লস স্কুলে গিয়েছি যেন তারা একুশে ফেব্রুয়ারির ধর্মঘটে আসে। কারো মনের তাগিদে, আবেগ নিয়ে একনিষ্ঠ হয়ে কাজ করছিলাম। রাষ্ট্রভাষা দাবি ছিলো আমাদের প্রাণের দাবি।

চ্যানেল আই অনলাইন: ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারী  আপনাকে কতোটা ঝুঁকি নিয়ে অংশগ্রহণ করতে হয়েছিল?

অধ্যাপক শরিফা খাতুন: পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ২১ ফেব্রুয়ারি ধর্মঘটের জন্য অপেক্ষায় থাকি আমরা। দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট পালিত হবে। তার মধ্যে ২০ তারিখে হঠাৎ ঘোড়ার গাড়িতে করে মাইকিং করা হয়। ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। কোন মিছিল, মিটিং, সভা করা যাবে না। সাধারণত আমরা মেয়েরা  সহজে কোথাও যেতে পারতাম না। তারপর  ১৪৪ ধারা! আমরা ভয় পেয়ে গেলাম। পরদিনের জন্য আমরা উদ্বীগ্ন। এরই মধ্যে খবর পেলাম ফজলুল হক হলে ছাত্রনেতারা মিটিংকরেছেনে এবং ২১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ধর্মঘট পালন করার সিদ্ধান্ত হয়।  আমাদের সবাইকে উপস্থিত থাকার জন্য খবর পাঠানো হয়।  আমরা সে মতো প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। সকালে ব্যানার এবং কালো ব্যাজ পরে গেইটে এসে দেখি তালা দেয়া হয়েছে। তখন আমরা দেয়াল টপকে মিছিলে উপস্থিত হই। আমরা ছিলাম ২০-৩০ জন।  আমতলায়  গিয়ে দেখি ডায়াসে বসে আছেন গাজিউল হক, কামরুদ্দিন শহিদ , আব্দুল মতিনসহ অনেক ছাত্রনেতা। আলোচনা হলো। ১৪৪ ধারা ভাঙার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কৌশল হিসেবে মিছিলের প্রথম সারিতে মেয়েদের থাকতে বলা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা সামনে অগ্রসর হচ্ছি। এমন সময় শুরু হয় ঢিল ছোড়াছুড়ি, পুলিশের লাঠিচার্জ। টিয়ারশেল ছুটলো পুলিশ। চোখ-মুখ অন্ধকার হয়ে গেল আমাদের! এরপর গোলাগুলি আরম্ভ হয়। একটু পরই সবাই ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। আমাদের মধ্যে তীব্র উৎকণ্ঠা। কি জানি কি হয়ে গেল! ছাত্রীদের সংখ্যা আমরা সম্ভবত ১শ জনের মতো। আমরা একপাশে গিয়ে আশ্রয় নিই। এর মধ্যে কয়েকজন ছাত্রনেতা এসে আমাদেরকে মেডিকেল কলেজের দেয়াল ভেঙে ইডেনে চলে যেতে সহযোগিতা করেন। আমরা তখনো জানি না যে, গোলাগুলিতে কী অবস্থা হয়েছে। সন্ধ্যায় খবর পাই, অনেকে আহত হয়েছেন। কয়েকজন মারা গেছেন। পুলিশ কিছু লাশ গায়েব করেছে বলে খবর আসে। সন্ধ্যায় আমরা কলেজের সুপার আরবির অধ্যাপক হালিমা খাতুন সহ মেডিকেল কলেজে ।  মেডিকেলে এসে দেখি ভয়াবহ অবস্থা। কেউ রক্তাক্ত, কেউ তীব্র যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন! মেডিকেলের শিক্ষার্থীরা তাদের সেবাযত্ন করছেন। আমরাও তাদের কিছুটা সেবাযত্ন করার চেষ্টা করলাম।

পরদিন মিছিল হলো। আমরা মিছিল করলাম। ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে প্রথম শহীদ মিনার হয়। রাতে সেখানে গেলাম। খালি পায়ে, সাদা শাড়ি পরে ফুল নিয়ে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানালাম। পরদিন শহীদ মিনার ভেঙে ফেলল! বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হলো। আমাদেরকে হোস্টেল থেকে ট্রেন করে যার যার বাড়ি চলে যাবার জন্য তুলে দেওয়া হলো।

বিজ্ঞাপন

চ্যানেল আই অনলাইন: এরপরের ঘটনাতো বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতির পালা। ১৯৫৬ সালে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে বলুন।

কাজী এবাদুল হক: এ বিষয়ে আমি একটু বলি। আমি বলেছি যে ভাষা আন্দোলন ১৯৪৮ সালে আরম্ভ হয়। মার্চে জিন্নাহর ঢাকায় আসার কথা। ১১ মার্চ ছাত্ররা সেক্রেটারিয়েট ঘেরাও করতে গেলে পুলিশি নির্যাতন শুরু হয়। তখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ অনেকেই আহত হয়েছেন এবং গ্রেপ্তার করা হয়। তখন প্রধানমন্ত্রী নাজিমুদ্দিন ভয় পেয়ে গেলেন যে, এই আন্দোলন যদি চলতে থাকে তাহলে তো জিন্নাহ সাহেবের কাছে মুখ দেখানো যাবে না। তখন তিনি ছাত্র নেতাদের ডাকলেন। আলাপ হলো, চুক্তি হলো। চুক্তি অনুযায়ী পূর্ব বাংলার সকল স্কুল-কলেজ, অফিস আদালত সহ সর্বত্র বাংলা চালু থাকবে। আর পূর্ব বাংলার সরকারি ভাষা হবে বাংলা। পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা বাংলা করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে সুপারিশ করা হবে।

২৬ জানুয়ারি, ১৯৫২ সালে খাজা নাজিমউদ্দীন ঢাকায় এলেন। তিনি জিন্নাহর কথার পুনরাবৃত্তি করলেন-‘উর্দু এবং উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্র’। জনতা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। এর মধ্যে অনেক ঘটনা ঘটে। সেদিকে আর না যাই। মূলত ধরপাকড় করে হয়তো মানুষের মধ্যে বাধার সৃষ্টি করা হয়। কিন্তু সারাদেশে মানুষের মধ্যে যে বিক্ষোভ জমে ছিলো তা বিস্ফোরিত হলো ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে। যুক্তফ্রন্‌ট নির্বাচনে ইশতেহারে ছিলো- বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠার কথা, একুশে ফেব্রুয়ারিকে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা এবং বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার কথা। যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা  পেল। এর মধ্যে পাকিস্তান গণপরিষদ ভেঙে যায়। তখন পাকিস্তান ফেডারেল কোর্ট থেকে নির্দেশ দেওয়া হলো যে, পূর্ব পাকিস্তান আইন পরিষদের এবং পশ্চিম পাকিস্তানের সীমান্ত প্রদেশ থেকে নতুন করে গণপরিষদ গঠন করা হবে। সে অনুযায়ী কাজ হলো। সেই গণপরিষদে অনেকটা বাঙালি সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিলো। পরবর্তীতে ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের সংবিধান প্রণীত হলে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেওয়া হয়। বাংলা ভাষার প্রথম স্বীকৃতির এই হলো ইতিহাস।

চ্যানেল আই অনলাইন: আপনি (এবাদুল হক) ২০১৬ সালে একুশে পদক পেয়েছেন। আর তার ঠিক এক বছর পর ২০১৭ সালে একুশে পদক লাভ করলেন আপনার স্ত্রী। সম্ভবত ভাষা সৈনিক হিসেবে একুশে পদক প্রাপ্ত একমাত্র দম্পতি আপনারা। দারুণ অনুভূতিকে কিভাবে মূল্যায়ন করবেন?

বিচারপতি এবাদুল হক:  আমাদের বিয়ে, আমাদের একসঙ্গে চলাফেরা, বিয়ের পরবর্তী জীবন, ওনার রাষ্ট্রভাষা সংগ্রামে অংশগ্রহণ এবং আমার অংশগ্রহণ। এগুলো সবই কাকতালীয় ব্যাপার। একেবারেই কাকতালীয়। বিয়েটা পারিবারিকভাবে হয়েছে তা আগেই বলেছি। আমাদের কোন পূর্ব পরিচয় ছিলো না। তারপর আমি রাষ্ট্রভাষা সংগ্রামে ফেনী থেকে অংশগ্রহণ করি।  তিনিও অংশগ্রহণ  করেছেন। সবচেয়ে বড় কাকতালীয় ব্যাপার হলো একুশে পদক পাওয়া। বহু লোক ভাষা আন্দোলন করেছেন। কেউ পেয়েছেন, কেউ পায়নি। এবার তো শুধু একজন ভাষা সৈনিককে দেওয়া হয়েছে। এখনও কতিপয় ভাষা সৈনিক বেঁচে আছেন। এদের মধ্যে অনেকে পায়নি। কাজেই এটি একেবারেই কাকতালীয় একারণে বলছি যে, সরকার কাকে দেবে কাকে দেবে না, এটি তাদের ব্যাপার। কাকে যোগ্য মনে করেছে সেটি সরকার বুঝবেন।  আমার ক্ষেত্রে হয়তো, আমার মাধ্যমে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে প্রথম বাংলায় রায় দেওয়া হয়েছিল বলে বেশি প্রাধান্য পেয়েছিল।

অধ্যাপক শরিফা খাতুন: সত্যি অন্যরকম লাগছে। আমি আশাও করিনি। ভাষার জন্য যখন সংগ্রাম করেছিলাম তখন আমাদের কোন লক্ষ্য ছিলো না যে আমরা কিছু পাবো, কোন স্বীকৃতি লাভ করবো। আমাদের প্রাণের দাবি ছিলো বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা। তখন আমরা তরুণ বয়সে সংগ্রামে অংশ গ্রহণ করেছি। কারো চাপে নয়। নিজের আবেগ থেকে, স্বেচ্ছায় অংশগ্রহণ করেছি। পরবর্তীতে পাকিস্তান আমলেই বাংলা ভাষা স্বীকৃতি পেয়েছে। আমরা গৌরবান্বিত যে আমাদের ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এইসময় আমি ভাবিনি কোন পদক পাবো। পদক পাওয়ার খবর শুনার পর আমার সে রাতে ঘুম হয়নি । তখন চোখের সামনে বারবার ১৯৫২ সাল ফিরে আসছিল।

তাঁর ২০১৬ সালে একুশে পদক পাওয়ার মাত্র এক বছর পর আমি পেলাম। সরকার একুশে পদকের জন্য যোগ্য মনে করেছেন আমাকে। আনন্দ হলো বেশ। আবেগ-অনুভূতি সবই কাজ করলো। সরকার ভাষা সংগ্রামীদের সম্মান দেয়ার জন্য সচেষ্টা আছে এটি প্রমাণিত।

চ্যানেল আই অনলাইন: বাংলা রাষ্ট্রভাষা হয়েছে, আদালতের রায় রয়েছে বাংলা ভাষার ব্যবহারের জন্য। কিন্তু এখনো তো সবক্ষেত্রে বাংলায় রায় দেওয়া হচ্ছে না?

কাজী এবাদুল হক: কেউ কেউ দিচ্ছেন, কেউ কেউ দিচ্ছেন না। আমাদের অনেক নিয়ম আছে। বাস্তবায়ন নেই। এই বিষয়টি  মন থেকে আসতে হবে। সংবিধানে তো আছে রাষ্ট্রভাষা বাংলা। বাংলা ভাষা প্রচলন আইনে বলা হয়েছে, বিদেশের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যতিত কোর্ট-কাচারি, অফিস-আদালত সর্বত্র, বাংলা ব্যবহার করতে হবে।

চ্যানেল আই অনলাইন:  এফএম রেডিওগুলোতে বাংলা-ইংরেজি কিভাবে ব্যবহার করা হয় তা সম্ভবত শুনেছেন। ভাষার এমন অপব্যবহার দেখে ভাষা সৈনিক হিসেবে আপনাদের নিশ্চিয় অনেক কষ্ট হয়!

কাজী এবাদুল হক: আসলে এবিষয়ে অনেকের কাছে সমালোচনা শুনি। আমি এতো রেডিও শুনি না।  শুনতে খারাপ লাগে এসব! যখন ব্রিটিশ আমল ছিলো তখনো বাংলার সাথে ভাঙা ভাঙা ইংরেজি বলার চেষ্টা করা হতো। এর কারণ আমার মনে হতো, আমাদের যে প্রভু ছিলো ইংরেজ তাদেরকে তুষ্ট করা। তাদের ভাষা যে আমরা জানি তাতে গর্ববোধ করা এবং তাদের দেখানো। এটাকে আমি বলি, দাস্যভাব বা দাস্য মনোভাব। এই দাস্য মনোভাব এখনো প্রচলিত আছে। এখনো আমরা ইংরেজি-বাংলা মিলে ফেলছি। ফটফট করে ইংরেজি বলছে! ভালো উচ্চারণ না, ভালো ইংরেজিও না। ভাঙা ভাঙা ইংরেজি। আমরা তো ভালো ইংরেজি জানি। আমরা তো বিদেশিদের ছাড়া কারো সাথে ইংরেজি বলি না।

অধ্যাপক শরিফা খাতুন: বেতারে অনেক সময় অনুষ্ঠান হয়। তারা আমাকে শুরুতে বলে রাখে যে, এই ভাষাটা নাকি একটু জগাখিচুড়ী ভাষা। এটি মানসম্মত প্রমিত কোন ভাষা নয়। তারা আমার মতামত জানতে চায়। আমি বলি, ভাষা তার নিজ গতিতে চলবে। আমার ভাষা একরকম হবে। রিক্সা চালকের ভাষা এক রকম হবে। সবকিছু তো নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। আমরা সবসময় যেটি বলি প্রমিত বাংলা না। চলিত, কথ্য মিলিয়ে আমরা কথা বলি। কিন্তু সব ভালো কাজে প্রমিত ভাষা ব্যবহার করতে হবে। রেডিও থেকে বিভিন্ন জায়গায় যে ভাষা ব্যবহৃত হচ্ছে তা ভালো ভাষা নয়। আমরা লেখাপড়া, বই লেখা, গবেষণা থেকে শুরু করে প্রমিত ভাষা ব্যবহার করবো। ভাষার উপর কারো কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। ভাষা তার গতিতে চলছে। মানুষের পরিবেশ, প্রয়োজন অনুসারী তারা জগাখিচুড়ি করে ফেলছে। আর যারা সত্যিকার বাংলা চর্চা করছেন, তারা প্রমিত ভাষা ব্যবহার করছেন। ভাষা স্থায়ী কিছু নয়। এটি প্রবাহমান। পঞ্চাশ বছর পর  আমাদের বাংলা ভাষা যে এমনই  থাকবে তা  আমরা বলতে পারি না। কাজেই ভাষা নিয়ে চিন্তা করার কোন কারণ নেই। খারাপ ভাষা, ভালো ভাষার সংগ্রামে ভালো ভাষাই জিতবে, টিকবে। প্রমিত ভাষাই চালু থাকতে। এই আমার আশা।

চ্যানেল আই অনলাইন: বিদগ্ধ মানুষ আপনারা। আপনাদের দেখেই বর্তমান তরুণ প্রজন্ম শিখবে, নিজেদের আদর্শিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে। তরুণ প্রজন্মের জন্য আপনাদের পরামর্শ বা উপদেশ কী থাকবে?

অধ্যাপক শরিফা খাতুন: আমরা যখন তরুণ ছিলাম তখন বুঝি নি যে কী করবো। তবে এটি বুঝেছিলাম, বাবা টাকা খরচ করে হোস্টেলে রাখছেন। পড়ালেখা করাচ্ছেন। ভালোভাবে পড়ালেখা করতে হবে।  আমি যখন ইডেনের হোস্টেলে থাকতাম। বাবার ইচ্ছা ছিলো পড়ালেখা করেছি এবং এটুকু এগিয়ে এসেছি। আমাদের সেই পরিবেশের চেয়ে এখন অনেক বেশি উন্নত, অনেক এগিয়েছে সবকিছু। এখনকার ছেলে মেয়েরা আমাদের চেয়ে অনেক বেশি বুদ্ধিমান। দুনিয়া সম্পর্কে অনেক  জানে। তারা যেন নিজের বুদ্ধি বিবেচনাকে প্রয়োগ করে শিক্ষার মাধ্যমে তাদের জীবনধারাকে গঠন করে। তাছাড়া তাদের ভেতরে যেন মানবিক গুনাবলীর বিকাশ  হয়। মানুষকে ভালোবাসে, সহযোগিতা করে এবং বিশ্ব সমাজে যেন তারা প্রতিনিধিত্ব করতে পারে সেই যোগ্যতা অর্জন করবে। মননশীল দৃষ্টিভঙ্গী যেন তাদের ভেতরে জাগ্রত হয়, সেই প্রত্যাশা করছি।

কাজী এবাদুল হক: পরামর্শ বা উপদেশ প্রদানের আগে আর একটি কথা বলি। পদক পাওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করতে চাই। যখন আন্দোলন হয়েছে তখন আমরা জনগণের কল্যাণের জন্য নিজের আবেগের বশে সংগ্রাম করেছি। তার জন্য আমাদের বন্ধুবান্ধরা অনেকে জেলে গেছেন। আমরা অনেকে পলাতক থেকেছি। পড়ালেখা বন্ধ থেকেছে। পদক পাবো তা কখনো ভাবিনি। সবসময় বলা হয়ে থাকে বাংলা ভাষা আন্দোলন থেকে স্বাধীনতা আন্দোলনের সূচনা হয়েছে। কথাটি সঠিক। কারণ আমাদের যে স্বাতন্ত্র্যবোধ তা জাগ্রত হয়েছিল ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে। তার ফলেই আমরা স্বাধীন হতে পেরেছি।

আইন পেশায় আমার দীর্ঘ কয়েক বছরের অভিজ্ঞতা। এগার বছর বিচারপতি ছিলাম। এই সুবাধে আমার দেশের ধনী দরিদ্র শিক্ষিত, অশিক্ষিত নানা ধরণের মানুষের সংস্পর্শে আসার সুযোগ হয়েছে। আমাদের দেশের বেশিরভাগ লোকের দৃষ্টিভঙ্গী  অত্যন্ত সংকীর্ণ। তারা চোখের সামনে বাইরে দেখতে পায়না।

আসলে দেশকে উন্নত করতে হলে দেশের মানুষকে বৃহত্তর জনকল্যাণের কথা ভাবতে হবে এবং ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করতে হবে। অল্প কিছু ছাত্র ব্যতিত বেশির ভাগ ছাত্রের উদ্দেশ্য হচ্ছে যেনতেন প্রকারে পরীক্ষায় পাস করা, একটি সার্টিফিকেট লাভ করা। জ্ঞান অর্জন বা শিক্ষা অর্জন নয়। এই সব সংকীর্ণতা পরিহার করে তরুণ সমাজ এগিয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা করি এবং যে সকল দুর্বলতা আমাদের মধ্যে আছে এগুলো থেকে তারা মুক্ত হতে পারবে বলে আশা করি।

চ্যানেল আই অনলাইন: এই যে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান, আগামী ৫ বা দশ বছর পর দেশ কোন দিকে যাবে বলে মনে করছেন?

কাজী এবাদুল হক: আমি সবসময় আশাবাদী। অবস্থা ভালো হবে আশা করছি। তবে একটি কথা বলি। সরকারের যে শিক্ষা বিস্তার নীতি, তার বিপরীতে শিক্ষাকে  গুণগত মানে উন্নত করার ইচ্ছা কম। বিস্তৃতি বেশ হয়েছে। এখন গুণগত মান উন্নত করতে হবে। না হলে আমরা জাতি হিসেবে বাইরের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবো না।

চ্যানেল আই অনলাইন: আপনাদের দীর্ঘায়ু এবং সুস্থতা প্রত্যাশা করছি। চ্যানেল আইকে দীর্ঘ সময় প্রদানের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা এবং ধন্যবাদ।

ছবি: তানভীর আশিক

Bellow Post-Green View