চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

একাদশ জাতীয় সংসদের পঞ্চদশ অধিবেশন সমাপ্ত

একাদশ জাতীয় সংসদের পঞ্চদশ অধিবেশন আজ সমাপ্ত হয়েছে। রাষ্ট্রপতি  মো. আবদুল হামিদের অধিবেশন সমাপ্তি সংক্রান্ত আদেশ পাঠ করার মাধ্যমে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী এ সমাপ্তির ঘোষণা করেন।

এর আগে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমাপনি ভাষণ দেন। এছাড়া, সংসদে বিরোধীদলের উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের বক্তৃতা দেন।

আজ সংসদে ‘৭০ এর নির্বাচনে জয় লাভের পর ’৭১ এর ৩ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর দেয়া ভাষণের অডিও ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। এবারের অধিবেশন গত ১৪ নভেম্বর শুরু হয়ে ৯ কার্যদিবস পর্যন্ত চলে।

এ অধিবেশনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। এই অধিবেশনে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে বিশেষ আলোচনায় রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণদান করেন। প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা  কার্যপ্রণালী-বিধির ১৪৭ বিধির আওতায় প্রস্তাব (সাধারণ) উত্থাপন করেন। পরবর্তীতে এর ওপর প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় উপনেতা, চিফ হুইপসহ  সংসদ-সদস্যগণ আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। আলোচনায় ৫৯ জন সংসদ সদস্য অংশগ্রহণ করেন এবং মোট ১৪ ঘন্টা ৪৮ মিনিট আলোচনা হয়।

এছাড়া, এ অধিবেশনে সৃজনশীল অর্থনীতিতে অবদানের জন্য ইউনেস্কো থেকে বঙ্গবন্ধু পুরস্কার প্রবর্তন এবং প্রদান করায় ১৪৭ বিধিতে সংসদে সাধারণ আলোচনা শেষে ধন্যবাদ প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।

এ অধিবেশনে মোট ৯টি সরকারি বিল পাস হয়। আইন প্রণয়ন সম্পর্কিত কাজ সম্পাদনের পাশাপাশি কার্যপ্রণালী-বিধির ৭১ বিধিতে ৪২ টি নোটিশ পাওয়া গিয়েছে। ৭১ (ক) বিধিতে দুই মিনিটের আলোচিত নোটিশের সংখ্যা ৪২টি। প্রধানমন্ত্রীর উত্তর দানের জন্য সর্বমোট ৪১ টি প্রশ্ন পাওয়া যায়, তারমধ্যে তিনি ১০ টি প্রশ্নের উত্তর দেন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের উত্তরদানের জন্য প্রাপ্ত মোট ১ হাজার ১২টি প্রশ্নের মধ্যে মন্ত্রীগণ ৫৬৬টি প্রশ্নের জবাব দেন। এছাড়া, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীবর্গ সমসাময়িক গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে বিবৃতি প্রদান করেন।

অধিবশন সমাপ্ত সংক্রান্ত রাষ্ট্রপতির ঘোষণার পাঠের আগে স্পিকার মুজিববর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী যুগপৎ উদযাপনের এ মাহেন্দ্রক্ষণে বিজয়ের মাস ডিসেম্বরের প্রাক্কালে সংসদ সদস্যদের  আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলন, ‘ইতিহাসের এই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে প্রথমেই আমি পরম শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে যার নেতৃত্বে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। সেইসাথে ৩০ লক্ষ শহিদ এবং দু’লক্ষ মা-বোনের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা।’

‘ডিজিটাল বাংলাদেশ আজ কোন স্বপ্ন নয়। আজকের বাংলাদেশ তরুণদের অপার সম্ভাবনার বাংলাদেশ। ‘উন্নয়নের বিস্ময়’ থেকে ‘বাংলাদেশ মডেল’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এই প্রাপ্তি নিয়েই এবার জাতি স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করেছে। বিজয় অর্জনের পর ৫০ বছরের পথচলায় দুর্দান্ত গতিতে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। একাত্তরে স্বাধীনতার মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আমরা একটি স্বতন্ত্র দেশ পেয়েছি, আর তাঁরই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গড়ে তুলতে চলেছি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’।

স্পিকার বলেন, ‘বাংলাদেশের সংবিধান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অনন্য উপহার। বঙ্গবন্ধুর  নেতৃত্বে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুর্নগঠনের পাশাপাশি অল্প সময়ের মধ্যে বিশ্বনন্দিত ও অনন্য সংবিধান প্রণয়ন ও সফলভাবে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে থাকবে। দীর্ঘ রক্তাক্ত সংগ্রামের পর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে।

স্বাধীনতা লাভের সূচনালগ্নে ১৯৭২ সালের ১৪ এপ্রিল নির্বাচিত গণপরিষদে গৃহীত হয় বাংলাদেশের সংবিধান আর ’৭২ সালের সাময়িক সাংবিধানিক আদেশবলে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হয় সংসদীয় গণতন্ত্র। রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর স্বাধীনতা লাভের সূচনাতেই সংবিধান ও সংসদীয় গণতন্ত্র লাভের এরূপ দৃষ্টান্ত পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। বাংলাদেশের ’৭২-এর সংবিধানকে অত্যন্ত যুগোপযোগী এবং শ্রেষ্ঠ সংবিধানসমূহের একটি বলে আখ্যায়িত করা হয়। এ সংবিধানের মূল বক্তব্যই হচ্ছে সংসদীয় গণতন্ত্র। জনগণের সঠিক ইচ্ছার প্রতিফলনই হচ্ছে সরকারি ও বিরোধী দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ফসল।

তিনি সংসদ অধিবেশন পরিচালনায় সহযোগিতা প্রদানের জন্য সকল সংসদ সদস্যকে সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
তিনি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রীকে যিনি সার্বক্ষণিক সংসদ পরিচালনায় সহযোগিতা প্রদান করেছেন। তিনি সংসদ উপনেতা, মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, চিফ হুইপ ও হুইপবৃন্দের  প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি বিরোধীদলীয় নেতা ও বিরোধীদলীয় উপনেতার প্রতি সংসদ কার্যক্রমে সহযোগিতার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি তার সহকর্মী ডেপুটি স্পিকার ও সভাপতিমন্ডলীর সদস্যবৃন্দকে তাঁদের সহযোগিতা ও পরামর্শের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।

এছাড়া, তিনি সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, গণপূর্ত, বিদ্যুৎ ও টেলিফোন বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সকল সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিবর্গকে ধন্যবাদ জানান। জাতীয় দৈনিক পত্রিকা, বিভিন্ন সংবাদ সংস্থা, বাংলাদেশ বেতার, সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলসহ দেশের সকল গণমাধ্যমের সাংবাদিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারিবৃন্দের প্রতি  আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

বিজ্ঞাপন