চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ
Partex Cable

একদিনে সুন্দরবন দেখা!

Nagod
Bkash July

হঠাৎ করেই প্ল্যান খুলনা যাবার। যেই কথা সেই কাজ। তিনদিন আগেই ট্রেনের টিকিট কনফার্ম করে, যাদের সঙ্গে খুলনায় মিট হবো, তাদের সাথে প্ল্যানিং সেরে ফেললাম। সারাদিন অফিস করে রাতেই রওনা!! ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে খুলনার ট্রেন সন্ধ্যা ৭টায় চিত্রা এক্সপ্রেস। পৌঁছালাম ভোর ৫টায়। 

Reneta June

যা হোক বলছিলাম সুন্দরবন যাবার কথা। দিনটা ছিল ২রা সেপ্টেম্বর। প্ল্যানমতো খুব সকালেই খুলনার নৌঘাটে পৌঁছাই টিমের সবাই। আমাদের টিমে ছিলাম আমিসহ ছয়জন। বাকিরা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ জন শিক্ষক ও তাদের ২ জন শিক্ষার্থী, ১ জন শিক্ষক পত্নী।

খুব সকালে ৭টার আগে রওনা দেই। সব গুছিয়ে ট্রলার ছাড়ে ৭;৩০এ।  খুলনা থেকে সুন্দরবন ট্রলারে নেবে সর্বোচ্চ ৪ হাজার টাকা। সময় লাগে ৪ ঘন্টার মতো। খুব সকাল রওনা দেবার কারন, ঐ সময় জোয়ার থাকে। তাই নির্ধারিত সময় ধরে চলা সম্ভব।

সুন্দরবনের করমজল অংশে পৌঁছাতে বেলা ১২টার বেশি লেগে যায়। পথে আমরা মাঝে মাঝে থেমেছিও। সকালে রূপসা যখন পাড়ি দিচ্ছিলাম ছিল রোদ। আর বর্ষাকাল হওয়ায় মাঝে মাঝে ঝিরিঝিরি বৃষ্টিও পেয়েছি। নৌকার ওপরে কাপড় টাঙ্গানোর ব্যবস্থ্যা করে  নেয়ায় খুব বেশি ঝামেলায় পড়তে হয়নি। কারণ নৌকায় আমাদের দুপুরের জন্য খিচুড়ি,  আচারসহ অন্যান্য আইটেম আর সারাদিনের শুকনা খাবার ছিল।

রূপসা পেরিয়ে পশুর নদী পাড়ি  দেবার শুরুতেই পাই ঝুম বৃষ্টি। পশুরে বৃষ্টিস্নান আর সেই সাথে খিচুড়ি পার্টি কি যে চমৎকার একটা পরিবেশ! আসলে সুন্দরবন যাবার পথে পথে যে বিষয়গুলো আনন্দ দিতে পারে তার সবগুলোই আমরা পেয়েছি। সুন্দরবন পৌঁছাতেই প্রথমেই আমরা বানরের অভিবাদন পাই!! কোনো পর্যটক দেখলে তারা এমনিতেই ছুটে আসে। আর করোনায় পর্যটকশূন্য থাকায় তারা আরও কাছাকাছি আসতে থাকে খাবারের জন্য। বনে দায়িত্বরতদের অনুমতি নিয়ে সাথে একজন গাইড নিয়ে সুন্দরবনের ভেতরটা দেখতে এগুতে থাকি। ওয়াচ টাওয়ারে উঠে চারিদিকে বেশ খানিকক্ষণ চোখ বুলিয়ে নেই। পুরো সময়টা বানর কিন্তু আমাদের পিছু ছাড়ে নি!! তাই সাথে থাকা হ্যান্ডব্যাগকে সবসময় আগলে রাখতে হয়েছে।

সুন্দরবন থেকে আমরা রওনা দেই দুপুর ২টার পরে। যাবার পথে ৪ ঘণ্টা লাগলেও আসার পথে আমাদের সাড়ে ৭ ঘণ্টা লেগে যায়। কারণ, তখন ছিল ভাটা। ভাটার বিপরীতে আসতে প্রায় দ্বিগুণ সময় লেগে যায়। তবে নিরাশ হতে হয়নি আমাদের। পশুর পাড়ি দিয়ে যখন রূপসায় পৌঁছি তখন সন্ধ্যা লেগে যায়। ভরা পূর্ণিমা থাকায় রাতের রূপসা আরও অপরূপ হয়ে ওঠে। আর ফেরার পথে টিম মেম্বারদের সাথে খুনসুটি, স্মৃতিচারণ, গলা ছেড়ে গান তো ছিলোই!! তবে গোধুলীতে চরে নেমে ফটোসেশন আর নদী তীরবর্তী গ্রামের টঙ্গের দোকানে চা খাওয়াটাও আমরা মিস করি নাই!!

BSH
Bellow Post-Green View