চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

একদিনেই ঘুরে আসুন যমুনা পাড়ের ইকোপার্কসহ বিভিন্ন স্থান

সিরাজগঞ্জে বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতুর কোল ঘেঁষে প্রায় ৬০০ একর জায়গার ওপরে গড়ে উঠেছে প্রাকৃতিক-নৈসর্গিক সৌন্দর্যমণ্ডিত বঙ্গবন্ধু যমুনা ইকোপার্ক।

যা সিরাজগঞ্জ জেলাসহ উত্তরবঙ্গের বিনোদনপ্রেমীদের একটি অন্যতম প্রধান বিনোদন কেন্দ্র।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

২০০৮ সালের ৯ মার্চ পার্কটি উদ্বোধনের পর থেকেই ধীরে ধীরে তা আকৃষ্ট করতে শুরু করেছে প্রকৃতি ও ভ্রমণপ্রেমীদের।

বিভিন্ন প্রকার ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের সমারোহে গড়ে তোলা হয়েছে পার্কটি।

বঙ্গবন্ধু যমুনা ইকোপার্ক
যমুনা পাড়ের ইকোপার্ক- ছবি- আব্দুল্লাহ আল সাফি

পার্কের নৈসর্গিক মনোরম পরিবেশ দৃষ্টি কাড়ে দর্শনার্থীদের। এই পার্কের অন্যতম আকর্ষণ হচ্ছে বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতুর খুব কাছাকাছি যাবার সুযোগ।

বঙ্গবন্ধু যমুনা ইকোপার্ক
যমুনা পাড়ের ইকোপার্ক- ছবি- আব্দুল্লাহ আল সাফি

পার্কের প্রবেশ পথ ধরে একদম শেষ প্রান্তে যমুনা নদীর পাড়ে সেতুর সীমানার কাছে গিয়ে ছবি তুলতে ভোলেন না পর্যটকরা।

ইকোপার্কের সীমানায় বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতু।
ইকোপার্কের সীমানায় বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতু। ছবি- আব্দুল্লাহ আল সাফি

বর্ষাকালে যমুনা নদীর পানি পার্কের সীমানা প্রায় কাছাকাছি চলে আসে। যা খুবই উপভোগ্য হয় পর্যটকদের জন্য। বৃষ্টিভেজা সবুজ গাছপালা আর পার্কের বিভিন্ন পাখির ডাক দারুণ উপভোগ্য।

নির্দিষ্ট অংকের টিকেট কেটে পার্কে প্রবেশ করতে হয়। প্রাইভেট কার ও মোটরবাইক নিয়েও পার্কে প্রবেশের সুবিধা রয়েছে, তবে তার জন্য আলাদা টিকেট করতে হয়। সাধারণ দিনসহ বিভিন্ন ছুটিতে পরিবার পরিজন নিয়ে বেড়ানোর জন্য এই ইকোপার্কটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

একসময় হরিণ থাকলেও এখন বানর, বেজি, শিয়াল, খরগোশ আর কিছু বুনো সাপ ছাড়া আর কিছুই নেই পার্কে
ছবি-আব্দুল্লাহ আল সাফি

যারা বেশী সময় নিয়ে পার্কে আসেন, তারা পার্কের প্রবেশ পথের বাম দিকের পথ দিয়ে প্রবেশ করে পার্কের গহীণ অংশ ঘুরে দেখে থাকেন। ভাগ্য ভাল থাকলে উন্মুক্ত অবস্থায় থাকা কিছু পশু-পাখীর দেখাও মিলতে পারে। একসময় হরিণ থাকলেও এখন বানর, বেজি, শিয়াল, খরগোশ আর কিছু বুনো সাপ ছাড়া আর কিছুই নেই পার্কে।

বিজ্ঞাপন

বিভিন্ন ফল ও ফুলের মৌসুমে গাছে গাছে ধরে থাকা ফল ও ফুল মুগ্ধ করবে ভ্রমণপিপাসুদের।

পার্কের খুব কাছ দিয়ে চলে গেছে রেললাইন
পার্কের খুব কাছ দিয়ে চলে গেছে রেললাইন.. ছবি- আব্দুল্লাহ আল সাফি

পার্কের খুব কাছ দিয়ে চলে গেছে রেললাইন। যা দেখতে অনেকটা মৌলভিবাজারের লাউয়াছড়া উদ্যানের মতো।

যমুনা পাড়ের ইকোপার্ক- ছবি- আব্দুল্লাহ আল সাফি

যমুনার পাড়ে সবুজে ঘেরা এই ইকো পার্কটিতে পর্যটকদের জন্য সম্প্রতি যোগ হয়েছে উন্নত নিরাপত্তা, ক্যান্টিন, নামাজের স্থান ও পর্যাপ্ত টয়লেটের ব্যবস্থা।

পার্কের পাড় ঘেষে চলে যাওয়া যাবে সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষার জন্য তৈরি দুটি বাঁধ দেখতে। একটি হার্ড পয়েন্ট নামে পরিচিত, আরেকটি চায়না বাঁধ নামে পরিচিত।

China badh Sirajganj
চায়না বাঁধ, সিরাজগঞ্জ । ছবি- আব্দুল্লাহ আল সাফি

যমুনা নদীতে মাছ ধরা, শুশকের জেলকেলি আর নদীর পাড়ের সবুজ চত্ত্বর দারুণ উপভোগ্য।

Hard point Sirajganj, যমুনা নদীতে মাছ ধরা
যমুনা নদীতে মাছ ধরা। ছবি- আব্দুল্লাহ আল সাফি

চাইলে ইকোপার্কের পাশে এনায়েতপুরগামী রাস্তার পাশে সায়দাবাদ পাবলিক লাইব্রেরির সামনের নিরাপদ বাঁধানো ঘাটে যমুনা নদীতে গোসল করা যেতে পারে। ওই ঘাটে যেতে যেতে পড়বে অন্তত ৪/৫টি তাঁত, একটু নেমে দেখে নিতে পারেন তাঁতীদের শাড়ি-লুঙ্গি তৈরির অনন্য কর্ম।

 সায়দাবাদ লাইব্রেরির সামনের নিরাপদ বাঁধানো ঘাটে যমুনা নদীতে গোসল
সায়দাবাদ পাবলিক লাইব্রেরির সামনের নিরাপদ বাঁধানো ঘাটে যমুনা নদীতে গোসল। ছবি- আব্দুল্লাহ আল সাফি

গোসল করে ইকোপার্কে ঘোরার ক্লান্তি দূর করে  সিরাজগঞ্জ জেলায় অবস্থিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠি বাড়ি (শাহজাদপুর), ইলিয়ট ব্রিজ (জেলা সদরে), নবরত্ন মন্দির (লিংক এখানে), জয়সাগর দিঘী (রায়গঞ্জ), চলনবিল (সিরাজগঞ্জ রোডের পাশে) নদীর পাড়ের বাঁধ, ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পসহ অন্যান্য স্থান ঘুরে আসা যেতে পারে।

ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী যেকোনো বাসে বঙ্গবন্ধু-যমুনা সেতু পেরিয়েই ইকোপার্কের অবস্থান। আর উত্তরবঙ্গের যেকোনো জেলা থেকে এলে সিরাজগঞ্জ রোড পেরিয়ে কড্ডার মোড়ের পরেই এই ইকোপার্ক। ট্রেনে এলে যমুনা সেতু পশ্চিম স্টেশনে নামতে হবে। পুরো ইকোপার্ক ঘুরতে ২/৩ ঘন্টার বেশী সময় লাগার কথা না।

পরিকল্পিতভাবে ঘুরতে গেলে একদিনের মধ্যে সিরাজগঞ্জ জেলার বেশিরভাগ পর্যটন এলাকা দেখা সম্ভব। শহরে ও হাইওয়ের ওপরে ৩০০ টাকা থেকে শুরু করে ২৫০০ টাকায় বিভিন্ন হোটেলে থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। শহরে ঘুরতে গেলে পর্যটকরা সিরাজগঞ্জের মিষ্টি, দই, তাঁতের তৈরি লুঙ্গি-শাড়ি ও গামছা কিনতে ভুল করেন না।