চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

একদল স্বাপ্নিক তারুণ্যের কীর্তি চট্টগ্রাম আইসোলেশন সেন্টার

একদল স্বাপ্নিক তারুণ্যের উদ্যোগে চট্টগ্রামের হালিশহরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে করোনা আইসোলেশন সেন্টার। যার সুফল পেতে শুরু করেছে চট্টগ্রামসহ আশেপাশের জেলাগুলোর মানুষ।

সফলতা পাওয়ার উদ্যোক্তারা এখন চাইছেন চট্টগ্রাম শহরের আরও বেশ কয়েকটি পয়েন্ট আইসোলেশন সেন্টার গড়ে তোলার।

বিজ্ঞাপন

জুনের প্রথমদিক থেকে চট্টগ্রামের একঝাঁক নিবেদিত মানবিক তরুণ প্রাণের প্রচেষ্টায় মাত্র ১০-১২ দিনে চালু হয় ১০০ শয্যার এই আইসোলেশন সেন্টার। জুনের ১৩ তারিখ থেকে এক সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে রোগী নেয়া শুরু করে সিআইসিসি। সেই থেকে মানবিক দৃষ্টান্ত আর চিকিৎসা সেবার অনন্য নজির স্থাপন করে নানা মহলে বেশ প্রশংসিত হয়েছে এই উদ্যোগ।

বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রামের বিশিষ্টজনদের অভিমত: প্রাথমিক অবস্থায় করোনা রোগীদের এমন আইসোলেটেড করার ব্যবস্থা থাকলে চট্টগ্রামে এভাবে রোগী বাড়তো না। একদিকে প্রথম থেকেই হাসপাতাল ক্লিনিকে চিকিৎসা না পাওয়া এবং আইসোলেশন সেন্টারের অভাব থাকায় ঘরেই আইসোলেশনে যান অনেক রোগী। এ কারণে পরিবার ও প্রতিবেশীদের মাঝেও অনেকে সংক্রমিত হয়েছে। ফলে খুব দ্রুত চট্টগ্রামে বেড়েছে করোনা আক্রান্ত রোগী, আশংকাজনক হয়েছে মৃত্যুর হার।

সিআইসিসির উদ্যেক্তারা জানান: রাজধানীতে কয়েকটি বড় বড় প্রতিষ্ঠান বেসরকারী উদ্যোগে আইসোলেশন সেন্টার কাম হাসপাতাল গড়ে তুললেও তার পিছনে ছিল নানা অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সুযোগ সুবিধা। অথচ খুব স্বল্প সময়ে স্বল্প সামর্থ্যে তেমন কোন অর্থনৈতিক সমর্থন ছাড়াই দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ করোনা আইসোলেশন সেন্টার গড়ে তোলাটা ছিল সত্যি একটি চ্যালেঞ্জিং বিষয়। তবে দলগত প্রচেষ্টা আর অদম্য মানবিক মানসিকতার কারণেই শেষপর্যন্ত আলোর মুখ দেখেছে এই সেন্টার।

বিজ্ঞাপন

উদ্যেক্তারা আরো জানান: মানবিক মানুষের সহযোগিতা আর আন্তরিকতার ভিত্তিতেই গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে এই ১০০ শয্যার মানবিক প্রতিষ্ঠান। কেবল দেশ থেকেই নয় দেশের বাইরের অনেক বন্ধু আর শুভ্যানুধ্যায়ীরাও বাড়াচ্ছেন সাহায্যের হাত। কেউ দিচ্ছেন অক্সিজেন আবার কেউ পাঠাচ্ছেন ব্যক্তিগত নানা সুরক্ষা সামগ্রী। এভাবে ধীরে ধীরে স্বল্প পরিসরে এগিয়ে যাচ্ছে এই আইসোলেশন সেন্টারের কাজ।

আইসোলেনশন সেন্টারের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হওয়ায় এখন তা একটি রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। এই আইসোলেশন সেন্টার থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে চট্টগ্রামে নানা স্থানে আইসোলেশন সেন্টার গড়ে তুলতে অনেকেই উদ্যোগী হচ্ছেন বলে জানা গেছে। এরমধ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনায় নগরীর আগ্রাবাদ এক্সেস রোডের সিটি হলে গড়ে তোলা হয়েছে ২৫০ শয্যার আইসোলেশন সুবিধা। চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গাতেও বিদ্যানন্দ-সিএমপি সম্মিলিতভাবে গড়ে তুলেছেন ১০০ শয্যার করোনা আইসোলেশন হাসপাতাল। এ তালিকায় শিগগিরি যুক্ত হবে আরো বেশ কিছু আইসেশন সুবিধা।

অন্যতম উদ্যেক্তা নুরুল আজিম রনি

এই আইসোলেশন সেন্টারের অন্যতম উদ্যোক্তা নুরুল আজিম রনি জানান: অনেকে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পরও চিকিৎসা পাচ্ছেন না। পরিবারও তাদের পাশে দাঁড়াচ্ছে না। যে কারণে চট্টগ্রামে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) এ আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেশি।

আমরা চাইছি কেউ করোনা পজিটিভ হবারও পরই যেন আমাদের আইসোলেশন সেন্টারে চলে আসেন৷ এবং চিকিৎসা গ্রহণ করেন। হোম আইসোলেশনে অনেক অংশে পরিবারের অন্য সদস্যদের আক্রান্ত হবার সম্ভবনা থাকে। সেক্ষেত্রে আমাদের এখানে সার্বক্ষণিক মেডিকেল সাপোর্ট পাবেন আপনারা।