চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

একটি প্রতিবাদ ও তারপর…

পুলিশ কর্মকর্তা দু’জনকে বাইরে নিয়ে যেতে বললেন। ওরা কনস্টেবলের পিছু পিছু সুরসুর করে বেরিয়ে গেল।

“আপা, বলেন এখন এদের নিয়ে কী করব?” কর্মকর্তা আমাদের দিকে তাকিয়ে বলেন। তার সামনে চেয়ারে আমি আর ফৌজিয়া পাশাপাশি বসা। ভদ্রলোকের চোখে রাজ্যের বিরক্তি। পুরো এলাকায় বেতন-বোনাস নিয়ে শ্রমিক বিক্ষোভ চলছে। তার ধকল সামলাতে এলাকার পুলিশের অবস্থা জেরবার। তার ওপর আমাদের এই অভিযোগ নিয়ে তাদের দৌড়াতে হয়েছে। আসামিকে ধরা হয়েছে। বাস আটক করা হয়েছে। অভিযোগ ও সাক্ষ্যও শক্ত। সুতরাং দোষীদের উপযুক্ত শাস্তির জন্য মামলা করা জরুরি। কিন্তু আমরা মামলা করছি না। অতএব পুরো বিষয়টার পেছনে দৌড়াদৌড়ি পুলিশের কাছে মিছে মনে হওয়াটা স্বাভাবিক।

আমার মধ্যেও সকালে ঘনিয়ে ওঠা বিরাট বিপদ কাটিয়ে ওঠার বুক ধুকপুক ব্যাপারটা সারাদিন পর মোটামুটি অন্তর্হিত হয়েছে। তার বদলে চরম বিরক্তি মনের মধ্যে ধোঁয়া পাকাচ্ছে। অনেক কষ্ট করে ম্যানেজ করা শুক্রবারটা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। শ্রমিক ভাড়া করে সময়মতো পৌঁছাতে পারিনি, কিন্তু তাদের মজুরি ঠিকই মেটাতে হয়েছে। আমি ভ্রুকুটি করে ফৌজিয়ার দিকে তাকালাম। ও মাথা নাড়ল। ভ্রু সোজা করে কর্মকর্তার দিকে তাকিয়ে বললাম, “ছেড়ে দেন।” ফৌজিয়া যোগ করল, “তবে ওরা যাতে আর কোনোদিন এরকম যাত্রীদের মাঝপথে নামিয়ে না দেয় আর এরকম নোংরা কাজ না করে তার জন্য একটা কিছু করেন।” কর্মকর্তা তখন সহকর্মীকে কোম্পানির স্থানীয় কাউন্টার থেকে মুচলেকা নিতে নির্দেশ দেন। ত্বরিৎ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমরা পুলিশ কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ দিয়ে বেরিয়ে আসি।

“শাস্তিটা খুব কম হয়ে গেল, না?” থানা থেকে বেরিয়ে ফৌজিয়াকে বলি। ও হ্যাঁ-সূচক মাথা নাড়ে। তারপর আমাকে বাসে উঠিয়ে দিয়ে রাস্তা পার হয়ে অপেক্ষমান গাড়ির দিকে এগিয়ে যায়।

এবার ঘটনাটার বয়ান করা যাক। শুক্রবার সকালে আসাদ গেটে আমরা চারজন, আমি, আমার বোন ও এক আত্মীয়া এবং বন্ধু ফৌজিয়া (প্রামাণ্যচিত্রকার-লেখক ফৌজিয়া খান) সাভারের ইপিজেড যাব বলে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। ওখানে আমাদের একখণ্ড জমি রয়েছে। সেখানে পাঁচিল ওঠানোর কাজ শুরু হবে। সকাল সকাল পৌঁছানো জরুরি। মিস্ত্রিদের অপেক্ষা করিয়ে রাখা হয়েছে। ইপিজেড-এর অনেক বাস যায়। শুক্রবার কোনো বাসেই অত ভিড় থাকে না। লাব্বাইক (বানানটা ‘লাব্বায়েক’ও হতে পারে) কোম্পানির একটা বাস এল। বাসের সামনে উল্লেখ করা রুটে বাইপাইল-ইপিজেড লেখা আছে দেখে আমরা এগিয়ে গেলাম। ওঠার সময় ফৌজিয়া একটু খুঁতখুঁত করে বলল, “ওরা ইপিজেড যাবে তো?” ও এই রুটের নিয়মিত যাত্রী তাই আমরা একটু থমকে গেলাম। সঙ্গে লটবহর, মাঝপথে নামিয়ে দিলে খুব মুশকিল হবে। চারজনই আলাদা করে কন্ডাক্টরকে জিজ্ঞেস করলাম বাসটা ইপিজেড পর্যন্ত আদৌ যাবে কিনা। চারজনের একই প্রশ্নে বিরক্ত কন্ডাক্টর “হ হ যাইব যাইব” বলে আমাদের আসন দেখিয়ে দিয়ে অন্য যাত্রী ওঠাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। 

বাস ছাড়ল ঠিক ৮টায়। ৯টার কিছু পরে বাসটা এক জায়গায় থেমে গেল। আমি বাইরে তাকিয়ে বুঝলাম ইপিজেড আসেনি। অথচ সবাই নেমে যাচ্ছে। কন্ডাক্টরের দিকে তাকিয়ে বলি, “কী ব্যাপার?” মিহি গলায় উত্তর আসে, “ম্যাডাম, এই গাড়ি যাবে না। আপনাদের আরেক গাড়িতে উঠায়ে দিতেছি। হেরা আপনাগো ইপিজেড তরি পৌঁছায়া দিব।” ওরা দ্রুত আমাদের নামিয়ে আরেকটা বাসে তুলে দিল। “ম্যাডাম, আমগো কোম্পানির গাড়ি। জায়গামতো পৌঁছাই দিব,” বলে অদৃশ্য হলো। গাড়িটা কিছুটা গিয়ে একটা মোড়ে পৌঁছালে কন্ডাক্টর বলল, “আপনেরা নামেন। গাড়ি ঘুরামু।” ততক্ষণে বুঝে গেছি, এরা ইপিজেড-এর কথা বলে যাত্রী উঠিয়ে মাঝপথে নামিয়ে দেয়। ফৌজিয়ার অনুমানই ঠিক। আমাদের প্রতিবাদের মধ্যেই ওরা গাড়ি ঘুরিয়ে ফেলে।

“আপনারা নামেন। আমরা যাত্রী তুলুম।” সিদ্ধান্ত নিলাম এর প্রতিবাদ করতে হবে। “আপনারা যতক্ষণ না আমাদের ইপিজেড পৌঁছাবেন ততক্ষণ নামব না।” কন্ডাক্টর এবার বলে, “আপনে কি আমাদের ভাড়া দিছেন? আপনেরা হেই গাড়ির লগে বুঝেন গিয়া।” এটা পরিবহন কর্মীদের অতি পরিচিত পুরাতন কৌশল। একই কোম্পানির এক গাড়ির কর্মচারী আরেক গাড়ির কর্মচারী কী করেছে তার দায়িত্ব নেবে না, কিন্তু তারা যাত্রীকে ভুল বোঝাবে। মওকামতো আবার “আপনি তো আমার গাড়ির যাত্রী না, তাই আমার কোনো দায়িত্ব নাই,” এই যুক্তি দিয়ে যাত্রীকে মাঝপথে নামিয়ে দেওয়াসহ শত রকমের হয়রানি করবে। এমন অভিজ্ঞতা যারা বাসে চড়েন কমবেশি সকলেরই আছে।

আমার বোন ও আত্মীয়া ওদের জোরাজুরিতে নেমে গিয়েছিল। ওরা ভয় পেয়ে আমাদের ফোন করতে শুরু করেছে। এদিকে চালক-কন্ডাক্টর যখন কিছুতেই কথা শুনছে না আমি তখন আশুলিয়া থানায় ফোন করলাম। গুগল-এ Ashulia Police Station লিখে খুঁজলে যে নম্বর আসে সেটা বন্ধ দেখাচ্ছিল। ফৌজিয়া ফোন করল ৯৯৯-এ। ওরা আশুলিয়া থানার সাথে সংযোগ করিয়ে দিল। তারা জানাল যানজট পেরিয়ে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।

ইতোমধ্যে চালক ও কন্ডাক্টর কাউন্টারে ফোন করেছে। ওরা আমাকে ফোনটা এগিয়ে দেয়। ওপাশ থেকে একটি পুরুষ কণ্ঠস্বর জানায় তারা আমাদের রাস্তার ওপারে নিয়ে তাদের আরেক বাসে উঠিয়ে ইপিজেড পৌঁছে দেবে। এরমধ্যে কাউন্টার থেকে আরেক কর্মচারী এসে পৌঁছেছে। সে-ও আমাকে একই আশ্বাস দেয়। এসব কথাবার্তা যখন চলছে তার মাঝখানে বয়স্ক কন্ডাক্টরটি বাস থেকে নেমে গিয়েছিল। কিছু পরে লক্ষ্য করলাম, সে নিচে দাঁড়ানো এবং তাকে ঘিরে অনেক লোকজন। বাসেও আরেকজনকে দেখলাম। বছর পঁয়ত্রিশের কালো যুবকটি কোম্পানির স্টাফ বলে অনুমান করলাম। ছেলেটি বলে, “আপনে মেয়েমানুষ, মেয়েমানুষদের বেশি কথা বলা ভালা না।” তারপর সে অত্যন্ত অশ্লীল ভাষায় ও ভঙ্গীতে আমাদের গালিগালাজ দিতে শুরু করে।

আমি হতবাক হয়ে যাই। ফৌজিয়া বলে ওঠে, “ওর সাথে কথা বোলো না। ওরা এলাকার মাস্তান ধরে নিয়ে আসছে।” তাতে ছেলেটা ওর মোবাইল কেড়ে নেয়। মোবাইলের ক্যামেরায় পরিস্থিতি ধরে রাখছিল ফৌজিয়া। তারপর মোবাইলটা ছুড়ে দিয়ে তাকে ধাক্কা মারে। কন্ডাক্টর আর প্রায় কিশোর বাসচালক তখন ওই মাস্তান আর নিচের লোকজনকে আমাদের বিরুদ্ধে ক্রমাগত অভিযোগ করে উস্কে দিচ্ছিল। আমি ফোনটা কুড়িয়ে নিয়ে ফৌজিয়াকে দিতেই ও আবার পুলিশে ফোন করল। বোঝা গেল তাদের আসতে তখনও বেশ দেরি। এদিকে ওই মাস্তান আর এলাকার লোকের হুমকি-ধামকি ধর্ষণের হুমকিতে পরিণত হয়েছে। হুমকি দিতে দিতে ওরা আমাদের দিকে তেড়ে আসছিল। যেকোন মুহূর্তে শারীরিক আক্রমণের শিকার হতে পারি বুঝে ফৌজিয়া আর আমি সেখান থেকে দ্রুত সরে রাস্তার ওপারে চলে যাই। ভাগ্য ভাল, তখন যানজটে বাস-ট্রাক সব দাঁড়ানো ছিল।

Advertisement

রাস্তা পার হতেই দেখি থানা আমাদের অদূরেই। কী আশ্চর্য, উল্টোদিকেই আমরা এত বড় বিপদে পড়েছি, অথচ তাদের জানানো সত্ত্বেও একজন পুলিশের চেহারাও দেখতে পেলাম না!

থানায় ঢুকলাম। আমাদের নিশ্চয়ই কিছুটা উদভ্রান্ত দেখাচ্ছিল। থানার সামনের কাউন্টারে বসা পুলিশকর্মীরা আমাদের ঠাণ্ডা হয়ে বসতে বললেন। কেন একজন পুলিশও ঘটনাস্থলে হাজির হতে পারলেন না এই প্রশ্নের উত্তরে তারা বললেন, এই থানায় পুলিশের তিনটা পেট্রল পার্টি তিনদিকে কাজ করছে। কাছেরটিকে আমাদের বিষয়ে জানানো হলে তারা রওনা দিয়েছিল। জানতে চাই, থানা থেকে দু’জন পুলিশ সদস্য বের হয়ে বাসের ওখানে যেতে পাঁচ মিনিটও লাগত না, সেটা তারা কেন করেননি? যাই হোক, পরে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অর্থাৎ ওসি স্বীকার করেছিলেন, ওটা ভুল হয়েছে। অতদূর থেকে পেট্রল পার্টিকে যেতে না বলে থানা থেকেই কাউকে এগোতে হতো।

নিজের সুসজ্জিত কক্ষে ওসি সাহেব ঝলমলে পাঞ্জাবি-টুপিতে সেজে বসেছিলেন। বোধ করি শুক্রবারের পোশাক। আমাদের অভিযোগ শুনে কাগজ এগিয়ে দিয়ে লিখতে বললেন। অভিযোগ লিখে দিলে চোখ বুলিয়ে নিয়ে বললেন, “দেখেন, এই অভিযোগ নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত। সাক্ষ্যও যথেষ্ট শক্ত। আপনারা কি মামলা করবেন?” আমরা তার কাছে মামলা বিষয়ে আরেকটু বিশদ পরামর্শ চাইলাম। ওসি’র বক্তব্যের সারমর্ম হচ্ছে, দোষীদের শক্ত শিক্ষা দিতে হলে মামলা করাই উচিত। জামিন-অযোগ্য ধারায় মামলা হবে। তাতে দোষীদের পাশাপাশি পরিবহন মালিকরাও সাবধান হবে।

আমার চোখে, সম্ভবত ফৌজিয়ার চোখেও, বয়স্ক কন্ডাক্টরের চেহারাটা ভাসছিল। লোকটা বড় অপরাধ করেছে। ঠিক সময়ে ওখান থেকে চলে আসতে না পারলে বড় বিপদের আশঙ্কা ছিল, সবই সত্যি। কিন্তু, লোকটির বিরুদ্ধে এত বড় মামলা করতে মন সায় দিচ্ছিল না। ওসিকে বিকল্প পন্থা জিজ্ঞেস করলাম। তাতে তিনি বললেন, বাসসহ ওদেরকে আটক করে আমাদের খবর দিতে পারেন। তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে। আমরা সেটাই করতে অনুরোধ করে তখনকার মতো বিদায় নিলাম।

সন্ধ্যায় থানা থেকে ফোন করে ওই দুজনকে আটক করার খবর দেওয়া হলো। আমরা আবার থানায় হাজির হলাম। ওসি সাহেব ছিলেন না। তদন্ত কর্মকর্তার কক্ষে বসানো হলো। কর্মকর্তার কথায় যঃ পলায়তির সুর। পরিবহনকর্মীদের এই জাতটাই খারাপ। আমাদের উচিত ছিল ঘটনা শুরুর সঙ্গে সঙ্গে তফাৎ হয়ে যাওয়া। ভদ্রলোকের কথা ঠিক। কিন্তু সমাজে আমাদের মতো কিছু লোক থাকেই যারা প্রতিবাদ করে, লাভ যদিও তখন তখনই চোখে দেখা যায় না। কিন্তু বিশ্বাস করি, সবাই যদি সাধ্যমতো প্রতিবাদ করে তাহলে একটু একটু করে পরিবর্তন হবে এবং একসময় তার সমষ্টিগত চিত্র দৃশ্যমান হবে। বাসচাপায় শিক্ষার্থী নিহত-বিক্ষোভ-গণপরিবহন সংকট

আসামিদের হাজির করা হলো। বয়স্ক কন্ডাক্টরটির নিরীহ চেহারা দেখে বোঝার উপায় নেই লোকটা এত জঘন্য কাজ করতে পারে। সেটাই তাকে জিজ্ঞেস করলাম। উত্তর এল, “আমি তো আপনাদের আম্মা ডাকছি।” ধর্মপুত্তুরকে জিজ্ঞেস করি কেন সে অমানুষগুলোকে জড়ো করেছিল। “আম্মা, আমি তো হেরারে ডাকি নাই।” “ওদের ডেকে নিয়ে না আসলে বাসে উঠল কীভাবে? তাদের কাছে বিচার দিচ্ছিলেন কেন?” এই অপরাধের কী শাস্তি হওয়া উচিত তা ওদেরকেই জিজ্ঞেস করি। “আম্মা, ভুল হইছে। এহন আপনারা যা করেন।” “তাহলে কি মামলা দেব?” এবার তার দুই হাত দুই কান ধরে। আমাদের পা ধরার জন্য এগিয়ে আসে। কিশোর ড্রাইভারটি তখনও খরচোখে তাকিয়ে ছিল। (ওর কি চালকের লাইসেন্স পাওয়ার বয়স হয়েছে?) কোনো অনুতাপ নেই, ভয়ও নেই। জিজ্ঞেস করি, “তোমার কী খবর?” সেও কানে ধরে হাত জোড় করে পা ধরতে এগিয়ে আসে। এক ধমকে নিষেধ করি। অদ্ভুত প্রজাতি এরা। পিঠে ছুরি মারতে পিছপা নয়, গাতায় পড়লে পায়ে ধরতেও জুড়ি নেই।

ফেরার পথে ফোন পেলাম একটা। ওপাশের কণ্ঠস্বর নিজেকে লাব্বাইক পরিবহনের ডিরেক্টর বলে পরিচয় দিলেন। তিনি নাকি একটি জাতীয় দৈনিকের রিপোর্টারও বটে। তো উক্ত ডিরেক্টর কাম রিপোর্টারের ভাষায়, তাদের বাসকর্মীদের সঙ্গে আমাদের নাকি কী একটা ‘ঝামেলা’ হয়েছে যেটার সমাধান তারা করতে চান এবং সেজন্য তিনি সারাদিন ফোন না করে এই ভরসন্ধ্যায় ফোন করেছেন। তাকে থানায় যোগাযোগ করতে বলে ফোন কেটে দিলাম।

আশুলিয়া থানার তদন্ত কর্মকর্তাকে যে কথাটি বলা হয়নি তা এখানে একটু বলি। গত ৩০ বছর ধরে বাংলাদেশের পথে পথে কেটেছে আমার। পরিবহনকর্মীদের সঙ্গে আমার নিয়মিত কারবার। তাদের মধ্যে এমন মানুষ পেয়েছি যাঁরা এগিয়ে না এলে কোনো বড় বিপদ থেকে বাঁচা কঠিন হতো। ডিগ্রির শিক্ষা নয়, প্রকৃত শিক্ষার পরিচয় তারা দিয়েছেন। মূল্যবোধহীন পরিবহনকর্মীও দেখেছি খুব কম নয়। তাদের আচরণের শিকার হয়েছি। বস্তুত, দায়িত্বজ্ঞানহীন মূল্যবোধহীন পরিবহন ব্যবসায়ীর কর্মীরাই মূলত কাণ্ডজ্ঞানহীন হয়।

লাব্বাইক পরিবহন শুধু নয়, সব পরিবহন ব্যবসায়ীকেই যাত্রীদের সঙ্গে আচরণ সম্পর্কে সচেতন, শিক্ষিত ও সতর্ক হতে হবে। একবার বেঁচে গেছেন বলেই তারা বারবার বাঁচতে পারবেন না।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)