চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

একজন কিংবদন্তীর চলে যাওয়া

ভাষার জন্য বাঙালির রক্তদানের স্মৃতি জড়ানো একুশের গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’র রচয়িতা, সাংবাদিক ও কলামিস্ট আবদুল গাফফার চৌধুরী মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার সকালে লন্ডনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

বরিশাল জেলার জলবেষ্টিত গ্রাম উলানিয়ার চৌধুরী বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন আবদুল গাফফার চৌধুরী। তার বাবা হাজি ওয়াহিদ রেজা চৌধুরী ও মা জহুরা খাতুন। তিন ভাই, পাঁচ বোনের মধ্যে বড় ভাই হোসেন রেজা চৌধুরী ও ছোট ভাই আলী রেজা চৌধুরী। বোনেরা হলেন মানিক বিবি, লাইলী খাতুন, সালেহা খাতুন, ফজিলা বেগম ও মাসুমা বেগম।

Reneta June

১৯৭৪ সাল থেকে লন্ডনে বসবাস করলেও মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার পক্ষে তার কলম সোচ্চার ছিল বরাবর। প্রবাসে থেকেও ঢাকার পত্রিকাগুলোতে তিনি যেমন রাজনৈতিক ধারাভাষ্য আর সমকালীন বিষয় নিয়ে একের পর এক নিবন্ধ লিখে গেছেন, তেমনি লিখেছেন কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, স্মৃতিকথা ও প্রবন্ধ।

বিজ্ঞাপন

মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আবদুল গাফফার চৌধুরী তার মেধা-কর্ম ও লেখনীতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত করার পাশাপাশি বাঙালির অসাম্প্রদায়িক মননকে ধারণ করে জাতির সামনে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে কাজ করে গেছেন।

রাজনৈতিকভাবে সচেতন আবদুল গাফফার চৌধুরীর কলম কখনো সত্য বলতে দ্বিধাবোধ করেনি। সত্য ও ন্যায়ের বিচারে তার পছন্দের মানুষরাও ছাড় পায়নি তার লেখনিতে।

তরুণ বয়সে ১৯৪৭ সাল থেকে সাংবাদিকতায় এসে অবিভক্ত ভারতবর্ষসহ বাংলাদেশের বহু পত্রিকায় কাজ করে গেছেন তিনি। প্রকাশনী ও মুদ্রণ ব্যবসায়ও তিনি কাজ করেছেন স্বমহিমায়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের হত্যাকাণ্ডের ওপর গাফফার চৌধুরী একটি চলচ্চিত্র তৈরি করেছেন, ‘পলাশী থেকে ধানমণ্ডি’। বঙ্গবন্ধুর ওপরেই আরেকটি চলচ্চিত্র, ‘দ্য পোয়েট অব পলিটিকস’ প্রয়োজনা করছেন তিনি। এছাড়া তিনি প্রায় ৩৫টি বই লিখেছেন।

তার লেখা গ্রন্থগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান (১৯৬০), নাম না জানা ভোর (১৯৬২), নীল যমুনা (১৯৬৪) এবং শেষ রজনীর চাঁদ (১৯৬৭)। তিনি স্বাধীনতা পদক, একুশে পদক ও বাংলা একাডেমি পুরস্কার সহ অসংখ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করেন।

বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ থানার উলানিয়া গ্রামে জন্ম নেয়া এই কিংবদন্তি ব্যক্তিত্বের জীবন ছিল বৈচিত্যময় অভিজ্ঞতায় ভরা। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশ প্রগতিশীল, সৃজনশীল ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী একজন অগ্রপথিককে হারিয়েছে বলে আমরা মনে করি। দেশের ইতিহাসের বিভিন্ন পর্বে তার অবদান জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।