চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

এই মহামারীর অবসান হবে কবে?

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকে গত ১১ মার্চ মহামারী ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সারা বিশ্বে এখন পযর্ন্ত ১ কোটি ৮০ লাখ মানুষ এতে সংক্রমিত হয়েছে। মারা গেছে ৭ লাখেরও বেশী। কিন্তু তারপরও থেমে নেই  সংক্রমণ। প্রতিদিনই তা বাড়ছে।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত দেশগুলো বিশেষ কিছু প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করে এ ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে। যেমন: সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করে চলাচল করা এবং এলাকাভিত্তিক লক ডাউন আরোপ করা। তবে বিশ্বব্যাপী এ ভাইরাসের অর্থনৈতিক প্রভাব ভয়াবহ। এই মহামারীর কারণে প্রায় ৬ কোটি মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নীচে চলে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

হজকিন্তু মহামারী আসলে কী? মহামারী এমন একটা পরিস্থিতি যে সময়ে ছোঁয়াচে কোনো রোগ ব্যাপকহারে মানুষের মধ্যে ছড়াতে থাকে। বিশ্বের প্রায় সব দেশের মানুষ একই সময়ে এ রোগে আক্রান্ত হয়।

এখন প্রশ্ন, করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট মহামারী থেকে মু্ক্তি মিলবে কবে? বর্তমানে এ প্রশ্নের উত্তর আসলে কারো জানা নাই। কীভাবে এ ভাইরাস থেকে মুক্তি লাভ করা যায়? এটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ জিজ্ঞাসা।

সাধারণ জ্ঞান থেকে বলা যায়, সংক্রমিত সব দেশ একই সময়ে এ ভাইরাস থেকে মুক্তি পাবে না। তবে কিছু দেশ ইতোমধ্যে ভাইরাসকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে। অনেক দেশে সংক্রমণ নিম্নমুখী। আশা করা যায় নিকট ভবিষ্যতে পৃথিবী করোনাভাইরাসমুক্ত হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তিনটি পথে আমরা করোনামুক্ত হতে পারি।

১. হার্ড ইমিউনিটি
বিভিন্ন দেশের মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াতে ছড়াতে জনসাধারণের মধ্যে করোনা প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে উঠবে। এতে একটা সময় পরে করোনা নিস্তেজ হয়ে পড়বে। তাতে করে আর মহামারী আকারে টিকতে পারবে না করোনা।

বিজ্ঞাপন

তবে মানুষের শরীরে একবার করোনা হলে আর সংক্রমণ ঘটাতে পারবে না সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা। অতীতে মহামারী ঘটানো হাম, চিকেন পক্সের ক্ষেত্রে যেমনটা হয়েছে।মানুষের শরীরে একাধিকবার করোনা সংক্রমণ ঘটাতে থাকলে দেখা যাবে ছোট কমিউনিটির মধ্যে সংক্রমণ ঘটাবে। সেখান থেকে বড় কমিউটির বহু মানুষকে সংক্রমিত করবে।

২. করোনার সঙ্গে অভ্যস্ততা
করোনাভাইরাস যদি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গী হয়ে যায় তখন আর এটাকে মহামারী বলে বিবেচনা করে ভীত হব না। ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস যেভাবে আমাদের সঙ্গে থেকে গেছে। এটাকে সাধারণ রোগ বলে আমরা এখন বিবেচনা করি।

ব্যাপকহারে মানুষ সংক্রমিত হয়ে পড়লে এক সময়ে এসে এই সংক্রমণের সংখ্যা কমতে থাকবে। আমরা ইতোমধ্যে জেনেছি যে একটি কমিউনিটিতে করোনা সংক্রমণ পিক এ ওঠার পর ক্রমান্বয়ে সে সংক্রমণ কমতে শুরু করে। সংক্রমণ কমতে কমতে হয়তো করো সাধারণ জ্বরের মতো হয়ে পড়বে।

এখন পর্ন্ত সাধারণ জ্বরের চেয়ে করোনার প্রভাব ভয়াবহ হলেও ভবিষ্যতে চিকিৎসেবার উন্নয়ন হলে এটা এতটা ভয়াবহ থাকবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।

৩. ভ্যাকসিন আবিষ্কার
ভ্যাকসিন আবিষ্কার হলে নিশ্চিতভাবে ধরে নেয়া যায় যে, করোনা নির্মূল হয়েছে। তেমন কোনো ভ্যাকসিন আবিষ্কারের পর বিশ্বব্যাপী তা প্রয়োগ করা গেলে মহামারী থেকে আমরা মুক্ত হতে পারবো। তবে এটাও নির্ভর করবে কত দ্রুত আমরা সারা বিশ্বে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করতে সক্ষম হতো। ভ্যাকসিন প্রয়োগের বিষয়টি এক দেশ থেকে আরেক দেশের ক্ষেত্রে ভিন্ন রকম হবে সেটা বলে দেয়া সম্ভব।কারণ ভ্যাকসিন প্রয়োগ যথেষ্ট ব্যয়সাপেক্ষ হবে।

করোনাভাইরাসবিশ্বের বেশীরভাগ মানুষের মধ্যে ভ্যাকসিন প্রয়োগের পর এই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠার পর ভাইরাসটি আর সংক্রমণে সুবিধা করতে পারবে না বলে ধারণা করা যায়। ক্রমান্বয়ে করোনা বিলুপ্ত হবে বলে আমরা আশা করতে পারি।

প্রাকৃতিকভাবে মানুষের মধ্যে এ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠার পাশাপাশি ভ্যাকসিন প্রয়োগের পরই কেবল নিশ্চিতভাবে বলা যাবে যে করোনা মহামারীমুক্ত হয়েছি।