চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

এইডস এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নতুন মাইলফলক

এইডস আক্রান্ত এক নারীর শরীর থেকে এইচআইভি সংক্রমণের সব ধরণের লক্ষণ নির্মূল হয়েছে বলে চিকিৎসকরা লক্ষ্য করেছেন। আর্জেন্টিনার নাগরিক ওই নারী ২০১৩ সাল থেকে এইডস আক্রান্ত হন। গবেষকরা এই নারীর উদাহরণ থেকে ভবিষ্যতের জন্য আশার আলো দেখছেন।

আর্জেন্টিনার জেপার‌্যানজা শহরের ৩০ বছর বয়সী ওই নারীর শরীরে কয়েক বছর ধরে পরীক্ষা করে এইচআইভি সংক্রমণের কোন লক্ষণ পাওয়া যায়নি। এমনকি ডিএনএ পরীক্ষা করেও এইচআইভি পাওয়া যায়নি। এমনকি এইডস এর জন্য ওষুধ খাওয়া বন্ধ করার পরও এইডস ফিরে আসেনি।

কীভাবে এইডসমুক্তি সম্ভব হলো সেটা এক বড় রহস্য। এর আগে নূন্যতম দুজন এইডস রোগী সংক্রমণমুক্ত হয়েছন। তারা দুজনই ব্লাড ক্যান্সারের রোগী ছিলেন। ক্যান্সারের চিকিৎসা করাতে তাদের শরীরে কোষ (স্টেম সেল) প্রতিস্থাপন করা হয়েছিলো। কোষ প্রতিস্থাপন এইচআইভিমুক্তি হতে পারে বলে গবেষকরা ধারণা করছেন। তবে আর্জেন্টিনার ওই নারী কীভাবে রোগ থেকে মুক্তি পেলেন সেটা গবেষকরা নিশ্চিত হতে পারছেন না। কিন্তু ওই নারী এইচআইভি থেকে মু্ক্ত হয়েছে মানে এটা সম্ভব। এটাই খুশির খবর।

বিজ্ঞাপন

বসটন র‌্যাগন ইনস্টিটিউট এর জু উয়ু এবং বুয়েন্স আয়ার্স এর ‘ইনস্টিটিউট অব ব্যায়োমেডিক্যাল রিসার্চ ইন রেট্রোভাইরাস এন্ড এইডস’-এর নাটালিয়া ল্যফার মনে করেন, ওই নারী প্রাকৃতিকভাবেই এইইচআইভি-ওয়ান সংক্রমণ থেকে মুক্ত হয়েছেন। গবেষকরা তার শরীরের কোষ, রক্ত, টিস্যু নিয়ে নানান রকম গভীর পরীক্ষা চালিয়েছেন। কিন্তু এইআইভি’র জীবাণু পাওয়া যায়নি।

দশকের পর দশক ধরে চিকিৎকরা এইচআইভি সংক্রমণ দূর করতে চেষ্টা করে যাচ্ছেন। নানান রকম ওষুধপত্র দিয়ে সংক্রমণ দমিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়। বেশীরভাগ রোগীর ক্ষেত্রে সংক্রমণ সীমিত রাখা সম্ভব হয়। এ পরিস্থিতিতে যদি অন্য কোন রোগীর সংক্রমণমুক্ত হন তাহলে অন্যদের ক্ষেত্রেও আশার সঞ্চার হয়।

মেলবোর্ন ইউনিভারসিটির পিটার ডরোথি ইনস্টিটিউট ফর ইনফেকশন এন্ড ইমিউনিটি-এর পরিচালক শ্যারোন লিউইন বলেছেন, এইচআইভির সঙ্গে লড়াই করতে রোগীর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর প্রতি সবচেয়ে বেশী গুরুত্ব দিতে হবে। তাতে দীর্ঘ চিকিৎসার একটা পর্যায়ে গিয়ে রোগী আরো শক্তভাবে জীবাণুর সঙ্গে লড়াই করতে সক্ষম হয়। এক সময় এইচআইভিকে রোগী পরাজিত করতে পারে।

শ্যারন লিউইন আরো বলেছেন, এইচআইভি থেকে মুক্তি পাওয়ার ঘটনায় মানুষ খুবই উচ্ছসিত। কারণ এই রোগীর উদাহরণ থেকে অন্যরা দিক নির্দেশনা পাবেন। ককেশিয় অঞ্চলের এক শতাংশ মানুষ এইচআইভ আক্রান্ত। যারা জীবাণুটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। তারা যদি এইডস থেকে মুক্ত হতে পারেন তবে সেটি হবে মানুষের ইতিহাসে আরেকটি মাইলফলক।

বিজ্ঞাপন