চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ঋত্বিক ও বব: যাদের যন্ত্রণা ও সংগ্রামের ভাষা এক

একজন নিজের যন্ত্রণা ও সংগ্রামের কথা বলেছেন সিনেমায়, অন্যজন গানে…

ঋত্বিক ঘটক। এক ক্ষ্যাপাটে আত্মার নাম। নিজের বিশ্বাস, আদর্শ থেকে এক চুল পরিমাণ টলে যাননি কখনও। দেশ ভাগের যন্ত্রণায় যেমন তাড়িত হয়েছেন, সেটা কর্মের মধ্য দিয়ে জানান দিয়েছেন। থিয়েটারে, লেখায় আর সিনেমায় সেই যন্ত্রণার কথা বার বার তুলে ধরেছেন। অন্যদিকে আরেক প্রান্তের মানুষ বব মার্লে। গানের মানুষ তিনি। ভুবনকাঁপানো গান দিয়ে সংগীতপ্রেমীদের মন জয় করেছিলেন। অবহেলিত মানুষের অধিকার নিয়ে গান করতেন তিনি। নিজের গানে নানা ক্ষোভ ও সমস্যার কথা বলে গেছেন।

দুই প্রান্তের এই দুই উল্টো সুরের মানুষ এক হয়েছে ৬ ফেব্রুয়ারি তারিখটিতে এসে! ১৯৪৫ সালের এই দিনে সুদূর জ্যামাইকাতে জন্মেছিলেন বব মার্লে, আর ১৯৭৬ সালের এই ৬ ফেব্রুয়ারিতে মারা যান উপমহাদেশের প্রখ্যাত নির্মাতা ঋত্বিক ঘটক!

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ঋত্বিক ঘটক জন্মেছিলেন ঢাকায়। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পাল্লায় পড়ে নিজের জন্মভূমি ছেড়ে পশ্চিমবঙ্গে চলে যেতে হয়েছিলো তাকে। আর এই দেশভাগের ঘটনায় তার মনে গভীর দাগ কেটে দিয়েছিলো তার প্রমাণ যেমন তার লেখনীতে উঠে এসেছে, তেমনি তার নির্মিত চলচ্চিত্র দেখেও এমনটা খুব সহজে বোঝা যায়। দেশভাগ মূলত তার নিজেকে মাতৃভূমির সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতে বাধ্য করেছিলো।

বিজ্ঞাপন

ঋত্বিকের পরিচালনায় সিনেমাগুলি:
• নাগরিক (১৯৫২, মুক্তি ১৯৭৭)
• অযান্ত্রিক (১৯৫৮)
• বাড়ি থেকে পালিয়ে(১৯৫৮)
• মেঘে ঢাকা তারা (১৯৬০)
• কোমল গান্ধার (১৯৬১)
• সুবর্ণরেখা (১৯৬২)
• তিতাস একটি নদীর নাম (১৯৭৩)
• যুক্তি তক্কো আর গপ্পো (১৯৭৭)

অন্যদিকে জ্যামাইকার একটি শহরতলির বস্তিতে ১৯৪৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি জন্ম নেন মার্লে। তার জন্মের সময় জ্যামাইকা ছিল একটি অশান্ত দেশ। রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক সব ক্ষেত্রেই অস্থিরতা চলছিল দেশটিতে। শ্বেতাঙ্গ-কৃষ্ণাঙ্গ বিভেদের কারণে সংঘাতও ছিল নিয়মিত ঘটনা। কৃষ্ণাঙ্গ মা ও শ্বেতাঙ্গ বাবার কারণে ছোটবেলা থেকেই সাদা-কালো দ্বন্দ্বে ভুগতেন মার্লে।

জন্মের পর থেকেই দেখেছেন, কালোরা নির্যাতিত। তাই তার অবস্থান ছিল কৃষ্ণাঙ্গদের পক্ষে। ‘নিপীড়িত আর খেটে খাওয়া মানুষের জন্য গান করতেন তিনি। সবাইকে বলতেন একত্র হতে। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে থাকতে। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে কালোদের ওপর চলতে থাকা বর্ণবাদী নির্যাতনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন তার গানের মাধ্যমে। রাজনৈতিক আগ্রাসনের প্রতিবাদও করেছেন মার্লে গানের মাধ্যমে। অধিকারবঞ্চিত মানুষের পক্ষ নিয়ে তিনি সাম্রাজ্যবাদের বিরোধিতা করতেন তার গানের মাধ্যমে।

জীবনঘনিষ্ঠ গান গাইতেন বলেই বিশ্বজুড়ে মার্লের বিপুল জনপ্রিয়তা তৈরি হয়। ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশে অনেক কনসার্টে গান গেয়েছেন তিনি। বাফেলো সোলজার, নো ওম্যান, নো ক্রাই এবং গেট আপ স্ট্যান্ড আপ তার উল্লেখযোগ্য গান। ফুসফুস ও মস্তিষ্কের ক্যান্সারের কারণে মাত্র ৩৬ বছর বেঁচে ছিলেন তিনি। ১৯৮১ সালের ১১ মে তার মৃত্যু হয়।

বিজ্ঞাপন