চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ঋণ পুনঃতফসিল সুবিধার সময়সীমা আবারও বাড়ল

মাত্র ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ৯ শতাংশ সুদহারে খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলের (রিশিডিউলিং) সুবিধার সময়সীমা আবারও বাড়ানো হয়েছে। খেলাপিরা এই বিশেষ সুবিধায় ঋণ পুনঃতফসিলে আরও ১ মাস সময় পাবেন। অর্থাৎ পুনঃতফসিলের জন্য ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত সময় পাবেন তারা।

তবে এ সময় সুবিধাভোগীরা নতুন কোনো ঋণ নিতে পারবেন না।

বিজ্ঞাপন

বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে চলতি বছরের ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত ঋণ পুনঃতফসিলের বা এককালীন এক্সিটের বিশেষ এই সুবিধা পাবেন খেলাপিগণ।

তবে নতুন করে আর আবেদন নিতে পারবে না ব্যাংক। শুধু গত ২০ অক্টোবর পর্যন্ত যেসব আবেদন পড়েছে তা নিষ্পত্তির জন্য এই সময় দেয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযাযী, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিক (জানুয়ারি-মার্চ) সময়ে ব্যাংকগুলো ৫ হাজার ৮৩৯ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করেছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) পুনঃতফসিল করেছে ১৫ হাজার ৪৬৯ কোটি টাকা। প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় দ্বিতীয় প্রান্তিকে পুনঃতফসিলের মাধ্যমে খেলাপি ঋণ নিয়মিত করেছে তিনগুণেরও বেশি। বিশেষ সুবিধার সময় ছিল অক্টোবরের ২০ তারিখ পর্যন্ত।

সরকারের নির্দেশনায় চলতি বছরের ১৬ মে বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ পুনঃতফসিল ও এককালীন এক্সিট সংক্রান্ত বিশেষ নীতিমালা জারি করে। এতে মাত্র ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে ৯ শতাংশ সরল সুদে এক বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ টানা ১০ বছর ঋণ পরিশোধের সুযোগ দেয়া হয়।

স্বাধীনতার পর থেকে যারা ঋণখেলাপি তাদের এককালীন এক্সিট সুবিধা দেয়া হবে। এক্ষেত্রে তাদের খেলাপি ঋণের হিসাব হবে ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বরের এককালীন হিসাবায়ন ভিত্তিতে। অর্থাৎ ১৯৭১ সালের পর থেকে ২০১৮ সালের ৩১ ডিমেম্বর পর্যন্ত যত খেলাপি ঋণ আছে তার হিসাব করা হবে। কোনো ঋণখেলাপি যদি মনে করেন এককালীন ঋণ পরিশোধ করে খেলাপির তালিকা থেকে বেরিয়ে যাবেন, সে ব্যবস্থাও রাখা হয় প্রজ্ঞাপনে।

এতে বলা হয়, ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে ঋণখেলাপিরা ঋণ পরিশোধের জন্য ১ বছর পর্যন্ত সময় পাবেন। আগের সব সুদবাবদ পাওনা মওকুফ করা হবে। এককালীন পরিশোধের জন্য সুদহার আরও কম- ব্যাংকের কস্ট অব ফান্ডের সমান। তবে ১ বছরের মধ্যে টাকা পরিশোধ না করলে সুবিধা বাতিল হবে।

এই এককালীন এক্সিট সুবিধা ও পুনঃতফসিল সুবিধা কার্যকরের ৯০ দিনের মধ্যে ব্যাংক ও গ্রাহকের মামলা স্থগিত করতে হবে। পরবর্তী সময়ে গ্রাহক কোনো শর্ত ভঙ্গ করলে সুবিধা বাতিল করে মামলা পুনরায় চালু হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের জুন শেষে ব্যাংক খাতে ঋণ বিতরণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ৬২ হাজার ৭৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা। রাইট অফ বা অবলোপন করা ঋণের পরিমাণ যোগ করা হলে খেলাপি ঋণ দেড় লাখ কোটি টাকার বেশি হবে।

Bellow Post-Green View