চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ঋণ খেলাপি-কর ফাঁকির সুযোগ পাওয়ায় কোম্পানিগুলো শেয়ারবাজার বিমুখ

কর ফাঁকি দেওয়া এবং ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করার সুযোগ পাওয়ায় অনেক কোম্পানি বাজারে আসতে চায় না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক তত্তাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জা আজিজুল ইসলাম।

সোমবার রাজধানীর ফারস হোটেলে অনলাইন বিজনেস পোর্টাল বিজনেসআওয়ার২৪.কম আয়োজিত ‘শিল্পায়নে আইপিও’র গুরুত্ব’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ।

বিজ্ঞাপন

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, অনেক কোম্পানি কর ফাঁকি দিয়ে এবং ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করার সুযোগ পেয়ে গেছে। এ কারণে তারা পুঁজিবাজারে আসতে চায় না। এই জন্য বিচারিক কার্যক্রমের দীর্ঘসূত্রিতা কিভাবে কমিয়ে আনা যায় তা ভাবতে হবে। প্রয়োজনে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও আইন মন্ত্রণালয়কে প্রধান বিচারপতির শরাণপন্ন হওয়া যেতে পারে।

তিনি বলেন, এতো মার্চেন্ট ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে কিসের ভিত্তিতে তা নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিবেচনা নেওয়া উচিত। মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে নিজেদের কাজে অন্তর দৃষ্টি দিয়ে বিশ্লেষণ করা উচিত। কারণ পুঁজিবাজারে ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানির আনতে তাদের ভূমিকা অনেক বেশি।

মির্জা আজিজুলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রায় একই ধরনের অভিযোগ করেন বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী। তিনি বলেন, অনেক সুবিধা পাওয়ার পরেও ভালো কোম্পানি পুঁজিবাজারে আসছে না। কারণ বাজারে না এসে তারা ভ্যাট ফাঁকি দেয়ার সুবিধা পায়। ঋণ পরিশোধ না করে পার পেয়ে যায়। আবার তুলনামুলক ঋণ সুবিধা বেশি পাওয়া যায়। কিন্তু পুঁজিবাজারে আসলে এজিএম করতে হয়, লভ্যাংশ দিতে হয়, জববাদিহি করতে হয় এবং কোম্পানিতে স্বচ্ছতা আনতে হয়। এ কারণে এসব কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারবিমুখ। ফলে দেশিয় কোম্পানিগুলোর কারণে বিদেশি কোম্পানিগুলোও বাজারে আসতে চায় না। এসব কোম্পানির কাছে ব্যাংক ঋণ তুলনামুলক সস্তা বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সেমিনারে ১৯৯৬ ও ২০১০ সালে শেয়ারবাজারে পতনের সঙ্গে ট্রেক হোল্ডাররাই জড়িত বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের ট্রেক হোল্ডাররাই শেয়ারবাজারের মূল সমস্যা। তাদের কারণেই বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। ট্রেক হোল্ডর বলতে ডিএসই ও সিএসইর সদস্য প্রতিষ্ঠান বা ব্রোকারেজ হাউজ অর্থাৎ যাদের মাধ্যমে শেয়ার লেনদেন করা হয় তাদেরকে বুঝানো হয়।

বিএসইসির কমিশনার ড. স্বপন কুমার বালা বলেন, মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো সঠিকভাবে কাজ করে না। বিশেষ করে ভালো কোম্পানি আনার ক্ষেত্রে। ৫৮টি মার্চেন্ট ব্যাংক যদি একটি করে ইস্যু জমা দিতো তবে এমন পরিস্থিতি ঘটতো না।

তিনি বলেন, বিএসইসি একটি নির্দিষ্ট শর্ত মেনে কোম্পানিগুলোকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে। তবে সেখানে নানা গ্যাপ থেকে যায়। সব কিছু গুছিয়ে আনার পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি রিপোর্টে (ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো) খেলাপি ধরা পড়ার কারণে অনেক কোম্পানির অনুমোদন বাতিল করা হয়েছে।

তবে ২০১৫ সালের পাবলিক ইস্যু রুলস প্রকাশের পর এখন কাজে অনেক গতি এসেছে বলে দাবি করেন তিনি।

বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স এসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ বলেন, গত ১৩ বছরের মধ্যে ২০১৭ সালে সবচেয়ে কম সংখ্যক কোম্পানির প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই সংখ্যা বাড়ানো দরকার।

বিজনেসআওয়ার২৪.কমের প্রধান উপদেষ্টা আকতার হোসেন সান্নামাতের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মাহমুদ ওসমান ইমাম, বিএমবিএর সিনিয়র সহ-সভাতি মুহাম্মদ আহসান উল্লাহ, আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান এবং ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্ট ফোরামের সভাপতি হাসান ইমাম রুবেল প্রমুখ।

Bellow Post-Green View