চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘উড়োজাহাজে ভ্রমণের চেয়ে রেস্টুরেন্ট ও দোকানে করোনার ঝুঁকি বেশি’

করোনা মহামারীর সময় উড়োজাহাজ ভ্রমণের চেয়ে রেস্তোরাঁয় খেতে যাওয়া কিংবা কেনাকাটার জন্য বাইরে বের হওয়াতে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি বলে হার্ভার্ডের গবেষকদের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

বিশেষ বায়ুচলাচল ব্যবস্থার কারণে উড়োজাহাজ ভ্রমণে করোনা ঝুঁকি কম হয়ে থাকে।  উড়োজাহাজ ভ্রমণ এবং রেস্তোরাঁয় খেতে যাওয়া ও কেনাকাটার ক্ষেত্রে মাস্ক পরা এবং সামাজিক দূরত্বের নিয়মগুলি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কিনা, তা না জেনে তুলনা করা যায় না বলে জানিয়েছেন কিছু বিজ্ঞানী।

বিজ্ঞাপন

হার্ভার্ড টি এইচ চ্যান স্কুল অফ পাবলিক হেলথ প্রকাশিত ‘এভিয়েশন পাবলিক হেলথ ইনিশিয়েটিভ’ শীর্ষক সমীক্ষার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি।

গবেষকদের দাবি, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা অনুসরণে উত্সাহিত করা হলে উড়োজাহাজের যাত্রীদের কোভিড-১৯ সংক্রমণের হার অনেকাংশে কমে যায়।

উড়োজাহাজগুলিতে বায়ুচলাচল সিস্টেম বায়ু সরবরাহকে নিয়মিতভাবে সঞ্চালিত করায় এবং হাই ইফিসিয়েনসি পার্টিকুলেট এয়ার(এইচইপিএ) এর মাধ্যমে ফিল্টারিংয়ের কারণে স্বচ্চ বাতাস প্রবাহিত হওয়ায় করোনা সংক্রমণের হার অনেক কম হয়।

বিজ্ঞাপন

তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (এমআইটি) গবেষকরা দাবি করেছেন, হাই ইফিসিয়েনসি পার্টিকুলেট এয়ার(এইচইপিএ) ফিল্টার খুবই ভালো তবে উড়োজাহাজে তেমন কার্যকরভাবে কাজ করে না, যেমনটা ওই রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, মাস্ক পরা, উড়োজাহাজ ও বিমানবন্দরে পর্যাপ্ত বায়ুপ্রবাহ নিশ্চিত করা এবং উড়োজাহাজ নিয়মিত পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করার নির্দেশনা আছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও সচেতনতার কথাও বলা হয়েছে সমীক্ষায়।

এতে বলা হয়, ‘এয়ারলাইন্স ও বিমানবন্দরগুলো যাত্রাপথে রোগের সংক্রমণ কমাতে বিভিন্ন ব্যবস্থার বিষয়ে জনগণকে জানাতে প্রচারণা চালাচ্ছে। এর মধ্যে আছে- বুকিং দেওয়ার সময়, চেক-ইন করতে, বোর্ডিং ও উড়োজাহাজের ভেতরে জনস্বাস্থ্য ও সুরক্ষা সম্পর্কিত তথ্যাদি সম্পর্কে জানানো। এ ছাড়া, ভ্রমণের সময় সম্ভাব্য সংক্রমিত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইসোলেশনে নেওয়ার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় কেবিন ক্রুদের।’

হার্ভার্ড টি এইচ চ্যান স্কুল অফ পাবলিক হেলথের ওই গবেষণায় বলা হয়, তবে করোনা সংক্রমণের ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে দুরত্ব বজায়ে রাখার বিষয়টি অনেকটা নিরর্ভর করে।  আক্রান্ত ব্যক্তির পাশে বসলে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি হবেই।

বিশ্বব্যাপী প্রায় সাড়ে চার কোটি মানুষের করোনা আক্রান্তের সময় গত সপ্তাহে এ সমীক্ষাটি প্রকাশিত হয়।