চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

উন্নয়ন কাণ্ডে অপচয় বন্ধে অর্থমন্ত্রীর তাগিদ

জনতা ব্যাংকে ‘মুজিব কর্নার’ উদ্বোধন

দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অপ্রয়োজনীয় অপচয় বন্ধ করার তাগিদ দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। একইসঙ্গে উন্নয়নের জন্য সক্ষমতার সবটুকু কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।

রোববার রাজধানীর মতিঝিলে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ভবনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মরণে তৈরি ‘মুজিব কর্নার’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

অর্থনৈতিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অপচয় বন্ধ করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশ। তবে আরও বেশ কয়েক বছর জনমিতিক সুবিধা ভোগ করবে বাংলাদেশ। এই সুবিধা কাজে লাগিয়ে উন্নয়ন-অগ্রগতিকে টেকসই করতে হবে।

মৃত্যুঞ্জয়ী বঙ্গবন্ধু এখনও আমাদের পথ-নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, তিনি (বঙ্গবন্ধু) আমাদেরকে ভৌগোলিক মুক্তি দিয়েছেন। তার দেখানো পথেই অর্থনৈতিক মুক্তি পেয়েছি আমরা।

‘‘বিশ্বাস, আস্থা ও অর্জনের মাসে আমাদের শপথ হোক সামনে এগিয়ে যাওয়ার। এ মাসে জাতির পিতার জন্ম, এ মাসে আমরা গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেছি, এটা সেলিব্রেশন মাস। এ মাসে জাতির পিতা ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন, যা বিশ্বের সর্বকালের সেরা ভাষণ।’’

জনতা ব্যাংকের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আজকে উদযাপনের দিন তাই বেশি কিছু বলতে চাই না। শুধু এটুকু বলতে চাই, এই ব্যাংকটির ব্যালেন্স শিটে রিফ্লেকশন নেই, এটা আশাব্যঞ্জক নয়। সে বিষয়ে ব্যাংকে গিয়ে আলোচনা হবে। তবু জনতা ব্যাংক হোক জনতার, এ মাসে আমাদের শপথ হোক আয় বাড়ানোর, অপচয় ও দুর্নীতি কমানোর।

জনতা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ভবনে মুবিজ কর্নার

ব্যাংকে গ্রাহকদের সেবার বিষয়ে মোস্তফা কামাল বলেন, শহরে কিংবা গ্রামে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না। সবাই ব্যাংক থেকে সমান সেবা পাবেন। সেই দিকে খেয়াল রাখতে হবে। জাতির পিতা যেই উদ্যোগ যেখানে রেখে গেছেন সেখান থেকে আমাদের শুরু করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

অর্থমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর ম্যূরাল তৈরি করেছেন। এটা ভাল উদ্যোগ। আশাকরি এই যুগান্তকারী উদ্যোগ এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে ছড়িয়ে পড়বে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জনতা ব্যাংকের নাম রেখেছিলেন উল্লেখ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বলেন, জাতির পিতার দেয়া নাম জনতা ব্যাংক। এ ব্যাংককে হতে হবে জনতার, এজন্য আরও কাজ করতে হবে। বিশেষ করে মূলধন ঘাটতির দিকে নজর দিতে হবে। খেলাপি ঋণের বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। তবে আমানত ভাল আছে। ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে আমানতে।

এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দেয়া প্রণোদনার বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে হবে, বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও এসএমই ঋণ বিতরণে আরও অবদান রাখতে হবে।

গভর্নর বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ আমাদের স্বাধীনতার ও অর্থনৈতিক মুক্তির ভাষণ। অনেকে ভুল করে বলেন, ‘হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি’ বঙ্গবন্ধু। কিন্তু বাস্তবে তিনি হাজার নয়, ‘সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি’।

জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. এস এম মাহফুজুর রহমান বলেন, করোনার মধ্যেও প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশের অর্থনীতি যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তা বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে।

তবে আমরা সব দিক থেকে ভালো অবস্থানে নেই, এখন সবগুলো ওভারকাম করতে চাই। বলতে দ্বিধা নেই, আমরা খেলাপি ও ক্ষুদ্র ঋণে অনেক পিছিয়ে আছি। গত এক বছরে কোভিড-১৯ আমাদের কাজে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। গ্রাহক সেবায়ও হয়তো কিছুটা পিছিয়ে আছি। এক্ষেত্রে আরো কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠান শেষে জনতা ব্যাংক প্রধান কার্যালয় ভবনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মরণে ‘মুজিব কর্নার’ উদ্বোধন করা হয়।

মুজিব কর্নারে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ, তার অমর বাণী, ৬ দফা, ব্যবহারের জিনিস, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের নামকরণ ইত্যাদি স্থান পেয়েছে।

জনতা ব্যাংকের এমডি ও সিইও আব্দুছ ছালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আসাদুল ইসলাম প্রমুখ। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।