চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

উদ্দেশ্যবাজরা কেন মসজিদ কমিটিতে ঠাঁই পায়?

মসজিদ কমিটি, ইসলামিক ফাউন্ডেশন মসজিদ ও ইসলামের নামে কী করছে কতিপয় উদ্দেশ্যবাজ? যখন সংবাদপত্রে মসজিদ কমিটির সভাপতি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই মসজিদের বরাদ্দ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে তখন কি সেটা মসজিদ, ইসলাম তথা ধর্মের অবমাননা হয় না? কেন মসজিদ কমিটির সভাপতি হতে চাওয়া? তা নিশ্চয়ই ধর্মের সেবা করার জন্য৷ মসজিদ পরিচালনা কমিটির কাজ হলো, মসজিদের বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহার, মসজিদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও সততার সাথে উন্নয়নকর্ম পরিচালনা প্রভৃতি৷ ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, মসজিদ কমিটির পদকে নেতৃত্ব মনে করা চরম ভুল। মসজিদ কমিটির কোন পদে নির্বাচিত হলে এটাকে নিছক খেদমত মনে করা দরকার।

তাই দুনিয়ার কোনো চাওয়া-পাওয়া ব্যতিরেকে মুক্তমনে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের ইচ্ছায় ইবাদত মনে করে খেদমতের মানসিকতা নিয়ে কমিটিতে অংশ নিতে হয়। সামাজিক পদমর্যাদা বৃদ্ধির অভিলাষে কমিটিতে যোগ দেওয়া হারাম৷ তাদের কাজ হলো, মসজিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ও উপার্জনের হেফাজত করা। শরিয়ত অনুমোদিত প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় করা।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

অপ্রয়োজনীয় ও শরিয়তে অনুমোদিত নয় এমনসব খাতে সম্পদের ব্যয় না করা। কিন্তু দেখা যাচ্ছে,অনেক মসজিদেই আজকাল শরিয়ত অনুমোদনবিহীন খাতে ব্যয়ের প্রবণতা বেড়েছে। এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তবু তাই ঘটে চলেছে৷

বাড়ছে পদলিপ্সা৷ মসজিদ কমিটির সভাপতি হওয়ার জন্য প্রতিপক্ষকে খুন করতেও বিবেকে বাধছেনা অনেকের৷ জামালপুরের একটি মসজিদে এমনই একটি ঘটনা ঘটলো৷ কমিটি পরিবর্তন আর পুরাতন সভাপতি পদ আঁকড়ে থাকার দ্বন্দ্বে একজন মুসল্লীকে প্রাণ দিতে হল৷ প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক প্রদত্ত ইমাম মুয়াজ্জিনদের বরাদ্দ আত্মসাত করলো ইসলামিক ফাউন্ডেশনের একজন কর্মকর্তা৷ সংবাদপত্রে প্রতিনিয়তই এসব আত্মসাতের খবর বেরোচ্ছে৷ বরাদ্দ যতো বাড়ছে দুর্নীতিও ততো বাড়ছে৷ আর সেজন্যই বেড়ে চলেছে পদ লিপ্সা৷ কোটি টাকার বরাদ্দ নিজের হাতে খরচ করলে কয়েক লাখ টাকা নয়-ছয় করা যাবে সে উদ্দেশ্যেই কি এসব পদলিপ্সা নয়? বিনা উদ্দেশ্যে ও সেবার মানসিকতা নিয়ে আর কতজন মসজিদ কমিটির এসব দায়িত্ব নিতে চাইবে? আর কেইবা তখন পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী পদপ্রার্থীকে খুন করতে প্রয়াসী হবে?

রংপুরের মিঠাপুকুরে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের নামে বরাদ্দ আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে। অস্তিত্বহীন মসজিদ, ভুয়া মোবাইল নম্বর এবং ভুয়া নাম দিয়ে অভিনব কায়দায় বরাদ্দগুলো হাতিয়ে নিয়েছে তারা। পরবর্তীকালে জনরোষ থেকে বাঁচতে উপজেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশন কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে গা ঢাকা দিয়েছেন এসব কর্মকর্তারা। এসব কর্মকর্তা ইসলাম সেবার দোহাই দিয়ে নিজেরাই কি ইসলামের বিরুদ্ধে দাঁড়াচ্ছেনা? এসব কর্মকাণ্ড কি ধর্মীয় অবমাননার পর্যায়ে পড়েনা? এর ব্যখ্যায় কী বলবেন ইসলামী চিন্তাবিদগণ?

বিজ্ঞাপন

অভিযোগ উঠছে, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, মসজিদ পরিচালনা কমিটি, প্রকল্প কমিটি ও ইমামদের বিরুদ্ধেও৷ এসব দায়িত্বে বসে কে কেমন দায়িত্ব পালন করছে?

সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের একটি মসজিদে বৈদ্যুতিক বিস্ফোরণ মুসল্লীদের প্রাণহানির কারণ হয়েছে৷ জানা গেছে, এই মসজিদের মধ্যে ২টি বিদ্যুৎলাইন, যার একটি অবৈধ আর অপরটি বৈধ৷ একটি মসজিদের কমিটি কি এই কাজের মাধ্যমে মসজিদ ও ধর্মের পবিত্রতাকে স্বাগতম জানালো না অপবিত্রতাকে? এই অবৈধ লাইনকে কেন তারা স্বীকৃতি দিলো? এই মসজিদটি নির্মাণে সিটি কর্পোরেশন, ইউনিয়ন পরিষদ ও রাজউক কারও অনুমতি নেয়া হলোনা? কেন মসজিদের কি এসব অনুমোদন লাগেনা?

৪ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ৯টার দিকে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার পশ্চিম তল্লা এলাকার বাইতুস সালাত জামে মসজিদে বৈদ্যুতিক বিস্ফোরণে অনেক মুসল্লী মৃত্যুবরণ করেন।অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন অনেকেই। এর দায় কে নেবে? বিদ্যুৎ বিভাগ, তিতাস না মসজিদ কমিটি?এখানে অবৈধ লাইন নেয়া হল এটা কি বিদ্যুৎ বিভাগ, মসজিদ কমিটি জানতো না? জেনে চুপ থাকা ও না জানা দুটোই কি দোষনীয় নয়? মসজিদ কমিটি অবৈধ লাইন নিলো ইমাম, মুয়াজ্জিন ও কোন মুসল্লিওতো তার কোনো প্রতিবাদ করলোনা? কেন তারা কি কেউই তা জানতোনা? মসজিদ আল্লাহর ইবাদতের স্থান৷ এখানে এসিটা কি খুব জরুরি ছিল? বিশাল অট্টালিকার এসি রুমে নামাজ পড়লে কি পূণ্য  বেশী হবে আর সাদামাটা ঘরে নামাজ পড়লে পূণ্য  কম হবে?

মসজিদ কমিটিগুলো মুখিয়ে থাকে বরাদ্দের জন্য৷ বরাদ্দ পেলে চালু মসজিদ তারা ভেঙ্গে দেয়৷ সমপরিমাণ জায়গাতেই ব্যবহার যোগ্য মসজিদ ভেঙ্গে নির্মাণ করে নতুন মসজিদ৷ এগুলো কি অপ্রয়োজনীয় ব্যয় নয়? কেন আগের মসজিদে নামাজ পড়লে কি আল্লাহ কবুল করতেন না?মসজিদে দান অনুদান দেয়াটাও এখন ফ্যাশান হয়ে উঠছে৷ কার চেয়ে কে বেশি দিতে পারে এ যেন তারই প্রতিযোগিতা৷ ঈদের দিনের আনন্দ ম্লান হয়ে যায় এসব প্রতিযোগিতায়৷ কে বড় কে ছোট তা দৃশ্যমান হয় ঈদের জামাতেও৷ তখন সামর্থ্যহীনকেও দেখা যায় লোকলজ্জার ভয়ে অনুদান ঘোষনা করতে৷ মসজিদ পরিচালনা বিষয়ক একটি নীতিমালা করা উচিত৷

অপ্রয়োজনীয় খাতে বরাদ্দ বাদ দিয়ে প্রয়োজনকেই গুরুত্ব দেয়া উচিত৷ আর কোনগুলো প্রয়োজন কোনগুলো প্রয়োজন নয় সেগুলোও উল্লেখ থাকতে পারে নীতিমালায়৷ আর অসৎ উদ্দেশ্যবাজরা কেন মসজিদ কমিটিতে ঠাঁই পাবে তাদের উদ্দেশ্য হাসিল করতে? আশা করি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সেদিকে দৃষ্টি দিবেন ও অসাধু উদ্দেশ্যবাজদের মসজিদ কমিটিতে অন্তর্ভূক্ত হওয়ার সুযোগ বন্ধ করবেন৷

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)