চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

উদারভিত্তিক মানদণ্ডে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন হতে হবে: ফেল্টম্যান

জাতিসংঘের রাজনৈতিক বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জেফ্রি ফেল্টম্যান বলেছেন, মিয়ানমার সঙ্কটের সমাধানে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে যোগ্যতার মানদণ্ড উদারভিত্তিক হতে হবে। সকল প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘের অভিজ্ঞতাকেও কাজে লাগাতে হবে। জেফ্রি ফেল্টম্যান জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে জাতিসংঘ মহাসচিবের পক্ষে মিয়ানমার পরিস্থিতির উপর এক বিবৃতি এ কথা বলেন।

মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে মিয়ানমার সংকটে ইতিপূর্বে গৃহিত প্রেসিডেন্সিয়াল স্টেটমেন্ট’র সিদ্ধান্ত অনুযায়ি আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জেফ্রি এ বিবৃতি প্রদান করেন।

বিজ্ঞাপন

নিরাপত্তা পরিষদের চলতি ডিসেম্বর মাসের সভাপতি জাপানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় পরিষদটির সদস্য দেশসমূহের বাইরে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকেও বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়। এছাড়াও নিরাপত্তা পরিষদের এ সভায় সংঘাতময় পরিস্থিতিতে যৌন সহিংসতা বিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধি মিজ প্রমীলা প্যাটেন বক্তৃতা করেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জেফ্রি ফেল্টম্যানের বিবৃতিতে মিয়ানমার সঙ্কটের সমাধানে বেশকিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে। সুপারিশমালার মধ্যে রয়েছে, রাখাইন স্টেটের অ্যাডভাইজরি কমিশনের সুপারিশমালাকে ভিত্তি ধরে শান্তিপূর্ণ ও স্থায়ীভাবে বাস্তুচ্যুতদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা, প্রত্যাবাসন হতে হবে উচ্ছেদকৃতদের মূল ভূমিতে বা পছন্দনীয় কাছাকাছি কোন স্থানে এবং প্রত্যাবাসনকৃতদের অবাধ চলাফেরার স্বাধীনতা থাকতে হবে যাতে তারা জীবন ধারণের মৌলিক প্রয়োজনগুলো সংস্থান করতে পারে।

গত ৬ নভেম্বর নিরাপত্তা পরিষদ মিয়ানমার পরিস্থিতির উপর সর্বসম্মতিক্রমে প্রেসিডেন্সিয়াল স্টেটমেন্ট গ্রহণ করে এবং জাতিসংঘ মহাসচিবকে স্টেটমেন্ট গ্রহণের ৩০ দিন পর নিরাপত্তা পরিষদে বিবৃতি প্রদানের অনুরোধ জানানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে মহাসচিবের পক্ষে এ বিবৃতি প্রদান করা হয়।

এ বৈঠকে,বাংলাদেশের পক্ষে জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘প্রতিদিন গড়ে ১০০ থেকে ৪০০ জন বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। এতে প্রতীয়মান হয় যে, রাখাইন প্রদেশের উত্তরাঞ্চলে পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক পর্যায়ে আসেনি।’ সম্প্রতি উত্তর ও মধ্য রাখাইন প্রদেশের কোন কোন অঞ্চলে রোহিঙ্গাদের বসতবাড়িতে অগ্নিকান্ডের ঘটনায়ও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

গত ২৩ নভেম্বর বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সম্পাদিত দ্বিপাক্ষিক চুক্তির বিষয়ে রাষ্ট্রদূত আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘এ চুক্তির শর্তানুযায়ী শীঘ্রই জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠিত হবে এবং মিয়ানমারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হবে’।

তিনি বলেন, এ দ্বি-পাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে কেবল প্রত্যাবাসনের কাজটি করা সম্ভব হতে পারে কিন্তু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মানবিক দূর্দশার যে মূল কারণ তা দূর করতে এতদসংশ্লিষ্ট বহুবিধ বিষয় ও অমীমাংসিত প্রশ্নগুলো মিয়ানমারকেই সমাধান করতে হবে। রাষ্ট্রদূত বলেন, এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত সহাযোগিতা ও পর্যবেক্ষণ একান্তভাবে প্রয়োজন, আর তা করতে হবে অসহায় রোহিঙ্গাদের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে।

স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন, রাখাইন প্রদেশের বাস্তুচ্যুত অসহায় নাগরিকদের মানবিক সহায়তা প্রদান, সহিংসতার নিরপেক্ষ এবং স্বাধীন তদন্ত ও বিচার, রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবর্তন এবং অন্যান্য সম্প্রদায়ের সাথে একত্রে বসবাস উপযোগী পরিবেশ তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেন।

নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিগণ রোহিঙ্গাদের অব্যাহতভাবে মানবিক সহায়তা প্রদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।

বিজ্ঞাপন