চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ
Partex Group

উচ্চ শিক্ষাঙ্গনে সাম্যভাব বিরাজ করুক

বিজ্ঞাপন

মহামারি করোনার প্রকোপে ১৭ মাস বন্ধ থাকার পরে গতবছরের অক্টোবর মাস থেকে দেশের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় খুলতে শুরু করে। দীর্ঘদিনের যথাযথ শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে দূরে থাকা শিক্ষার্থীরা ফিরে পায় তাদের স্বাভাবিক শিক্ষা জীবন। করোনার প্রকোপ আবার বাড়তে থাকায় সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, সেইসঙ্গে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছু অনাকাঙ্খিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে উচ্চ শিক্ষাঙ্গন।

সিলেটের ঘটনা শুধু সিলেটে সীমাবদ্ধ থাকছে না, ধীরে ধীরে তা ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে একাত্বতা ঘোষণা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিজেদের ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করেছে গত কয়েকদিন ধরে।

pap-punno
Bkash May Banner

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়েকদিন ধরে অনশনে থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে কেউ কেউ প্রচণ্ড শীতে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের মধ্যে অন্তত ২০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন কর্মসূচি চলবে জানিয়ে শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপ না দিতে সব মহলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তারা। শিক্ষামন্ত্রীসহ রাজনৈতিক অনেক নেতারা বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করে যাচ্ছেন, অন্যদিকে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য তার অবস্থানে অনেকটা অনঢ়! সবমিলিয়ে একটি অস্বস্তিকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে দেশের শিক্ষাঙ্গনে।

শিক্ষাঙ্গনে অস্থিরতা বিরাজ করলে তা দেশের শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি চরম হুমকি হিসেবে গণ্য হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বন্দ্ব-বিবাদ, ক্লাস বর্জন, অবস্থান ধর্মঘটসহ নানা কর্মসূচিতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় শিক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষার মান। সেশনজট বেড়ে যাওয়াসহ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে সমাজে খারাপ ধারণা তৈরি হয়ে থাকে এসব পরিস্থিতিতে। অতীত ও বর্তমানের ঘটনায় আরেকটি বিষয় লক্ষ্যনীয় যে, কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ধরণের পরিস্থিতি তৈরি হলেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সেখানে দেশের প্রধানমন্ত্রীর নাম নেন বা প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তে তাদের ভবিষ্যত পদক্ষেপ হবে উল্লেখ করে একটি রাজনৈতিক রূপ দিয়ে ফেলেন। কিছুদিন আগে রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে বর্তমানে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়েও এরকম দেখা গেছে। এতে করে আন্দোলন করা, দাবি তোলা নয়তো সাধারণ জনগণ ওই ঘটনায় সরকারের সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পান, সরকারকে ভিলেন হিসেবে দেখে থাকেন। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজ নিজ অধ্যাদেশে পরিচালিত।

আরেকটি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ, তা হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের বাইরে পরিচালিত নানা উন্নয়ন-অবকাঠামো বিষয়ক টেন্ডার নিয়ে নানা ঘটনা ঘটছে। যেগুলোতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা আলোচিত হচ্ছে। এবিষয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদি নিয়ম-নির্দেশনা প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি। বিশ্ববিদ্যালয় কমিশনের সাথে অবকাঠামো বিষয়ক বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে ওইসব দায়িত্ব দিয়ে উচ্চ শিক্ষাকে একটি যথাযথ উচ্চতায় রাখা যেতে পারে। আমাদের আশাবাদ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করছেন, অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমানের সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি ভবিষ্যতে যেনো কোনো অরাজক পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেবিষয়ে তারা কার্যকরী পদক্ষেপ নেবেন।

বিজ্ঞাপন

Bellow Post-Green View