চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

উচ্চ মাধ্যমিকে দুই লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর ঝড়ে পড়ায় নীতি নির্ধারকদের গাফিলতি রয়েছে

মাধ্যমিকে উত্তীর্ণ হয়েও এবার ২ লাখ ৪২ হাজার ৪২ শিক্ষার্থী একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হতে এখনও আবেদন করেননি, যাদের বেশিরভাগই ঝরে পড়বে বলে বোর্ড কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন।

গণমাধ্যম থেকে জানা এ তথ্যে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ। ছাত্র ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ মনে করেন, উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে দুই লক্ষাধিক শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার সম্ভাবনায় সরকার সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের গাফিলতি আছে।

সভাপতি নজির আমিন চৌধুরী জয় ও সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম অনিক এক যৌথ বিবৃতিতে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া নিয়ে এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

শনিবার ২৫ মে সকালে যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ”আমরা সব সময়ই সর্বজনীন,গণমুখী, বিজ্ঞানভিত্তিক ও বৈষম্যহীন শিক্ষা ব্যবস্থার দাবি করেছি। কিন্তু বাংলাদেশ রাষ্ট্র নিপীড়ণমূলক-সাম্প্রদায়িক শিক্ষা কাঠামো, নীতি অনুসরণ করছে।

এরই ফলশ্রুতিতে এ বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। অচিরেই এসব নীতির পরিবর্তন না করলে সারা দেশের শিক্ষার্থীরা এসব নীতিসংস্লিষ্ট কাঠামো ও মন্ত্রণালয়ের আমলাতন্ত্র ছুঁড়ে ফেলবে।”

বিজ্ঞাপন

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ‘ব্যাপক জনগোষ্ঠী শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত। দেশে শিক্ষা পরিণত হয়েছে পণ্যে। সেইসাথে যারা মাধ্যমিক পেরিয়ে উচ্চ মাধ্যমিকে শিক্ষার অধিকারের দাবি রাখে তাদেরকে সুকৌশলে শিক্ষাজীবন থেকে সরিয়ে ফেলা হচ্ছে।’

তারা দাবি করেন, কলেজের আসন সংকটের সমাধান করে এবং শিক্ষার্থীবান্ধব শিক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের অচিরেই কলেজে পড়ার অধিকার দিতে হবে।

গতকাল ২৪ মে ঢাকা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক মো. হারুন-আর-রশিদ জানান, ২৩ মে মধ্যরাত পর্যন্ত ১৪ লাখ ১৫ হাজার ৮২৫ জন শিক্ষার্থী কলেজে ভর্তি হতে অনলাইন ও এসএমএসের মাধ্যমে আবেদন করেছেন। তবে এ বছর মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় ১৭ লাখ ৪৯ হাজার ১৬৫ শিক্ষার্থী পাস করেছেন। শিক্ষার্থীদের একটা বড় অংশ এখনো আবেদন করেননি।

ঢাকা বোর্ডের এ কলেজ পরিদর্শক বলেন, ‘যারা আবেদন করেননি তাদের অনেকেই শিক্ষা জীবন থেকে ঝরে পড়বে। এর মধ্যে কেউ কেউ দেশের বাইরেও পড়তে যাবেন’। তবে কলেজে ভর্তি প্রক্রিয়ার দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ে কিছু শিক্ষার্থী একাদশে ভর্তি হতে আবেদন করবেন বলে মনে করছেন তিনি।

কলেজ পরিদর্শক জানান, এবার কলেজে ভর্তি হতে ১০ লাখ ৫২ হাজার ১৮৪ জন অনলাইন এবং ৩ লাখ ৭৪ হাজার ২২২ জন এসএমএসের মাধ্যমে আবেদন করেছেন।