চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

উচ্চ আদালতের রায় গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষিত করেছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, উচ্চ আদালতই রায় দিয়ে এদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষিত করে দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের নবনির্মিত ১২তলা ‘বিজয়-৭১ ভবন’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

Reneta June

এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিচারহীনতার একটি সংস্কৃতি দেশে চালু করা হয়েছিল। সে অবস্থার পরিবর্তন করতে পেরেছি যখন জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকারে এসেছি তখন। অনেক বাধা অনেক কিছুই আমাদের মোকাবিলা করতে হয়েছে। এক্ষেত্রে আমি ধন্যবাদ জানাই বিচারকদের সাহসী পদক্ষেপের জন্য।’

বিজ্ঞাপন

সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ বাস্তবায়নের জন্য গৃহীত পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার বিচার বিভাগের জন্য আলাদা বাজেট বরাদ্দ করেছে এবং বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করার জন্য প্রয়োজনীয় বিধিমালা প্রণয়ন করেছে। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর বিচার বিভাগকে আরো শক্তিশালী করতে এবং সংবিধানের কার্যকারিতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছেন।

দেশের সংবিধান লঙ্ঘন করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলকারী সরকারগুলোকে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেয়ার জন্য বিচারপতিদের সাধুবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উচ্চ আদালত রায় দিয়ে এদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষিত করে দিয়েছে।’

সুপ্রিম কোর্ট জাজেস স্পোর্টস কমপ্লেক্সে উপস্থিত হয়ে অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বলেন, ‘আমরা জানি পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি দেশের উচ্চ আদালতই নিজ নিজ দেশের সংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ উত্তরাধিকার বহন করে চলেছে। আমাদের সুপ্রিম কোর্টও এর ব্যতিক্রম নয়। এর ইমারতগুলো কেবল বিচারের চিরায়ত পবিত্রতা ও ভাব গাম্ভীর্যের প্রতিকই নয়, সেগুলোর প্রতিটি ইট-পাথরের সাথে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে আছে অসংখ্য আইন ও সাংবিধানিক ইতিহাস। আমাদের পুরাতন হাইকোর্ট ভবন ও প্রধান ভবনের ঐতিহাসিক তাৎপর্য রয়েছে। আজ যে বিজয় ৭১ ভবনটি হলো এটাতেও সুপ্রিম কোর্টের স্থাপত্য রীতি অনুসরণ করা হয়েছে।’

প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, ‘বিচারকগণ তাদের সাধ্যমতো চেস্ট করে যাচ্ছেন সততা, মেধা ও শ্রম দিয়ে মামলার জট কমিয়ে দুর্দশাগ্রস্ত ফিচার প্রার্থীদের যত দ্রুত সম্ভব ন্যায় বিচার দিয়ে বাড়ি ফেরাতে। আদালত প্রাঙ্গণে বিচারপ্রার্থী মানুষের দুর্দশার সুযোগ নেয়াকে বরদাস্ত করা হবে না।’

গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে আজের অনুষ্ঠানের সভাপতি আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন: ‘সর্বক্ষেত্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব রাষ্ট্রের সকল অঙ্গ প্রতিষ্ঠানের হলেও, বিচার বিভাগ এক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। ১৯৭২ সালে হাইকোর্ট বিভাগে মাত্র ১০ জন এবং আপিল বিভাগে ৩ জন বিচারক নিয়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট যাত্রা শুরু করেছিল। গর্বের সাথে বলতে হয় ১৯৭২ সালের সেই ১৩ জন বিচারকের থেকে বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের ৯৪ জন বিচারক নির্ভয়ে ও স্বাধীনভাবে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। যার ফলে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা, জেলহত্যা মামলা, ১৯৭১-এর মানবতা বিরোধী অপরাধ ও ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল মামলার বিচার করে দেশ থেকে বিচারহীনতার সংষ্কৃতি দূর করতে সক্ষম হয়েছেন। পঞ্চম ও সপ্তম সংবিধান সংশোধন আইন বাতিলের সাহস দেখিয়েছেন।’

আজকের অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ও আইন সচিব মো. গোলাম সারওয়ার। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এবং আইনজীবীরা।

সুপ্রিম কোর্টের এনেক্স ভবনের পশ্চিম পাশে ১৮ হাজার ১৩৪ বর্গমিটার জায়গায় নির্মিত হয়েছে
১২তলা ‘বিজয়-৭১ ভবন।’ এই ভবনে রয়েছে বিচারপতিদের জন্য ৫৬টি চেম্বার, ৩২টি এজলাস কক্ষ (কোর্ট রুম), আলাদা দুটি লিফট, আধুনিক জেনারেটর ও দোতলায় বিদ্যুতের সাব-স্টেশন। এ ছাড়া ভবনে ২০টি অফিসকক্ষ এবং সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের দাপ্তরিক কক্ষ রয়েছে।