চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

উচ্চশিক্ষায় ‘লীলা নাগদের’ জয়রথ ছুটছেই

সকল প্রতিবন্ধকতা পায়ে ঠেলে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশের নারীরা। এক সময়ে ‘অন্দরমহলে বন্দী’ থাকা নারীর পদচারণা আজ সবক্ষেত্রে। জাতীয় জীবন ও অর্থনীতিতে তারা রাখছে গুরুত্বপুর্ণ অবদান। সংখ্যায় কম হলেও ভুমিকা রাখছে রাজনীতি এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়েও।

বিজ্ঞাপন

শিক্ষাবিদরা বলছেন, নারীদের এগিয়ে চলার মূলে রয়েছে শিক্ষা। নারীদের আমরা যত বেশি শিক্ষিত করে তুলতে পারবো, জাতীয় জীবনে তাদের অংশগ্রহণ তত বাড়বে। জাতি হিসেবে আমরা পাবো সুফল।

শিক্ষাক্ষেত্রে যে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ছে এবং তারা এগিয়ে চলেছে তার প্রমাণ মিলছে সাম্প্রতিক জরিপগুলোতেও। জেনেভা ভিত্তিক বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের এক প্রতিবেদনে প্রাথমিক শিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণের সূচকে এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মধ্যে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। মাধ্যমিক শিক্ষায়ও নারীর অংশগ্রহণের সূচকে এই অঞ্চলের প্রথম ১০টি দেশের একটি বাংলাদেশ।

কেবল প্রাথমিক, মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়েই নয় উচ্চশিক্ষায়ও নারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। অর্জন এবং ভালো ফলাফলে তাঁরা কোন কোন ক্ষেত্রে ছাপিয়ে যাচ্ছে পুরুষ শিক্ষার্থীদেরকে।

জ্ঞান-বিজ্ঞানে পিছিয়ে থাকা অবহেলিত বাঙালি জাতির মধ্যে শিক্ষার আলো জ্বালাতে ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রা শুরু করেছিল মাত্র ৮৭৭ জন শিক্ষার্থী নিয়ে। যার মধ্যে লীলা নাগই ছিলেন একমাত্র নারী শিক্ষার্থী।

কিন্তু শতবর্ষের দাঁড়প্রান্তে দাঁড়িয়ে সেই বিশ্ববিদ্যালয় তার ৫০ তম সমাবর্তনে তার নিজস্ব এবং অধিভুক্ত কলেজসমুহের মোট ১৮ হাজার ৭৭৫ জন গ্রাজুয়েটের হাতে সনদ তুলে দিল। যার মধ্যে ৩৩ শতাংশই লীলা নাগের উত্তরসূরী নারী শিক্ষার্থী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি অফিসের তথ্য অনুযায়ী প্রতি বছরই বাড়ছে নারী শিক্ষার্থীদের হার।

পুরুষ শিক্ষার্থীদের তুলনায় সংখ্যায় কম হলেও ভালো ফলাফল এবং অর্জনে নারী শিক্ষার্থীরা আরও এগিয়ে। সর্বশেষ সমাবর্তনে সেরাদের সেরা হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বিভিন্ন অনুষদ ও ইনস্টিটিউটের ৯৪টি স্বর্ণপদক জিতেছেন ৮০ জন। যার মধ্যে নারী শিক্ষার্থীরা জিতে নিয়েছেন ৪১টি পদক। শতকরা হিসেবে যা প্রায় ৪৪ শতাংশ।

শিক্ষাক্ষেত্রে নারীদের এ এগিয়ে চলাকে খুবই ইতিবাচকও আশা জাগানিয়া হিসেবে উল্লেখ করেছেন শিক্ষাবিদ এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী।

চ্যানেল আই অনলাইনকে তিনি বলেন, ‘অসংখ্য প্রতিকূলতা এবং প্রতিবন্ধকতা থাকার পরেও উচ্চ শিক্ষায় নারীদের এ অর্জন খুবই ইতিবাচক। যা সত্যিই জাতি হিসেবে আমাদের মনে আশা জাগায়।’

উচ্চশিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়লেও প্রাথমিক এবং মাধ্যমিকের তুলনায় তা খুবই কম। এ বিষয়টির ওপর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সাবেক এ উপদেষ্টা বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যে মেয়েরা আসছে তার অধিকাংশই মধ্যবিত্ত শ্রেণি থেকে উঠে আসা। এখন আমাদের নজর দিতে হবে নিম্ন-মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত শ্রেণির দিকে। সে শ্রেণির মেয়েরাও যাতে উচ্চশিক্ষায় সমানভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ পায় সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের আরও বেশি নজর দিতে হবে।

বিজ্ঞাপন

Bellow Post-Green View