চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

উইন্ডিজকে হোয়াইটওয়াশ করে দাপটের পূর্ণতা টানল বাংলাদেশ

দশ মাসের করোনা বিরতির পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার সিরিজ প্রত্যাশিত সাফল্যে রাঙাল বাংলাদেশ। খর্বশক্তির ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হোয়াইটওয়াশ (৩-০) করে আইসিসি সুপার লিগের পূর্ণ ৩০ পয়েন্ট নিজেদের করে নিয়েছে টিম টাইগার্স।

সোমবার চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সিরিজের শেষ ম্যাচে ক্যারিবীয়দের ১২০ রানের বড় ব্যবধানে হারায় তামিম ইকবালের দল। স্বাগতিকদের দেয়া ২৯৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে সফরকারীরা গুটিয়ে যায় দুইশর আগেই।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ-২৯৭/৬ (৫০ ওভার), ওয়েস্ট ইন্ডিজ-১৭৭/১০ (৪৪.২ ওভার)

ওয়ানডেতে তিনবার ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হোয়াইটওয়াশ করল বাংলাদেশ। দেশের মাটিতে এটিই প্রথম। আগের দু’বার ছিল উইন্ডিজের মাটিতে। ক্যারিবীয়দের টাইগাররা প্রথম হোয়াইটওয়াশ করে ২০০৯ সালে। সেবারও তাদের প্রথমসারির ক্রিকেটাররা খেলেননি।

২০১৪ সালে দুর্বারশক্তির ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হোয়াইটওয়াশ করে বাংলাদেশ। সে দলে ছিলেন গেইল, ব্রাভো, স্যামি, পোলার্ড, স্যামুয়েলসদের মতো তারকা ক্রিকেটাররা।

এবার সিরিজের ফল ৩-০ হবে সেটি প্রত্যাশিতই ছিল! তবে কাজটা এত সহজ হবে সেটি ভাবা যায়নি। নির্ভার থেকেই উইন্ডিজকে ধবলধোলাই করে ছাড়ল টিম টাইগার্স।

সফরকারী দলের ৯ ক্রিকেটারের অভিষেকের সিরিজ হেসেখেলেই জিতেছেন তামিম-সাকিবরা। শতভাগ সাফল্যে শেষ করেছেন ওয়ানডে অভিযান। টাইগারদের সামনে এবার দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ।

বিজ্ঞাপন

বন্দরনগরীতে সিরিজের শেষ ম্যাচে ২৯৮ রানের বড় লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাটসম্যানদের বোতলবন্দি করে রাখেন বাংলাদেশের বোলাররা। দলের রান তিনঅঙ্কে যাওয়ার আগেই মোস্তাফিজ-সাইফউদ্দিনরা তুলে নেন ক্যারিবীয়দের ৫ উইকেট। শেষ পর্যন্ত তারা থামে ১৭৭ রানে।

সর্বোচ্চ ৪৭ রান আসে রোভম্যান পাওয়েলের ব্যাটে। চোট কাটিয়ে ফেরা সাইফউদ্দিন নিয়েছেন ৩ উইকেট। ২টি করে উইকেট নিয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান ও মেহেদী হাসান মিরাজ। তাসকিন আহমেদ ও সৌম্য সরকার নেন একটি করে উইকেট।

কুঁচকিতে টান লাগায় বেশিক্ষণ বোলিং করতে পারেননি সাকিব আল হাসান। ৪.৫ ওভার বোলিং করে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। এ বাঁহাতি স্পিনার দেন ১২ রান।

মিরপুরের উইকেটে প্রথম দুই ওয়ানডেতে বোলাররা পেয়েছেন বাড়তি সুবিধা। ব্যাটিং ব্যর্থতার জন্য অজুহাত হিসেবে চাইলে উইকেটকে দুষতে পারেন! কিন্তু চট্টগ্রামের উইকেট তো বরাবরই রানপ্রসবা।

টস হেরে ব্যাটিং করে বাংলাদেশ রেখে গেছে সেটির প্রমাণ। তামিম-সাকিব-মুশফিক-মাহমুদউল্লাহর ফিফটিতে টাইগাররা গড়ে ২৯৭ রানের চ্যালেঞ্জিং পুঁজি।

মিরপুরে প্রথম দুই ওয়ানডেতে আগে ব্যাট করে সফরকারী দল করেছিল যথাক্রমে ১২২, ১৪৮। সাগরিকায় তিনশ ছোঁয়া লক্ষ্যে নেমে আগের সংগ্রহ টপকালেও বাংলাদেশকে একটুও চাপে ফেলতে পারেনি তারা।

তারকা ক্রিকেটারদের ছাড়া বাংলাদেশ সফরে আসা উইন্ডিজ ব্যাটসম্যানদের খেলার ধরণ বলছিল হারের ব্যবধান কমাতে ম্যাচে লড়ছেন তারা। সিরিজের ফলাফলের দিকে তাকালেই স্পষ্ট হয় সাদা বলের ক্রিকেটে কেমন খেলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, বিপরীতে কেমন দাপুটে ছিল লাল-সবুজরা।