চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ঈদে নতুন টাকার রমরমা ব্যবসা

আসন্ন ঈদকে ঘিরে নতুন জামা-জুতার মতোই এখন বিক্রি হচ্ছে মুদ্রা বা টাকা। তবে পুরাতন নয়, নতুন টাকা। অন্যসব পণ্যের মতো এটিও বিক্রি হচ্ছে মুনাফায়। এ নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে চলে দর কষাকষিও।

রাজধানীর মতিঝিল বাংলাদেশ ব্যাংকের ফটক ও গুলিস্তানসহ বেশ কয়েকটি জায়গায় দেদারসে চলছে নতুন টাকার ব্যবসা। ঈদে শিশুদের কাছে নতুন টাকার কদর বেশি থাকায় ক্রেতারা এ সময় নতুন টাকা কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়েন।

বছরজুড়ে এই ব্যবসা চললেও ঈদকে ঘিরে বেচাকেনা বেশি হয় বলে জানান নতুন টাকার ব্যবসায়ীরা। তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি বান্ডিল টাকায় থাকে একশটি নোট। নোটভেদে প্রতি বান্ডিলে মুনাফার পরিমাণও হয় ভিন্ন ভিন্ন।

দুই টাকার বান্ডিল কিনলে ক্রেতাকে অতিরিক্ত দিতে হবে ৪০ টাকা। অর্থাৎ পুরাতন ২৪০ টাকার বিনিময়ে পাওয়া যাবে নতুন ২শ টাকা। আর পাঁচ টাকার নতুন বান্ডিলের জন্য (৫শ টাকা) দিতে হবে ৫শ ৮০ টাকা। এভাবে ১০ টাকার বান্ডিল অর্থাৎ এক হাজার টাকা, ২০ টাকার বান্ডিল বা দুই হাজার টাকা, ৫০ টাকার বান্ডিল বা ৫ হাজার টাকা, একশ টাকার বান্ডিল বা ১০ হাজার টাকার জন্য অতিরিক্ত গুণতে হবে ১০০ টাকা হারে।

বাসাবাড়িতে বুয়ার কাজ করে সংসার চালালেও এখন মতিঝিলে নতুন টাকার ব্যবসা করে শাহিন আক্তার। চ্যানেল আই অনলাইনকে তিনি বলেন, একটু বাড়তি আয়ের আসায় প্রতি ঈদে নতুন টাকার ব্যবসা করি। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নতুন টাকা সংগ্রহ করতে অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়। লাইন ধরে দাঁড়াতে হয়। সপ্তাহে একদিন আঙ্গুলের ছাপ নিয়ে মাত্র ৮ হাজার ৭০০ টাকা দেয়। সেই টাকা নিয়ে ফুটপাতে এসে বসি। কিন্তু এখানেও যন্ত্রনা আছে। পুলিশ ঝমেলা করে। তারা পুরাতন টাকা দিয়ে নতুন টাকা নেয়। কিন্তু কোনো মুনাফা দেয় না।  

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু কর্মচারিদের কমিশন দিয়ে নতুন টাকা আনতে হয় বলে জানান গুলিস্তানের টাকা ব্যবসায়ী কামরুল। চ্যানেল আই অনলাইনকে তিনি বলেন, কমিশন দেয়ার পর বেশি লাভ থাকে না। তারপরও আনতে হয়। বছরজুড়ে এই ব্যবসা করি, তাই পুলিশকেও কিছু দিতে হয়।

মুনাফা কেমন হয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, অন্যান্য সময় দৈনিক ৪শ থেকে ৫শ টাকা লাভ হয়। তবে ঈদকে ঘিরে এখন বেচাবিক্রি বেশি। তাই লাভও হয় দৈনিক এক হাজার থেকে এক হাজার ৫শ টাকা বা তারও বেশি।

বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকে গিয়ে দেখা গেছে, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে নতুন টাকা সংগ্রহ করছেন সাধারণ মানুষ। গত ৮ জুন থেকে নতুন টাকার বিনিময় শুরু করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংক। আগামী ২২ জুন পর্যন্ত তারা গ্রাহককে নতুন টাকা প্রদান করবে। ব্যাংকে গিয়ে দীর্ঘ লাইন ধরে যারা টাকা নিতে অস্বস্তি বোধ করেন তারাই অতিরিক্ত টাকা দিয়ে ফুটপাত থেকে নতুন টাকা কিনেন।

মতিঝিলের ফুটপাত থেকে ৫ টাকা ও ১০ টাকার দুটি বান্ডিল কিনেছেন রায়হান মিয়া। তিনি চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ঈদ আসার আগেই ছেলে-মেয়ে ও ভাগিনা-ভাগনিদের বকশিস দিতে হয়। নতুন টাকা পেলে তারা খুশি হয় বলেই কিনলাম।

যেসব ব্যাংক ও শাখায় নতুন টাকা পাওয়া যাচ্ছে:

ন্যাশনাল ব্যাংকের যাত্রাবাড়ী শাখা, জনতা ব্যাংকের আব্দুল গণি রোড কর্পোরেট শাখা, অগ্রণী ব্যাংকের এলিফ্যান্ট রোড শাখা, সিটি ব্যাংকের মিরপুর শাখা, সাউথইস্ট ব্যাংকের কাওরান বাজার শাখা, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের বসুন্ধরা সিটি (পান্থপথ) শাখা, উত্তরা ব্যাংকের চকবাজার শাখা, সোনালী ব্যাংকের রমনা কর্পোরেট শাখা, ঢাকা ব্যাংকের উত্তরা শাখা, আইএফআইসি ব্যাংকের গুলশান শাখা, রূপালী ব্যাংকের মহাখালী শাখা, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের মোহাম্মদপুর শাখা, জনতা ব্যাংকের রাজারবাগ শাখা, পূবালী ব্যাংকের সদরঘাট শাখা, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের মালিবাগ শাখা, ওয়ান ব্যাংকের বাসাবো শাখা, ইসলামী ব্যাংকের শ্যামলী শাখা, ডাচ-বাংলা ব্যাংকের দক্ষিন খান এসএমই এন্ড এগ্রিকালচার শাখা, মার্কেন্টাইল ব্যাংকের বনানী শাখা, ব্যাংক এশিয়ার ধানমন্ডি শাখা।

বিজ্ঞাপন