চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ইয়াস: কক্সবাজারে ৩ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত

ঘূর্ণিঝড় ইয়াস ও পূর্ণিমা জোয়ারের তাণ্ডবে গত দু’দিনে কক্সবাজারের উপকূলীয় এলাকায় তিন হাজারেরও বেশি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়াও ক্ষতি হয়েছে পানের বরজ শাকসবজি এবং আউশের বীজতলা।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মামুনুর রশীদ জানিয়েছেন, উপজেলাগুলো থেকে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ পাওয়া যায়নি। দুই দিনের মধ্যে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ পাওয়া যাবে।

জেলা প্রশাসক জানান, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাব ও পূর্ণিমা জোয়ারে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে কুতুবদিয়া উপজেলা, মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী ও ধলঘাটা ইউনিয়ন সদর উপজেলার গোমাতলী ইসলামপুর ইউনিয়ন এবং সেন্টমার্টিন্স দ্বীপে।

সেন্টমার্টিন্স দ্বীপের ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ জানিয়েছেন, জোয়ারের তাণ্ডবে দ্বীপের জেটিটি বিধ্বস্ত হয়েছে। জেটির পল্টুন ভেঙে গেছে। জোয়ারের পানি ঢুকে দ্বীপের বাড়িঘর ও পর্যটন রিসোর্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জোয়ারের আঘাতে দ্বীপের চারদিকে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

জেলা প্রশাসক মামুনুর রশীদ জানান, জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে পাওয়া প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে ৭ উপজেলার ১৭ ইউনিয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাম অঞ্চল ৫৮.৪৭৬ বর্গ কিলোমিটার, ক্ষতিগ্রস্ত খানা ২ হাজার ১৮০টি, ভেসে যাওয়া পশু-প্রাণী ৬৭৬ টি, ক্ষতিগ্রস্ত ঘর ৩ হাজার ৪৭০টি, ক্ষতিগ্রস্ত শস্যখেত ৫২.৫ হেক্টর, ক্ষতিগ্রস্ত খামার ৮৫ দশমিক ৬৪ হেক্টর, ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ লাইন ১.৫ কিলো মিটার, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ২১.৫কিলোমিটার, ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ ৫.৩৬৫ কিলোমিটার, বনাঞ্চল ২৩ হেক্টর, ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩টি, ক্ষতিগ্রস্ত নলকূপ ৪৫টি।

জেলা প্রশাসক আরও জানান, কুতুবদিয়ায় আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া ৫ হাজার ৭শ’ মানুষকে খাবার সরবরাহ করা হয়েছে।

ইয়াসের প্রভাবে সৃষ্ট জোয়ারের পানি সর্বোচ্চ পাঁচ ফুট উচ্চতায় বৃদ্ধি পাওয়ায় বেড়ীবাঁধ না থাকায় উপকূলীয় এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। জোয়ারের আঘাতে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের ঝাউগাছেরও ব্যপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক জায়গায় ঝাউগাছ উপড়ে গেছে। ভাঙন ধরেছে সৈকতের বালিয়াড়ি।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুর রহমান জানিয়েছেন, আজ এবং আগামীকালও পূর্ণিমা জোয়ারের প্রভাব থাকবে।

বিজ্ঞাপন