চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ইয়াবার খুচরা বিক্রেতা ছিল পলাশ

রাজধানী ঢাকার বনশ্রীসহ বিভিন্ন স্থানে ইয়াবার খুচরা বিক্রি করত পলাশ চন্দ্র। তিনি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার থেকে ইয়াবা এনে এ ব্যবসা করত। আর এই ব্যবসা করতে এবং ইয়াবা বহনে সহযোগিতা করতো তার স্ত্রী কুলসুম আক্তার।

মঙ্গলবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের (ডিএনসি) কনফারেন্স রুমে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অধিদফতরের ঢাকা বিভাগের উপ-পরিচালক (ডিডি) মুকুল জ্যোতি চাকমা।

এর আগে, মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫ টার দিকে বনশ্রী জি ব্লকের ৬ নম্বর রোডের একটি বাসার সামনে থেকে ১০ হাজার ১শ’ পিস ইয়াবাসহ তিন মাদক বিক্রেতাকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। আটককৃতরা হলেন- পলাশ চন্দ্র সাহা, তার স্ত্রী কুলসুম আক্তার ও তার বন্ধুর স্ত্রী তাহমিনা।

ডিএনসি’র ঢাকা বিভাগের উপ-পরিচালক (ডিডি) মুকুল জ্যোতি চাকমা বলেন, আটক আসামী পলাশ দীর্ঘদিন যাবৎ বনশ্রীতে ইয়াবার খুচরা বিক্রি করর আসছিলো। আমাদের কাছে তথ্য ছিল চট্টগ্রাম থেকে ইয়াবার একটি বড় চালান ঢাকায় আসছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে আমরা বনশ্রীতে অভিযান পরিচালনা করি।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার ভোর সাড়র ৫টার দিকে বনশ্রীর ওই বাসার সামনে একটি সিএনজি যোগে পলাশ সহ দুই মহিলা নামেন। বাসায় প্রবেশের সময় আমরা ঘিরে ফেলি।

বিজ্ঞাপন

ওই বাড়ির মালিকের উপস্থিতিতে তাদের দেহ তল্লাশী করে কুলসুমের পা’য়ে এংলেটে বাধা অবস্থায় ১ হাজার ৬৩২ টি, এবং তাহমিনার পা’য়ে এংলেট দিয়ে বাধা অবস্থায় ১ হাজর ৬শ ইয়াবা পিস উদ্ধার করা হয়। পরে পলাশের তথ্যমতে তার মোটর সাইকেল থেকে ৮’শ পিস এবং তার ঘরের আলমারির ভেতরে লুকায়িত অবস্থায় ৬ হাজার ৩৬ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

তিনি বলেন, আসামীদের উপর ১৫ দিন যাবত মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের টিম নজরদারি রাখছিল।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামী পলাশ চন্দ্র জানায়, দীর্ঘদিন থেকে সে এ ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এর আগেও কক্সবাজার থেকে একাধিকবার ইয়াবার চালান ঢাকায় নিয়ে এসেছিলেন। তারই পরামর্শে পারস্পারিক যোগসাজশে এই ইয়াবার চালান আনতে কক্সবাজার যায় তাহমিনা ও কুলসুম।

আসামী তাহমিনা আক্তার কে জিজ্ঞাসাবাদে আমরা জেনেছি, তার স্বামী সালাহউদ্দিন পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের(এসবি) টিএফআই শাখায় উপ-পরিদর্শক পদে কর্মরত আছেন। এ বিষয়ে তথ্য যাচাইবাচাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এই ঘটনায় আটক তিন আসামীকে বিরুদ্ধে খিলগাঁও থানায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-১৯৯০ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মোহাম্মদপুর সার্কেল পরিদর্শক সাজেদুল আলম বাদী হয়ে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের প্রস্তুতি চলছে।

আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের কাছে রিমান্ডের আবেদনও করা হবে বলেও জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন