চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ইসলামের সেবায় শেখ হাসিনা তার পিতার পথে হাঁটছেন

১৯৭২ সালের ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডেভিড ফ্রস্টকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে খুব পরিষ্কারভাবেই বলেছিলেন, ‘আমি একজন মুসলমান এবং মুসলমান একবারই মাত্র মরে, দু’বার নয়। আমি মানুষ। আমি মনুষ্যত্বকে ভালোবাসি। আমি আমার জাতির নেতা। আমি আমার দেশের মানুষকে ভালোবাসি।’

বঙ্গবন্ধুর এই ঔদার্যময় কথাতেই বোঝা যায়, তিনি চিন্তাচেতনায় ও মানসিকভাবে কতটা ধর্মপরায়ণ ছিলেন। সকল ধর্মের প্রতি তার সহানুভূতিও ছিল উল্লেখ করার মতো। দেশ স্বাধীনের পর যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশে নানান উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড হাতে নেন যার মধ্যে ইসলাম ধর্মের সেবা ও এর সুবিধাখাতে কী কী পদক্ষেপ নেয়া যায় সেদিকে বিশেষ নজর ও গুরুত্ব দিয়ে বেশ কিছু যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন যা আজও দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। বঙ্গবন্ধু সরকার পরিচালনায় ইসলামের সেবক হয়ে যেসব যুগান্তকারী পদক্ষেপসমূহ নিয়েছিলেন তা হল ১৯৭৫ সালে ইসলামী ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা, ১৯৭৩ সালে সীরাত মজলিস প্রতিষ্ঠা,সরকারি তহবিল থেকে হাজীদের অনুদান, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড পুনর্গঠন, বেতার ও টেলিভিশনে কোরআন তেলাওয়াতের অনুমতি প্রদান, মদ, গাঁজা ও ইসলাম বিরোধী কার্যকলাপ বন্ধে আইন তৈরি, কাকরাইল মসজিদের সম্প্রসারণ, রাশিয়াতে প্রথম তাবলীগ জামাত প্রেরণ, ১৯৭৩ সালে আরব ও ইসরাইল যুদ্ধে আরবকে সমর্থন এবং সামর্থ্য অনুযায়ী ত্রাণ প্রেরণ, ১৯৭৪ সালে ওআইসি সম্মেলনে যোগদান এবং মুসলিম বিশ্বের সাথে সম্পর্ক স্থাপন।

বিজ্ঞাপন

বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে তার সুযোগ্য কন্যা তিন বারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও সরকার পরিচালনার দায়িত্বে থেকে ইসলামের সেবায় নিজেকে সমর্পণ করেছেন। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এ ব্যাপারে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ইতিহাসের পথ ধরে একটু পেছনে চোখ বুলালে জানা যায়, বাংলাদেশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। তবে বাংলাদেশ নামক এই ভূখণ্ড এক সময় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল না। সপ্তম শতাব্দীতে কিছু আরব মুসলিম ব্যবসায়ী ও সুফি ধর্ম প্রচারকদের মাধ্যমে এই ভূখণ্ডে প্রথম ইসলাম ধর্মের আবির্ভাব ঘটেছিল। দ্বাদশ শতকে মুসলমানরা বাংলা বিজয়ের মাধ্যমে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই সকল সুফি দরবেশদের মধ্যে অন্যতম একজন হলেন হযরত বায়েজিদ বোস্তামী (রহ.) যিনি ১৪৬৩ সালে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে সুদূর ইরাক থেকে এদেশে আসেন। হযরত বায়েজিদ বোস্তামী (রহ.)-এর সফর সঙ্গীদের মধ্যে শেখ আউয়াল ছিলেন অন্যতম। যিনি পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে ধর্ম প্রচারের জন্য যান এবং নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে বসবাস শুরু করেন। অনেক বছর পর তার তৃতীয় প্রজন্মের বংশধর শেখ বুরহানুদ্দিন ব্যবসার উদ্দেশে গোপালগঞ্জে যান এবং টুঙ্গিপাড়া গ্রামে বসতি স্থাপন করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলেন তার চতুর্থ প্রজন্মের বংশধর শেখ লুৎফর রহমানের সন্তান। আর শেখ হাসিনা হলেন শেখ মুজিবুর রহমানের প্রথম সন্তান। সুতরাং জন্মগতভাবে শেখ হাসিনা ইসলামি শিক্ষা ও আদর্শে গড়ে উঠেছেন। শেখ হাসিনার পূর্ব পুরুষ এই বাংলাদেশের ইসলাম ধর্মের প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে একজন। বাংলাদেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার পূর্ব পুরুষদের অনস্বীকার্য অবদান রয়েছে।

সেই ধারার পরম্পরায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিন দফায় সরকার পরিচালনা করার সময় শেখ হাসিনা ইসলাম ধর্মের সেবায় প্রচুর কল্যাণমুখী কার্যক্রম, পদক্ষেপ গ্রহণ এবং তা বাস্তবায়নে সার্বিক সফলতা অর্জন করেছেন। তার এই কর্মকাণ্ড দেশে-বিদেশে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। শুধু তাই নয়, ইসলাম ধর্মের পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের ক্ষেত্রেও তিনি একই মনোভাব পোষণ করেন। শেখ হাসিনার এই দিকটির কথা দেশের আলেম ওলামা, ইসলামি চিন্তাবিদসহ ইসলামী বিশ্বের অনেকেই প্রশংসা করেছেন। এছাড়া তার ব্যক্তিগত উদ্যোগেও এ ধরনের অনেক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়েছে। শেখ হাসিনার উদ্যোগে ইসলামের সেবায় যেসব কার্যক্রম ও কর্মকাণ্ড ইতিমধ্যে সফলতার মুখ দেখেছে তাহলো আল-কোরআনের ডিজিটালাইজেশন, ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ, দেশের ৩১টি কামিল মাদ্রাসায় অনার্স কোর্স চালুকরণ, যোগ্য আলেমদের ফতোয়া প্রদানে মহামান্য আদালতের ঐতিহাসিক রায়, জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সৌন্দর্য্যবর্ধন ও সম্প্রসারণ, জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সুউচ্চ মিনার নির্মাণ, জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ সাহান সম্প্রসারণ, সৌন্দর্য্য বর্ধন ও পূর্ব সাহানের ছাদ নির্মাণ, জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে মহিলাদের নামায কক্ষ সম্প্রসারণ, জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে সাহানের স্থান সম্প্রসারণ। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম কমপ্লেক্সে ইসলামিক ফাউন্ডেশন লাইব্রেরি ভবন নির্মাণ, বাংলাদেশে ইসলামের প্রচার বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও রাজকীয় সৌদি আরব সরকারের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর, হজ্জ ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, জেদ্দা হজ্জ টার্মিনালে ‘বাংলাদেশ প্লাজা’ স্থাপন, আশকোণা হজ্জক্যাম্পের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, রেকর্ড সংখ্যক হজ্জযাত্রী প্রেরণ। হজ্জ ব্যবস্থাপনায় সৌদি সরকারের স্বীকৃতি, মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমে আলেম-ওলামাদের কর্মসংস্থান ও বেতন ভাতা বৃদ্ধি, শিশু ও গণশিক্ষা এবং কোরআন শিক্ষা কার্যক্রমে মহিলাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা গ্রহণ, জাতীয় শিক্ষানীতিতে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমকে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্তি করণ ও এর ৬ষ্ঠ পর্যায়ে ১৫০০ কোটি ৯৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে যার ফলে ৭৬ হাজার এবং ৫৮ হাজার আলেম-ওলামাদের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে, কওমী মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের সনদের সরকারি স্বীকৃতির জন্য আলাদা কমিশন গঠন, ১০০০টি বেসরকারি মাদ্রাসার একাডেমিক ভবন নির্মাণ।

বিজ্ঞাপন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন। ইমাম প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আওতায় দেশে ৭টি ইমাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গঠন করা হয়েছে যেখানে ইতিমধ্যে ১৮১৯১২ জন ইমামকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। এ খাতে এ পর্যন্ত ৩০ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা অনুদান হিসেবে মঞ্জুর করে ‘ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্ট’ গঠন করা হয়েছে, ইসলামী প্রকাশনা প্রকল্প বাস্তবায়ন, ইসলামিক মিশন কেন্দ্রের মাধ্যমে চিকিৎসা-সেবা প্রদানের ব্যবস্থা। মসজিদ পাঠাগার স্থাপন প্রকল্প বাস্তবায়ন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম ডিজিটালে রূপান্তর, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস প্রতিরোধ ও সামাজিক সমস্যা সমাধানে ইসলাম শীর্ষক কর্মসূচি বাস্তবায়ন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বিশ্বনেতৃবৃন্দের কাছে বাংলাদেশের আলেম-ওলামাদের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা। মসজিদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য আর্থিক অনুদান প্রদান, চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক আন্দরকিল্লাহ শাহী জামে মসজিদের উন্নয়নে বিশাল অংকের বাজেট অনুমোদন, চট্টগ্রাম জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদ কমপ্লেক্স ফাউন্ডেশনের অনুকূলে ন্যস্তকরণ, পবিত্র রমযানে মসজিদে মসজিদে ব্যাপক কোরআন শিক্ষা প্রদানের ব্যবস্থা, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে গণসচেতনতামূলক কর্মসূচিগ্রহণ, আন্তর্জাতিক হিফজ, ক্বিরাত ও তাফসির প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের সাফল্য এবং বাংলাদেশ থেকে পর্যাপ্তসংখ্যক হাফেজ ও ইমামদের উচ্চশিক্ষার জন্য মিশর ভ্রমণ, ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশের হাফেজ ও কারিদের বিভিন্ন মুসলিম দেশে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে ৫১ কোটি টাকা পুরস্কার পেয়েছে এবং প্রাপ্ত স্বর্ণমুদ্রার পরিমাণ ৪৪৭ ভরি। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে অনুমোদিত মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন মডেলে ইসলামী মূল্যবোধের প্রতিফলন। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম উপজেলা পর্যায়ে সম্প্রসারণের ঘোষণা ও বাস্তবায়ন, প্রতি জেলা ও উপজেলা সদরে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের আদলে মসজিদ নির্মাণের নীতিগত সিদ্ধান্তগ্রহণ ও উপজেলা পর্যায়ে একটি করে মসজিদ সরকারিকরণ, দারুল আরকাম মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা, জাতীয় শিক্ষানীতিতে মসজিদ ভিত্তিক একটি গ্রাম একটি মক্তব চালু করার নীতিগত সিদ্ধান্তগ্রহণ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন বাংলাদেশে ইসলামের প্রকৃত পরিচর্যাকারী ছিলেন বঙ্গবন্ধু আর তার যোগ্য উত্তরাধিকার হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই হালটি যথাযথভাবে ধরে রেখেছেন। তারা আরও বলছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইসলামের উন্নয়ন করে মুসলিম জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় কর্মকাণ্ডকে যথাযোগ্য মর্যাদায় আসীন করেছেন। ইসলাম ধর্মের প্রকৃত জ্ঞান অর্জনের জন্য মুসলিম সম্প্রদায়কে উৎসাহী করার কৃতিত্ব সম্পূর্ণ তার।

বঙ্গবন্ধুর এই ঔদার্যময় কথাতেই বোঝা যায়, তিনি চিন্তাচেতনায় ও মানসিকভাবে কতটা ধর্মপরায়ণ ছিলেন। সকল ধর্মেরপ্রতি তার সহানুভূতিও ছিল উল্লেখ করার মতো। দেশ স্বাধীনের পর যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশে নানান উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড হাতে নেন যার মধ্যে ইসলাম ধর্মের সেবা ও এর সুবিধাখাতে কী কী পদক্ষেপ নেয়া যায় সেদিকে বিশেষ নজর ও গুরুত্ব দিয়ে বেশ কিছু যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন যা আজও দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিন দফায় সরকার পরিচালনা করার সময় শেখ হাসিনা ইসলাম ধর্মের সেবায় প্রচুর কল্যাণমুখী কার্যক্রম, পদক্ষেপ গ্রহণ এবং তা বাস্তবায়নে সার্বিক সফলতা অর্জন করেছেন। তার এই কর্মকাণ্ড দেশে-বিদেশে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। শুধু তাই নয়, ইসলাম ধর্মের পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের ক্ষেত্রেও তিনি একই মনোভাব পোষণ করেন। শেখ হাসিনার এই দিকটির কথা দেশের আলেম-ওলামা, ইসলামি চিন্তাবিদ সহ ইসলামী বিশ্বের অনেকেই প্রশংসা করেছেন। এছাড়া তার ব্যক্তিগত উদ্যোগেও এধরনের অনেক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়েছে।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

Bellow Post-Green View