চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ইসরায়েলের সাথে এবার ‘বিশ্বাসঘাতক’ বাহরাইনের চুক্তি

নৈপথ্যে সেই ট্রাম্প

আরব আমিরাতের পর এবার ইসরায়েলের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ বাহরাইন সম্পর্ক স্থাপনের জন্য ‘যুগান্তকারী’ চুক্তিতে পৌঁছেছে বলে ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এক টুইট বার্তায় তিনি জানিয়েছেন, ‘আগামী ৩০ দিনের মধ্যে দ্বিতীয় আরব দেশ হিসেবে ইসরায়েলের সাথে শান্তির জন্য সম্পর্ক স্থাপন করবে বাহরাইন।’

বিজ্ঞাপন

ইসরায়েলের সঙ্গে বাহরাইনের চুক্তিকে ফিলিস্তিনিদের প্রতি ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ মন্তব্য করে প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন (পিএলও) বলেছে, ‘এই চুক্তি ফিলিস্তিনিদের ওপর বিশ্বাসঘাতকতার আরেকটি ছুরিকাঘাত।’

বিজ্ঞাপন

গত কয়েক দশক ধরেই বেশিরভাগ আরব দেশ ইসরায়েলকে বয়কট করে আসছিল। তাদের দাবি ছিল, ফিলিস্তিনীদের সঙ্গে বিরোধ নিস্পত্তি হলেই কেবল দেশটির সাথে সম্পর্ক স্থাপন করা হবে।

কিন্তু সেই ধারাবাহিকতা ভঙ্গ করে গত মাসে প্রথম দেশ হিসেবে ইসরাইলের সাথে সংযুক্ত আরব আমিরাত সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে সম্মত হয়।

তারপর থেকেই আন্তর্জাতিক মহলে অনেকেরই প্রত্যাশা ছিল, আরব আমিরাতের পথ অনুসরণ করবে বাইরাইন।

বিজ্ঞাপন

ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত সমাধানের লক্ষ্যে গত জানুয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছিলেন ট্রাম্প।

১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিনির জায়গা দখল করে প্রতিষ্ঠিত ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিয়েছিল মিশর এবং জর্ডান। যদিও কয়েক বছর পরে তা স্থগিত করে জর্ডান।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু আরেকটি আরব দেশের সাথে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ায় ‘খুবই উত্তেজিত’ উল্লেখ করে বলেন, শান্তির নতুন যুগ সৃষ্টি হলো। শান্তির জন্য শান্তি। অর্থনীতির জন্য অর্থনীতি। এতদিন আমরা শান্তির পেছনে বিনিয়োগ করেছি। এবার শান্তি আমাদের জন্য বিনিয়োগ করবে।

তবে এই কূটনৈতিক পদক্ষেপে সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে আঞ্চলিক শত্রুতার একটি পটভূমি রয়েছে। দুটি দেশের মধ্যে কয়েক দশকের বিরোধ ধর্মীয় পার্থক্যের কারণে আরও বেড়েছে। ইসলামের দুটি প্রধান শাখার একটি সুন্নি মতবাদের নেতৃত্ব দেয় সৌদি আরব। আর শিয়া মতবাদের নেতৃত্বে আছে ইরান।

সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহরাইন- এই দুই দেশের মিত্র সৌদি আরব। তারা সম্মিলিতভাবে ইরানকে নিয়ে ইসরায়েলের উদ্বেগে একাত্মতা প্রকাশ করেছে। যার ফলে তাদের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ হয়েছে।

বাহরাইনের পর এখন সৌদি আরবের প্রতিক্রিয়াও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। অনেকের ধারণা বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে অনুসরণ করতে প্রস্তুতি নেবে সৌদি আরবও।