চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ইশ! যদি আরেকটু ভালো করতে পারতাম: শরীফুল রাজ

‘মুড়িমুড়কির মতো আজাইরা গল্প, স্ক্রিপ্টে কাজ করি না। ওইসব কাজ করলে হয়তো প্রচুর টাকা রোজগার করতে পারতাম!’

বিলোবোর্ড, র‌্যাম্প মডেলিংয়ে ‘রাজ’ করার পর ২০১৬ সালে রেদওয়ান রনির ‘আইসক্রিম’ ছবি দিয়ে বড়পর্দায় প্রথমবারেই বাজিমাৎ করেন শরিফুল রাজ। তারপর থেকে এ অভিনেতার ধ্যানজ্ঞান অভিনয়। চরিত্র থেকে চরিত্র বদলে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তানিম রহমান অংশুর ‘ন ডরাই’ ছবিতেও রাজ প্রমাণ করেছেন তার অভিনয় সমৃদ্ধতা! তার আরও দুটি ভিন্ন ধরনের চরিত্র ও গল্পের ছবি রায়হান রাফীর ‘পরাণ’ ও মেজবাউর রহমান সুমনের ‘হাওয়া’ মুক্তির অপেক্ষায়।

ওই দুই ছবির চরিত্র দুটি নিয়ে ব্যাপক আশাবাদী রাজ। তার আগে নতুন করে ‘জি ফাইভ’ অ্যাপে সদ্য মুক্তি পাওয়া ‘মাইনকার চিপায়’ ওয়েব ফিল্ম দিয়ে আরো একবার চমক দেখালেন এই অভিনেতা। আবরার আতহার পরিচালিত এ ওয়েব ফিল্মে শরিফুল রাজ ছাড়াও দুর্দান্ত অভিনয় করেছেন আফরান নিশো ও শ্যামল মাওলা। ওয়েব ফিল্মটি দর্শকদের শুধু বিনোদনই দিচ্ছে না, মাদকসেবন ও মাদক ব্যবসার মরণ ফাঁদটিকেও দেখিয়ে দিয়েছে। এটি মাদকবিরোধী সচেতনতা তৈরিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিজ্ঞাপন

‘মাইনকার চিপায়’ ওয়েব ফিল্মের একটি দৃশ্যে আফরান নিশো ও শরিফুল রাজ

মাদক কারবারির কাছ থেকে মাদক ছিনিয়ে নেয়া ব্যক্তির চরিত্রে দুর্দান্ত অভিনয় করেছেন আফরান নিশো, মাদক সরবরাহকারীর চরিত্রে শ্যামল মাওলা এবং অন্যদিকে চরমভাবে ‘মাদকাসক্ত’ বড়লোকের সন্তান সামির আহমেদ চরিত্রে নজর কেড়েছেন রাজ। সোশ্যাল মিডিয়াতেও সমালোচকরা ইতিবাচকভাবে রাজের অভিনয় দক্ষতার প্রশংসা করছেন। এই মুহূর্তে কিছুটা অসুস্থ থাকলেও মানুষের এসব ইতিবাচক মন্তব্য রাজকে প্রশান্তি দিচ্ছে বলে জানান চ্যানেল আই অনলাইনকে।

সোমবার সন্ধ্যায় মুঠোফোনে রাজ বলছিলেন, ‘আমার কাছে মনে হচ্ছে ইশ! যদি আরেকটু ভালো করতে পারতাম। এই কাজের ক্ষুধার কোনো শেষ নেই। তবে আমি এমন ব্যতিক্রমী গল্প ও স্ক্রিপ্টের জন্যই অপেক্ষায় থাকি। মুড়িমুড়কির মতো আজাইরা গল্প, স্ক্রিপ্টে কাজ করি না। ওইসব কাজ করলে হয়তো প্রচুর টাকা রোজগার করতে পারতাম! কিন্তু আমি টাকার আগে ঠিকঠাক চরিত্র, গল্প, স্ক্রিপ্ট ও পরিচালক খুঁজি।’

যখন সম্পাদনার টেবিলে ‘মাইনকার চিপায়’

সবসময় ঠিকঠাক গল্প চরিত্র পাওয়া যায় না। শরিফুল রাজ বলেন, আমার ক্ষুধা অন্য জায়গায়। সেই ক্ষুধা মেটানোর তাড়নায় সবসময় থাকছি। ‘মাইনকার চিপায়’ এর গল্প ও চিত্রনাট্যটা খুবই ভালো ছিল। এছাড়া দুর্দান্ত দুজন সিনিয়র মানুষকে সহশিল্পী (আফরান নিশো, শ্যামল মাওলা) হিসেবে পেয়েছি। তাদের থেকে শিখতে পেরেছি। বুঝলাম যে, সিনিয়রদের সঙ্গে প্রচুর কাজ করতে হবে। তাহলে আরও অভিজ্ঞতা হবে। সেজন্য আগামীতে আরও বড় স্টার অভিনেতা, সুপারস্টারদের সঙ্গে কাজ করে শিখতে চাই।

তিনি বলেন, নতুন করে তিন চারটে সিনেমা ও ওয়েব কনটেন্টের জন্য কথা হয়ে আছে। কিন্তু সেগুলোতে এখনও সাইন করা হয়নি। আমি সবার সঙ্গে কাজ করতে চাই। তবে আমাকে ভালো গল্পের চরিত্র ও স্ক্রিপ্ট দিতে হবে। অনেক গল্প ছেড়ে দিচ্ছি পছন্দ না হওয়ায়। সেগুলো হয়তো উপার্জন বেশি হতো কিন্তু আমার কাজের কোয়ালিটি নিন্মগামি হতো। কম কাজ করলেও পরিশ্রম করি। তাই আমাকে আমার প্রাপ্য সম্মানিও দিতে হবে। কাজের ক্ষুধার সঙ্গে শিল্পীর পারিশ্রমিকের দিকটাও দেখা উচিত। একজন শিল্পী এতো পরিশ্রমের পর যদি তার লাইফস্টাইল ঠিকঠাক না চালাতে পারে তাহলে লাভ কী?

‘ন ডরাই’ খ্যাত এই তারকা বলেন, আমার আব্বুর যদি অনেক টাকা থাকতো তাহলে তাকে বলতাম, ভালো গল্প রয়েছে আপনি টাকা দেন, এই চরিত্রে আমি কাজ করবো! কিন্তু আব্বুর অনেক টাকা নেই। এখন আমার স্ট্রাগল পিরিয়ড। আমি সবসময় নিজেকে ভাঙার চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমার কোনো লিঙ্ক নেই, লবিং নেই। আমাকে দিয়ে এসব হবেও না। যখন নতুন কোনো কাজ আসে আমি মন প্রাণ উজাড় করে করি। ‘আইসক্রিম’ মুক্তির পরে ‘ন ডারাই’ পেয়েছি। এই ছবিটা মুক্তির পর ‘হাওয়া’ পেয়েছি। আমার কাজগুলো দেখে পরিচালকরাই আমাকে ডেকেছেন। দশটা স্ক্রিপ্ট এলে একটায় কাজ করি। এজন্য দেখা যায় এক সপ্তাহ কাজ করে দুইমাস বেকার!

জি-ফাইভের এই ওয়েব ফিল্মের একটি দৃশ্যে শরিফুল রাজ

‘মাইনকার চিপায়’ দিয়ে প্রথমবার ওটিটি প্লাটফর্মের জন্য কাজ করলেন রাজ। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন ওটিটি মার্কেট  প্রসঙ্গে তিনি বললেন, গল্পটা যদি ঠিকঠাক থাকে তাহলে ৫০ মিনিটের কনটেন্টও মানুষ লুফে নেবে, এই কাজটা করে অন্তত তাই মনে হয়েছে। পাশাপাশি এই প্লাটফর্মের জন্য নিয়মিত কাজ করা যাবে। তবে হ্যাঁ, আমাদের দেশের ওটিটি প্লাটফর্মগুলো সেভাবে কাজের ক্যাম্পেইন করে না। জি ফাইভে কাজ করে দেখলাম ওরা নিয়মিত বিভিন্নভাবে ক্যাম্পেইন করে মানুষকে কাজ সম্পর্কে ধারণা দিচ্ছে। কনটেন্ট তো মুঠোফোনে। আমাদের লোকাল ওটিটি মার্কেট সমৃদ্ধ করতে ঠিকভাবে আরও মার্কেটিং শিখতে হবে। দেখা যায়, অনেক ভালো কিছু হচ্ছে কিন্তু ক্যাম্পেইনের অভাবে মানুষ জানে না।

ছবি: অরণ্য কাশ্যপ