চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ইশতেহারের অঙ্গীকারগুলো কিন্তু জনগণ মনে রাখে

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট তাদের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছে। এরআগে জাতীয় পার্টি, যুক্তফ্রন্টসহ আরো কিছু দল তাদের ইশতেহার প্রকাশ করেছে। আগামীকাল ইশতেহার প্রকাশ করতে যাচ্ছে বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ তথা মহাজোট। ঐক্যফ্রন্টের ঘোষিত ইশতেহারে রয়েছে ১৪টি ঘোষণার সারসংক্ষেপ ও ৩৫ দফার অঙ্গীকার।

ইশতেহারে ঐক্যফ্রন্ট বলেছে, নির্বাচনে বিজয়ী হলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে আমরা যেসব কাজ সম্পন্ন করব তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলোকে এই প্রতিশ্রুতিতে আমরা স্থান দিয়েছি।

ক্ষমতায় গেলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যক্রম অব্যাহত রাখাসহ সরকারি চাকরিতে প্রবেশে বয়সসীমা থাকবে না বলে ঘোষণা করেছে ইশতেহারে। তাদের এই দুটি ঘোষণা নিয়ে ইতিমধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে অনেকে ওই দুটি অঙ্গীকারের বিশ্বাসযোগ্যতা ও উপযোগিতা নিয়ে মন্তব্য করেছেন।

পুলিশ এবং সামরিক বাহিনী ব্যতীত সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা থাকবে না এবং সরকারি চাকরিতে শুধুমাত্র অনগ্রসর জনগোষ্ঠী এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য কোটা ছাড়া আর কোনো কোটা থাকবে না ঘোষণা দিয়েছে তারা৷ প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য আনাসহ যুদ্ধাপরাধীদের চলমান বিচার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখারও ঘোষণা এসেছে।

Advertisement

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ঘোষিত ইশতেহারকে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা হিসেবে দেখছে আওয়ামী লীগ। তারা সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বলেছেন: ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহার দেশের মানুষের সঙ্গে তামাশা করার জন্য। এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। এটা তাদের ভোটের রাজনীতির অপকৌশল৷ দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করতে তারা নানা ধরনের বক্তব্য দিচ্ছে। যারা যুদ্ধাপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের ২৩ উত্তরসূরিকে নির্বাচন করার সুযোগ দিচ্ছে। তারা আবার যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কথা বলে। এটা জাতির সাথে প্রতারণা করা ছাড়া কিছুই না।

ঐক্যফ্রন্ট একটি রাজনৈতিক জোট, সে জোটে অনেক দল-মতের চিন্তা থেকেই হয়তো ওই ইশতেহার। নির্বাচনে জয়ী হলে তারা তাদের অঙ্গীকার কীভাবে বাস্তবায়ন করবেন, তা তারা হয়তো ভাল বলতে পারবেন।

দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ভোটার আকৃষ্ট করার ইশতেহার অতীতেও হয়েছে, অলীক-অসম্ভব অঙ্গীকার করে সমালোচিত হয়েছে বিভিন্ন সময়ের ক্ষমতাসীন সরকার। এসব প্রেক্ষাপট রাজনৈতিক দলগুলোর মনে রাখা দরকার। আর এও মনে রাখা দরকার যে, জনগণ এখন যথেষ্ট সচেতন, এগুলো মনেও রাখে। ঐক্যফ্রন্টসহ সকল রাজনৈতিক দল-জোটের প্রতি আমাদের আহ্বান, ইশতেহার হোক বাস্তবসম্মত ও যৌক্তিক।