চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ইভান্সের সেঞ্চুরির ম্যাচে হাসল রাজশাহীও

সিলেটে শেষ ম্যাচে উড়তে থাকা ঢাকাকে হারিয়েছিল রাজশাহী কিংস। ঢাকায় ফিরে সোমবারের ম্যাচে আসরের প্রথম সেঞ্চুরি এসেছে তাদের ব্যাটসম্যানের ব্যাটেই। ধারাবাহিকতা রাখতে ম্যাচে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসকে হারিয়ে আগের পরাজয়ের প্রতিশোধটাও নিতে চেয়েছিল দলটি। সবমিলিয়ে আত্মবিশ্বাসে টইটুম্বুর ছিল কিংসরা। শেষ পর্যন্ত সবকিছু মিলেও গেছে খাপেখাপ। কুমিল্লার বিপক্ষে ৩৮ রানে জিতে আসরে চতুর্থ জয় তুলে নিয়েছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল।

রাজশাহীর দেয়া চ্যালেঞ্জিং স্কোর তাড়া করতে নেমে দেখেশুনে শুরু করেন দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও এনামুল হক বিজয়। দুজনের তুলনায় একটু বেশি সাবধানী ছিলেন আগের ম্যাচে ৭০ রান করে ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত দেয়া তামিম। কিন্তু তাকেই আগে ফিরতে হয় সাজঘরে। ৩৭ রানের জুটি গড়ার পর কামরুল ইসলাম রাব্বিকে উড়িয়ে মারতে যেয়ে লংঅফে ক্যাচ আউট হয়ে যান। ২৪ বলে সমান দুই চার ও ছক্কায় ২৫ রান করা তামিমের ক্যাচ নেন মার্শাল আইয়ুব।

তামিম ফেরার পর ৩০ রানের জুটি গড়ে ভালোই এগোচ্ছিলেন বিজয় ও শামসুর রহমান। কিন্তু রায়ান টেন ডেসকাটের দশম ও আরাফাত সানির করা ওভারে চিত্র অনেকটা পাল্টে যায়। জোড়া আঘাতে কুমিল্লাকে কাবু করেন দুই বোলার। ২৩ বলে ২৬ রান করা এনামুলকে প্রথমে ফেরান ডেসকাট। তারপর শামসুরকে ফেরান সানি। ১৫ রান করে পরিবর্তিত প্রসন্নর হাতে ক্যাচ দেন শামসুর।

দ্রুত দুই উইকেট হারানোর পর পাল্টা আক্রমণে যান কুমিল্লার দুই ব্যাটসম্যান ইমরুল কায়েস ও জিয়াউর রহমান। সেই আক্রমণ বেশি সময় জারি রাখতে পারেননি তারা। ১০ বলে ২২ রান তোলার পর বিচ্ছিন্ন হন দুজনে। জিয়াউরকে (১২) ফেরান রাজশাহীর ব্যাটিং জুটি লরি ইভান্স ও ডেসকাট। ডাচ তারকার বলে সীমানায় ক্যাচ নেন ইংলিশ তারকা।

জিয়াউর ফেরার পরও রানের চাকা বেশ সচল রাখছিলেন ইমরুল কায়েস ও লিয়াম ডসন। ক্রিজে নেমে শুরুতে থেকেই ব্যাটে-বলে ভালো সংযোগ করছিলেন কায়েস। কিন্তু রানের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আউট হতে থাকেন ব্যাটসম্যানরা। কায়েস আহমেদকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে আউট হন ইমরুল। ১০ বলে তার সংগ্রহ ১৫।

Advertisement

কুমিল্লা বিপদে পড়ে থিসারা পেরেরার আউটে। ইমরুলের পরের বলে একই বোলারের বলে একই ফিল্ডারের হাতে ঠিক একই জায়গায় ক্যাচ দেন লঙ্কান অলরাউন্ডার। এক বলের বেশি খেলতে না পারায় স্বভাবই হিসাবের খাতা খুলতে পারেননি তিনি।

শেষ পাঁচ ওভারে কুমিল্লার দরকার ছিল ৬৭ রান। কায়েসের করা ১৬তম ওভারে ২২ রান নিয়ে চাপ অনেকটা কমিয়ে ফেলেন আফ্রিদি-ডসন। তবে পরের ওভারে মাত্র তিন রান দিয়ে সেটা পুষিয়ে নেন মোস্তাফিজুর রহমান।

১৮তম ওভারের প্রথম বলে আফ্রিদিকে ফিরিয়ে ম্যাচ নিজেদের দিকে নিয়ে আসেন রাব্বি। তবে বোলারের চেয়ে আফ্রিদিকে ফেরানোর কৃতিত্বটা ফিল্ডার ক্রিস্টিয়ান জোঙ্কারকেই দিতে হবে বেশি। সীমানার দড়ি ঘেষে দুর্দান্ত এক ক্যাচ নেন এ সাউথ আফ্রিকান। ফেরার আগে ১৫ বলে ১৮ রান করে পাকিস্তানি অলরাউন্ডার।

চার বলের ব্যবধানে তিন ব্যাটসম্যানকে তুলে নিয়ে ম্যাচ পুরোপুরি নিজেদের আয়ত্বে এনে দেন রাব্বি। আফ্রিদির পর তিন বলে তিনি তুলে নেন ডসন ও সাইফউদ্দিনের উইকেট। ডসন ১৭ রান করলেও সাইফউদ্দিন কোনো রান করতে পারেননি। ১৯তম ওভারের দ্বিতীয় বলে মেহেদী হাসানকে তুলে নিয়ে কুমিল্লাকে ১৩৮ রানেই গুটিয়ে দেন মোস্তাফিজ। সাত ম্যাচে এটি রাজশাহীর চতুর্থ জয়। আর সমানসংখ্যক ম্যাচে কুমিল্লার তৃতীয় হার।

তিন ওভারে মাত্র ১০ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন রাব্বি। দুটি করে উইকেট নেন কায়েস আহমেদ ও ডয়েসকাট।

এর আগে লরি ইভান্সের করা বিপিএলের চলতি আসরের প্রথম সেঞ্চুরি ও রায়ান টেন ডেসকাটের হাফসেঞ্চুরিতে ১৭৬ রান করে রাজশাহী কিংস।