চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ইন্দোনেশিয়ায় অগ্ন্যুৎপাত সতর্কতা বেড়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ

ইন্দোনেশিয়ার আনাক ক্রাকাটাও আগ্নেয়গিরি থেকে টানা লাভা ও ধোঁয়া উদ্‌গীরণ চলতে থাকায় সতর্কবার্তার মাত্রা বাড়িয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

বর্ধিত সতর্কতার অংশ হিসেবে আগ্নেয়গিরির আশপাশ দিয়ে যাওয়ার কথা, এমন সব ফ্লাইটের যাত্রাপথ পরিবর্তন করে দেয়া হয়েছে। ক্রাকাটাওয়ের আশপাশে ৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ‘বর্জনীয় এলাকা’ ঘোষণা করা হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ মোকাবেলা সংস্থা বিএনপিবি জানিয়েছে, অগ্ন্যুৎপাত কখনো বাড়ছে কখনো কমছে। কিন্তু থামছে না পরিস্থিতি অস্থিতিশীল থাকায় কখন কী হবে ধারণা করা যাচ্ছে না। এজন্যই সতর্কতার মাত্রা ২ থেকে বাড়িয়ে ৩ করা হয়েছে।

‘ভলক্যানোলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্দোনেশিয়া’র দেয়া তথ্য উল্লেখ করে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিএনপিবি বলেছে, আনাক ক্রাকাটাওয়ের সক্রিয়তা দিনদিন বাড়ছে। এজন্য বিপজ্জনক এলাকার পরিসীমা ২ কিলোমিটার থেকে বাড়িয়ে ৫ কিলোমিটার করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আগ্নেয়গিরিতে আপাতত যে ধরনের অগ্ন্যুৎপাত হচ্ছে তাকে স্ট্রম্বোলিয়ান ইরাপশান বলা হয়। এক্ষেত্রে ছোট ছোট বিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে লাভা ছড়িয়ে ছিটিয়ে বের হতে থাকে।

আশা করা হচ্ছে বর্জনীয় এলাকার ভেতরে কেউ নেই। তবে সুন্দা প্রণালির দু’পাশেই জাভা ও সুমাত্রা দ্বীপের উপকূল অঞ্চলে মানুষ বসবাস করছে। আবারও সুনামি হতে পারে, এ আশঙ্কায় তাদেরকে সমুদ্র সৈকত থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে।ইন্দোনেশিয়া-আরেকটি সুনামির আশঙ্কা-আগ্নেয়গিরি-সতর্কতা

গত শনিবার ইন্দোনেশিয়ায় আনাক ক্রাকাটাও আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতে সমুদ্র তলদেশে ভূমিধসের কারণে সুন্দা প্রণালিতে সৃষ্ট সুনামিতে এ পর্যন্ত ৪৩০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও প্রায় ১৫শ’ জন। এখনো নিখোঁজ দেড়শ’র বেশি মানুষ।

শনিবার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৯টায় ইন্দোনেশিয়ার সুন্দা প্রণালিতে ভয়াবহ সুনামির সৃষ্টি হয়। পরপর দু’টো বিশাল ঢেউয়ের আঘাতে উপকূলবর্তী পান্ডেগলাং, সাউথ লাম্পাং এবং সেরাং এলাকায় ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে।

শুক্রবারের পর রোববার থেকে আনাক ক্রাকাটাওয়ে অগ্নুৎপাত অব্যাহত থাকায় নতুন করে সুনামির আশঙ্কায় উপকূলীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বলা হয়েছে। এছাড়া আক্রান্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধারকাজ চলছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

বিজ্ঞাপন