চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ইনিংস বড় করার ‘আগ্রাসী’ পন্থা শিখতে পারেননি শচীন

ক্রিকেটে যে ফরম্যাটেই নেমেছেন, সোনা ফলিয়েছেন শচীন টেন্ডুলকার। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে একশটি সেঞ্চুরির রেকর্ড কেবল তারই। সঙ্গে ছোট-বড় অসংখ্য রেকর্ড তো আছেই। এত অর্জন, তবুও একটা জায়গায় খানিকটা আফসোস হয়তো থেকেই গেছে কিংবদন্তি ব্যাটসম্যানের। সেটা টেস্টে ৩০০ ছোঁয়ার আক্ষেপ।

সবচেয়ে বেশি টেস্ট খেলার রেকর্ডটি শচীনের হলেও ডাবল সেঞ্চুরির দিক থেকে সাবেক সতীর্থ বীরেন্দ্রর শেবাগ, লঙ্কান আত্তাপাত্তু-সাঙ্গাকারা, পাকিস্তানি ইউনিস খান বা অজি রিকি পন্টিংয়ের চেয়ে পিছিয়ে ভারতের লিটল মাস্টার।

বিজ্ঞাপন

ক্যারিয়ারে এই একটা দিকেই অন্যদের চেয়ে খানিকটা পিছিয়ে ছিলেন শচীন, ইনিংস বড় করতে না পারা, এমন মনে করেন কপিল দেব। ভারতকে ১৯৮৩ বিশ্বকাপ জেতানো অধিনায়কের মতে, সেঞ্চুরি করতে ওস্তাদ হলেও নিজের ইচ্ছা আর আগ্রাসনের অভাবে ইনিংসগুলো ২০০-৩০০’তে রূপান্তর করতে পারেননি সাবেক ব্যাটিং মায়েস্ত্রো!

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

‘শচীনের মতো মেধা আর কোনো ব্যাটসম্যানের মাঝে দেখিনি। সে সেঞ্চুরি করতে জানতো ঠিকই, কিন্তু কখনোই আগ্রাসী ব্যাটসম্যান ছিল না। ক্রিকেট তাকে সবই দিয়েছে। সে সেঞ্চুরি করতে জানতো, কিন্তু ইনিংসগুলোকে ২০০-৩০০ বানাতে জানতো না।’ ভারতের নারী দলের বর্তমান কোচ ভেঙ্কট রমনের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে এমন বলেছেন কপিল।

টেস্টে শচীনের ছয়টি ডাবল সেঞ্চুরি থাকলেও তা যথেষ্ট নয় বলেই মনে করেন কিংবদন্তি অলরাউন্ডার, ‘শচীনের অন্তত পাঁচটি ট্রিপল আর ১০টি ডাবল সেঞ্চুরি থাকা উচিৎ ছিল। কারণ প্রতিটি পেসার আর স্পিনারকে প্রতি ওভারে চার মারার মতো সক্ষমতা তার ছিল।’

১৯৯৯ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির দেখা পাওয়া শচীন টেস্ট ক্যারিয়ার শেষ করেছেন ৫১ সেঞ্চুরি নিয়ে। এই সেঞ্চুরির ২০টিকে দেড়শতে রূপান্তর করতে পেরেছেন। তার এভাবে ইনিংস বড় করতে না পারার পেছনে মুম্বাই ক্রিকেটের দায় আছে বলেও মনে করেন শচীনের একসময়কার সতীর্থ ও কোচ কপিল।

‘যারা মুম্বাই থেকে উঠে আসে, একটা ধারণা থাকে যে সেঞ্চুরি করার পর আবারও নতুন করে ইনিংস শুরু করতে হবে। আমি সেটা বলবো না। তোমাকে একজন আগ্রাসী ব্যাটসম্যান হতে হবে যেন বোলাররা তোমাকে ভয় পায়। শচীনের মেধা ছিল চিন্তারও বাইরে, কিন্তু সে চারের চেয়ে বেশি সিঙ্গেল নিতে পছন্দ করত। যে কারণে আগ্রাসী হতে পারেনি।’