চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ইতিকাফ ও তার ফজিলত

ইতিকাফ সম্পর্কে আমাদের সকলেরই সাধারণ ধারণা আছে। রমজান মাসে ইতিকাফের প্রতি আমাদের আগ্রহও যথেষ্ট। বিশেষ করে শেষ দশকের ইতিকাফ নিয়ে আগ্রহের অন্ত নেই।

ইতিকাফ শব্দের অর্থ অবস্থান করা। ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায়, পুরুষের জন্য নিয়তসহ এমন মসজিদে অবস্থান করা যেখানে সময় অনুযায়ী পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। আর মহিলাদের জন্য ইতিকাফ হলো, নিয়তসহ ঘরের ভিতর নামাজের জন্য নিরাপদ নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান করা।

বিজ্ঞাপন

ইতিকাফ তিন প্রকার:
১. ওয়াজিব (মান্নতের ই‘তিকাফ), ২.সুন্নাতে মু‘আক্কাদাহ্ (রমযানের শেষ দশদিন), ৩.মুস্তাহাব (কিছুক্ষণের জন্য ইতিকাফের নিয়তে মসজিদে অবস্থান করা)।

ইতিকাফের শর্তাবলী: ১.মুসলমান হওয়া, ২.জ্ঞানবান হওয়া, ৩.জানাবাত ও হায়িয-নিফাস থেকে পবিত্র হওয়া, ৪.নিয়ত করা, ৫.এমন মসজিদে ইতিকাফ করা যেখানে সময়নুযায়ী জামা‘আতের সহিত নামাজ হয়, ৬.মহিলাগণ আপন আপন ঘরে বা নামাজের স্থানে ইতিকাফ করবে, ৭.মহিলাদের জন্য স্বামীর অনুমতি নেওয়া।

ইতিকাফের ফজিলত:

ইতিকাফের প্রতি উম্মতকে উৎসাহিত করতে হাদিস শরীফে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইতিকাফের বহু ফজিলত বর্ণনা করেছেন।

বিজ্ঞাপন

১. হযরত আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আজীবন রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন (তিরমিযী শরীফ)। অত্র হাদিস শরীফ থেকে বোঝা গেল, রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করা সুন্নত।

২. হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি রমজানের শেষ দশদিন ইতিকাফ করবে সে যেন দুটি হজ ও দুটি ওমরা আদায় করল (কাশফুল গুম্মাহ, প্রথম খ-)। অত্র হাদিস শরীফ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, রমজানের শেষ দশে ইতিকাফের বিশেষ ফজিলত রয়েছে। সেজন্যই আমাদের দেশের মুসলমানদের মাঝে রমজানের শেষ দশে ইতিকাফ করার প্রবণতা বেশী দেখা যায়।

৩. হযরত ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ইতিকাফকারী ইতিকাফের কারণে সর্বাবস্থায় গুনাহ থেকে বিরত থাকে এবং নেকীর এমন সওয়াব অর্জন করে থাকে যেন সমস্ত নেকীর সওয়াব সে অর্জন করে (ইবনে মাজাহ, মিশকাত শরীফ)।

শেষ দশে ইতিকাফের বিশেষ উদ্দেশ্য:

কুরআন নাযিল হয়েছে পবিত্র শবে কদরের রাত্রিতে। আর এজন্যই এ রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। এ রাতটি নির্দিষ্ট নয়। রমজানের শেষ দশকে যেকোন বিজোড় রাতসমূহের যেকোন একটিতে হতে পারে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মতকে শেষ দশকের প্রতিটি বেজোড় রাতেই শবে কদর তালাশ করার জন্য বলেছেন। যারা রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করে থাকে তাদের জন্য এটা খুবই সহজ হয়ে যায়। মসজিদেই তাদের সর্বক্ষণ অবস্থান। প্রতি রাতেই নফল নামাজ, তাহাজ্জুদ পড়ার সুবর্ণ সুযোগ তাদের থাকে।

সেজন্য ইতিকাফকারীদের শবে কদরের বিশেষ ফজিলত মিস করার সম্ভাবনা থাকে না বললেই চলে। শেষ দশকের ইতিকাফকারীদের অনেকেরই প্রধান টার্গেট থাকে এখানেই। এটা অনেক গভীর বিষয়। সকলের বোধগম্যও হয় না। তবে যারা বুদ্ধিমান তারা এই সুবর্ণ সুযোগ কাজে লাগাতে ওস্তাদ। তাই রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফকারীদের বিশেষ উদ্দেশ্য হচ্ছে, শবে কদরের পূর্ণ ফজিলত লাভ করা।

সুপ্রিয় ধৈর্যশীল পাঠক, আসুন আমরা ইতিকাফ পালন করি। কিছুদিনের জন্য হলেও গুনাহ থেকে নিরাপদে থাকি। শবে কদরের বিশেষ ফজিলত পরিপূর্ণ হাসিল করার মোক্ষম সুযোগ কাজে লাগাতে চেষ্টা করি এবং হাদিস শরীফে বর্ণিত রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনন্য ফজিলতের আহ্বানে সাড়া দিয়ে নাজাতপ্রাপ্তির সম্ভাবনা বৃদ্ধি করি।

Bellow Post-Green View