চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ইউপি নির্বাচনে সহিংসতায় মৃত্যুর মিছিল

দ্বিতীয় ধাপে সারা দেশের ৮৩৫টি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। দেশের ৬৩টি জেলার ১১৫ উপজেলার এসব ইউনিয়নে ভোট চলে। নির্বাচনের আগে ও পরে সহিংসতার আশঙ্কায় ১৪টি জেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়তি সদস্য মোতায়েন করা হয়। প্রথম ধাপের তুলনায় দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে সহিংসতার সংখ্যা, মাত্রা ও তীব্রতা- সবই উল্লেখ করার মতো বেশি।

নরসিংদী, কুমিল্লা, কক্সবাজারসহ বিভিন্ন জেলায় ইতিমধ্যে হতাহতের ঘটনা ঘটছে। নানা মাত্রায় ভোট কারচুপির খবরও গণমাধ্যমে এসেছে। সবমিলিয়ে পরিস্থিতি বেশ সঙ্কটজনক। প্রথম ধাপ ও আজকের দ্বিতীয় ধাপ ধরে আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত সারা দেশে ২৭ জন মারা গেছেন। সময়ের হেরফেরে মৃত্যু আরও বাড়তে পারে।

ইতিমধ্যে তৃতীয় ও চতুর্থ দফায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের তারিখ যথাক্রমে ২৮ নভেম্বর ও ২৩ ডিসেম্বর ঘোষণা করা হয়েছে। তৃতীয় দফায় ১০০৭টি ইউপিতে ও চতুর্থ দফায় ৮৪০টি ইউপিতে ভোট গ্রহণ হবে।

বিজ্ঞাপন

বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ প্রায় শেষের দিকে। কিছু সংসদীয় আসনের পাশাপাশি এই ইউপি নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন করা তাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচন কালীন সময়ে নির্বাচন কমিশনের দায়-দায়িত্ব ও ক্ষমতা সাংবিধানিকভাবে যথেষ্ট পরিমাণ। দেশে পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিতব্য ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা বলেছেন: ‘ঘরে ঘরে গিয়ে নির্বাচনী সহিংসতা ঠেকানো সম্ভব না।’ এর ফলে সংহিস পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা ব্যবহার না করতে পারার অসহায়ত্ব নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

সাম্প্রতিক ইউপি নির্বাচনে বিএনপিসহ কিছুদল অফিশিয়ালি অংশ নিচ্ছে না, আর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের দাপট অনেকটা একতরফা। মনোনয়ন পেলেই যেন নির্বাচিত হওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হচ্ছে। বিনা প্রতিদ্বন্দীতায় নির্বাচিত হবার ঘটনাও ঘটেছে অনেক জায়গায়। কিছু জায়গায় মনোনয়ন বঞ্চিত বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে মাঠের ও ভোটের লড়াই হচ্ছে, আর সেখানেই মাঝে মাঝে ঘটছে হানাহানি আর হতাহতের ঘটনা। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদগুলো চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে গ্রামবাংলার ইউপি নির্বাচনের পরিস্থিতি।

সামনের দিনগুলোতে তৃতীয় ও চতুর্থ দফায় নির্বাচনে এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আমাদের আশঙ্কা। এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি সরকারের কার্যকর মনোযোগ একান্ত কাম্য। নাহলে নির্বাচন সহিংসতায় চলমান মৃত্যুর মিছিলে যুক্ত হবে আরও বহু প্রাণ।

বিজ্ঞাপন