চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ইংল্যান্ডে ওয়ান টাইম প্লাস্টিক পণ্য নিষিদ্ধের পরিকল্পনা

‘প্লাস্টিকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ ঘোষণার সাথে সাথেই একবার ব্যবহার করা যায় এমন (ওয়ান টাইম) সব চামচ, প্লেট ও পলিস্টেরিন কাপ নিষিদ্ধ ঘোষণা করার পরিকল্পনা করেছে ইংল্যান্ড সরকার।

দেশটির মন্ত্রীরা জানিয়েছেন, এই পদক্ষেপের ফলে জঞ্জাল সরানোর কাজ সহজ হবে এবং সমুদ্রে প্লাস্টিক বর্জ্যের পরিমাণ কমবে।

শিগগিরই এই নীতি নিয়ে সেখানে পরামর্শ শুরু হবে, যদিও সরকার নিষেধাজ্ঞায় অন্যান্য আরও কিছু অন্তর্ভুক্ত করার কথা অস্বীকার করেনি।

পরিবেশবিদরা বলছেন, আরও বেশি দ্রুত ও বিস্তৃত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার ছিল।

স্কটল্যান্ড, ওয়েলস এবং নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড এরই মধ্যে ওয়ানটাইম প্লাস্টিকের প্লেট-চামচ নিষিদ্ধ করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন জুলাই মাসে এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা দেয়। ফলে ইংল্যান্ডও চাপের মধ্যে পড়ে একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য।

সরকারি হিসাবে ইংল্যান্ডের প্রতিটি মানুষ বছরে গড়ে ১৮টি ওয়ান টাইম প্লাস্টিক প্লেট এবং ৩৭টি ওয়ান টাইম প্লাস্টিক কাটলারি ব্যবহার করে।

প্লাস্টিক দূষণ রোধে নতুন এনভায়রনমেন্ট বিলের অধীনে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সেখানকার মন্ত্রী। তার মধ্যে রয়েছে পুনর্ব্যবহার করার জন্য প্লাস্টিকের বোতলের ডিপোজিট রিটার্ন স্কিম করা এবং প্লাস্টিকের প্যাকেজিং কর, যেটা ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে চালু হতে পারে। এই পরিকল্পনা তাতে নতুন সংযোজেন হবে মাত্র।

তবে প্লাস্টিক কফি কাপ ও ঢাকনার উপরও নিষেধাজ্ঞা থাকবে কিনা তা জানা যায়নি। যদিও পরে সেখানে আরও কিছু উপাদান যোগ হতে পারে।

দেশটির পরিবেশ সেক্রেটারি জর্জ ইউসটিস বলেন, প্লাস্টিক আমাদের পরিবেশের কতটা ক্ষতি করছে সেটা সবাই দেখেছে। সেজন্য আমাদের উদ্যান এবং সবুজ জায়গা জুড়ে অসাবধানতার সাথে ছড়িয়ে থাকা এবং সৈকতে ধুয়ে যাওয়া প্লাস্টিক মোকাবেলা করবে এমন পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

তিনি যোগ করেন, প্লাস্টিক স্ট্র, স্টিরার এবং কটন বাড নিষিদ্ধ করে প্লাস্টিকের ঢেউ আমরা ঘুরিয়ে দিতে বেশ সফল হয়েছি। সেই সাথে ক্যারিয়ার ব্যাগের দাম নির্ধারণ করায় সুপারমার্কেটে ৯৫% বিক্রি কমেছে।

তিনি বলেন, এসব পরিকল্পনা আমাদের প্রাকৃতিক পরিবেশের ধ্বংস ডেকে আনা প্লাস্টিক পণ্যের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার কমাতে বেশ সহায়ক হবে।

তবে ইংল্যান্ডে এই নিষেধাজ্ঞা আইন হিসেবে পাস হতে ১ বছর লেগে যাবে। সংসদের মধ্যে দিয়ে হবে পুরো প্রক্রিয়া। সেই আইনের প্রয়োগ হতে হয়তো ২০২৩ সাল হয়ে যাবে। তাই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি পরিবেশ প্রচারকদের।

বিজ্ঞাপন