চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আসামে সংবর্ধিত সাচ্চু, ফিরে এলেন মুগ্ধতা নিয়ে

‘এরআগে আসামে যাওয়া হয়নি। পাশের রাজ্য মেঘালয়ে গিয়েছি। কিন্তু এবার আসামের সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘ব্যতিক্রম’-এর আমন্ত্রণে গিয়ে রীতিমত মুগ্ধ, এতো অতিথিপরায়ণ আর সংস্কৃতি বান্ধব পরিবেশ আমি জীবনে খুব কম ই দেখেছি। বিমান বন্দর থেকে নেমে যে গাড়ি দিয়ে আমরা অনুষ্ঠানস্থলে যাচ্ছিলাম, সেখান থেকেই আমাদের মুগ্ধতা শুরু। কারণ গাড়িতে উঠামাত্রই সেই গাড়ির চালক মৃদু শব্দে চালিয়েছিলেন ভূপেন হাজারিকার গান!’

আসামের গুয়াহাটিতে সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘ব্যতিক্রম’-এর ১৫ বছর উদযাপন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ থেকে আমন্ত্রিত হয়েছিলেন বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা, সংগঠক ও চ্যানেল আইয়ের অনুষ্ঠান বিভাগের কর্মকর্তা (ডিজি)  শহীদুল আলম সাচ্চু। এই অনুষ্ঠানে দুজনকেই সংবর্ধনা জানানো হয়।

বিজ্ঞাপন

আসামের গুয়াহাটি থেকে ফিরে নিজের মুগ্ধতার কথা চ্যানেল আই অনলাইনকে এভাবেই বলছিলেন অভিনেতা শহীদুল আলম সাচ্চু।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতের কিংবদন্তি শিল্পী ঊশা মুঙ্গেশকর ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় অভিনেতা জর্জ বাকের। ব্যতিক্রমের ১৫ বছর উদযাপন উপলক্ষ্যে সেদিন বিভিন্ন অঙ্গনের বহু গুণীজনকে ‘ব্যতিক্রম অ্যাওয়ার্ড ২০১৯’ প্রদান করা হয়।

‘ব্যতিক্রম’-এর এমন আয়োজন নিয়ে মুগ্ধতা প্রকাশ করেন অভিনেতা সংঘের সাবেক সভাপতি সাচ্চু। তিনি বলেন, গুয়াহাটিতে না গেলে বুঝতেই পারতাম না যে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের কতো ক্ষমতা! সংগঠন হিসেবে ‘ব্যতিক্রম’-কে এর প্রতিষ্ঠাতা ড.সৌমেন ভারতীয় এমন জায়গায় নিয়ে গেছেন, যা ঈর্ষা করার মতো! একটি সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের গ্রহনযোগ্যতাও নিজ চোখে দেখে এলাম।

এতো গোছানো একটি অনুষ্ঠানে আমাকে আমন্ত্রণ জানানোয় এই সংগঠনের সাথে যুক্ত প্রত্যেকের কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা থেকে শুরু করে ‘ব্যতিক্রম’-এর সাংগঠনিক সম্পাদক বিশাখা এবং আমাদের গাইড লাইন শিবানি দত্ত ও মৃণাল দেবের প্রতি কৃতজ্ঞ। গাড়ির চালক রমজান আলী থেকে শুরু করে এতো ব্যতিক্রম-এর প্রতিষ্ঠাতা, কারো মধ্যেই কোনো অস্থিরতা দেখিনি।-বলছিলেন সাচ্চু।

বাংলাদেশে ‘দর্শক শ্রোতা পাঠক ফাউন্ডেশন’ ও ‘দশের ফোরাম’ নামের দুটি সংগঠনের চেয়ারম্যান শহীদুল আলম সাচ্চু। সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে কাজ করলেও ভবিষ্যতে আসামের ‘ব্যতিক্রম’-এর সঙ্গে মিলে ঢাকা ও গুয়াহাটিতে বেশ কিছু কাজেরও পরিকল্পনা করে এসেছেন তিনি। যে কাজগুলো বাঙালি ও আসামি সংস্কৃতিতে এক ধরণের মেলবন্ধন তৈরী করবে বলে মনে করেন সাচ্চু।

সাচ্চু জানান, গুয়াহাটিতে বঙ্গবন্ধুর নামে একটি লাইব্রেরীও করতে চলেছেন ‘ব্যতিক্রম’-এর চেয়ারম্যান সৌমেন। আমি ও শামসুজ্জামান খান বঙ্গবন্ধুর নামে প্রস্তাবিত লাইব্রেরির জায়গাও দেখে এসেছি। শিগগির সেই কাজও শুরু হবে। সেই লাইব্রেরির সাথেও সহযোগিতায় পাশে থাকবে ‘দর্শক শ্রোতা পাঠক ফাউন্ডেশন’ ও ‘দশের ফোরাম’। বাংলাদেশ থেকে পত্রিকা, বই সবকিছুই থাকবে বঙ্গবন্ধু লাইব্রেরিতে।

আসামের গুয়াহাটিতে সারা বছর সাংস্কৃতিক কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করে থাকে ‘ব্যতিক্রম গ্রুপ’। আর্ট এক্সিবিশন থেকে শুরু করে মঞ্চ, গান, চলচ্চিত্রসহ শিল্পকলার সব মাধ্যম নিয়েই অত্যন্ত আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠান আয়োজন করেন তারা। বাংলাদেশেও বেশ কয়েকবার গানের অনুষ্ঠান ও মঞ্চ প্রদর্শনী করে গেছেন তারা, তেমনি বাংলাদেশ থেকেও তাদের আমন্ত্রণে গুয়াহাটি গিয়েছেন বিভিন্ন সাংস্কৃতিক দল।

Bellow Post-Green View