চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আসামের মতো নাগরিক তালিকা পুরো দেশেই চায় কেন্দ্র

ভারতের আসাম রাজ্যে চলমান নাগরিক তালিকা বা ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেনস (এনআরসি) প্রকল্পটি পুরো দেশে পরিচালনার ইঙ্গিত দিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার।

কেন্দ্রের যুক্তি হলো, বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশকারী জনগোষ্ঠীকে শনাক্ত করা শুধু আসাম নয়, পুরো দেশের জন্যই বৃহৎ পরিসরের একটি সমস্যা। তাই পুরো ভারত থেকে এদেরকে তাড়াতে দেশজুড়ে নাগরিক তালিকা তৈরি করা জরুরি।

কিন্তু এনডিটিভি’র বিশ্লেষণ মতে, অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি পরস্পরবিরোধী তথ্য প্রকাশ ও তা অস্বীকার করার প্রবণতা ফলে কম নির্ভরযোগ্য।

এ পর্যন্ত শুধু দু’বার বাংলাদেশ থেকে ভারতে অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যা উল্লেখ করার ঘটনা ঘটেছে। প্রথমবার ২০০৪ সালে তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শ্রী প্রকাশ জয়সোয়াল সংসদে বলেছিলেন, পুরো ভারতে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ অবৈধ বাংলাদেশি বসবাস করছে।

কিন্তু পরে নিজেই সেই বক্তব্য থেকে সরে এসে বলেছিলেন, সংখ্যাটি ‘জনশ্রুতি’ এবং ‘সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহল’ থেকে শুনতে পেয়েছেন।

দ্বিতীয়বার সংখ্যা উল্লেখের ঘটনা ঘটেছিল ২০১৬ সালে। সে সময়কার স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরেন রিজিজু সংসদে বলেছিলেন, অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের এই সংখ্যাটি ২ কোটির কাছাকাছি গিয়ে ঠেকেছে, যা শ্রী প্রকাশ জয়সোয়ালের উল্লিখিত সংখ্যা থেকে প্রায় ৭০ শতাংশ বেশি। অবশ্য রিজিজু তার দেয়া তথ্যের পক্ষে কোনো সূত্র উল্লেখ করেননি।

বিজ্ঞাপন

তবে বাস্তবতা হলো, ভারত সরকার গত চার বছরে অন্তত ৭ বার বলেছে যে, ভারতে মোট অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যা নিশ্চিত করে জানার মতো কোনো দালিলিক প্রমাণ নেই। এই চার বছরে অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীর অস্তিত্ব ও সংখ্যা নিয়ে দফায় দফায় অস্বীকার করে দেয়া বক্তব্যের ধরনও পাল্টেছে।

যেমন, ২০১৭ সালের এপ্রিলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সংসদকে জানানো হয়েছিল, বাংলাদেশের কতজন নাগরিক ভারতে বসবাস করছে তার সঠিক তথ্য বের করা অসম্ভব।

শুধু ২০১৭ সালেরই ডিসেম্বর, আগস্ট এবং মার্চে সরকার বলেছে, ভারতে বসবাসকারী মোট অবৈধ অভিবাসীর কোনো সঠিক সংখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না। মার্চে কেন্দ্র সরকার যুক্তি দেখিয়ে বলেছিল, যেহেতু বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন পথে গোপনে ভারতে প্রবেশ সম্ভব, সেহেতু এ ধরনের অনুপ্রবেশের সঠিক হিসাব পাওয়া সম্ভব নয়।

নিজস্ব অনুসন্ধানে এনডিটিভি জানিয়েছে, ২০১৬ সালের ডিসেম্বর এবং ২০১৫ সালের ডিসেম্বর ও এপ্রিলে কেন্দ্র সরকার একই কথা সংসদে জানিয়েছিল।

এরপরও আসামে নাগরিক তালিকা তৈরি নিয়ে এত চেষ্টা এবং এই প্রক্রিয়া নানাভাবে বিতর্কিত হওয়ার পরও পুরো দেশজুড়ে প্রকল্পটির সম্প্রসারণের ইঙ্গিত সরকারের নিজের বক্তব্য নিয়ে নিজেরই দ্বিধা ও সিদ্ধান্তহীনতার সংকেত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

শেয়ার করুন: