চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আসল আওয়ামী লীগ, নকল আওয়ামী লীগ চেনার উপায় কী?

ছাত্রবিক্ষোভ দমনের পরিণতি যে কারও জন্য সুখকর হয়নি এটা ঐতিহাসিক দৃশ্যমান বাস্তবতা। ভাষা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের উপর যারা হামলা করেছিল তারা কি টিকতে পেরেছিল? 

১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন ও ১৯৬৯ এর ছাত্র গণঅভ্যুত্থানে যারা দমন পীড়ন চালিয়েছিল তারা কি টিকে থাকতে পেরেছিল? ১৯৭১ সালে পাক হায়েনারাও দমন পীড়ন চালিয়েছিল ছাত্রদের উপর।

স্বৈরাচার হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদও দমন পীড়ন চালিয়েছিল ছাত্রদের উপর। ফলশ্রুতিতে এরশাদের কী পরিণতি হলো? ওয়ান ইলেভেনের সময়ও ছাত্রবিক্ষোভ হয়। সেনা সরকার তাদের উপর চালায় দমনপীড়ন।কিন্তু সেদিনের পীড়নকারী সেনা শাসকরা ক্ষমতার মদদের কি টিকে থাকতে পেরেছে?

কোটা সংস্কার আন্দোলনের উত্তাপ শেষ হতে না হতেই শুরু হয়ে গেল রাজধানীতে বাসচাপায় শিক্ষার্থী হত্যার প্রতিবাদে ছাত্রবিক্ষোভ। এভাবে গোটা ছাত্র সমাজকে সরকারের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করানোর পরিণতি কী হতে পারে? আর মাত্র দুইমাস পরে গঠিত হতে চলেছে নির্বাচনকালীন সরকার। দেশ জুড়ে নির্বাচনের হাওয়া।

কোটা সংস্কার ইস্যুটার মত বাসচাপায় নিহত কিশোর-কিশোরীকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের ইস্যুটাও কি নির্বাচনের জন্য তুলে রাখা হচ্ছে? যারা তুলে রাখতে চাচ্ছেন এব্যাপারে তাদের যুক্তিটা কি?

শিক্ষার্থীরা রাজপথে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছিল। পুলিশ কেন তাদের পেটালো? এ পুলিশতো পাক হানাদারদের পুলিশ কিংবা স্বৈরাচার এরশাদের পুলিশ নয়। এ কর্মসূচি কি ন্যায্য নয়?

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় দোষীদের শাস্তির দাবিতে শিক্ষার্থীদের চলমান বিক্ষোভকে যৌক্তিক বলে মন্তব্য করেন।

তাহলে প্রশ্ন জাগে এই যৌক্তিক বিক্ষোভে কেন অযৌক্তিক হামলা? এখন দেশেতো বিএনপি জামাত ক্ষমতায় নয় যে তাদের নির্দেশে পুলিশ এ হামলা করেছে।

শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছে কোত্থেকে হঠাৎ এক যুবক এসে বাস ভাঙতে লাগল। আন্দোলনকারীরা তাকে ধরে পুলিশে দিল। তখন ভাঙচুরকারী যুবকটি পরিচয় দিল সে ছাত্রলীগের নেতা। যদি সে সত্যি সত্যি ছাত্রলীগের নেতা হয়ে থাকে তাহলে তাকে কে পাঠাল। এই ভাঙচুরের পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল তার এটাও জানা জরুরি।

বিজ্ঞাপন

শিক্ষার্থীরা রাজপথে গাড়ির লাইসেন্স চেক করছে। সংবাদপত্রে লিখেছে পুলিশ কর্মকর্তার মোটরবাইকের লাইসেন্স ও বাইকের পেছনের আরোহীর হেলমেট না থাকায় তাদের মোটরবাইক আটকে ফেরত পাঠিয়েছে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

বুধবার বিকেল চারটার দিকে ধানমন্ডির সায়েন্স ল্যাব এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।

বৃষ্টি উপেক্ষা করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা চ্যানেল আই অনলাইনকে জানায়, সকাল থেকেই আমরা প্রতিটি গাড়ির লাইসেন্স চেক করেছি। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কাউকেই যেতে দেইনি। পুলিশের একটি বাইক যেতে চাইলে আমরা লাইসেন্স চাই। তারা দেখাতে ব্যর্থ হয় এবং বাইকের পেছনের আরোহীর হেলমেট না থাকায় তাদের গন্তব্যস্থলে যেতে না দিয়ে ফিরতি পথে পাঠিয়ে দেই।

এসময় বৃষ্টিতে আটকে পড়া কয়েকশ’ মানুষ প্রিয়াঙ্গন শপিং মল থেকে ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করছিল। শিক্ষার্থীরা পুলিশের বাইক ফিরতি পথে পাঠিয়ে দিলে সাধারণ জনতা করতালি দিয়ে শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছায় সিক্ত করে।এমন একটি আন্দোলনকে হেলাফেলা করে দেখা কি সমীচীন হবে? যে পুলিশ লাইসেন্স ছাড়া বাইক নিয়ে বেরোয় তারা কি এই বাচ্চা ছেলেমেয়েদের গায়ে হাত তুলতে পারে? দেশে সড়ক মন্ত্রণালয় রয়েছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রয়েছে। এই বাচ্চা ছেলেমেয়েদের লাইসেন্স চেক করতে রাস্তায় নামা তাদের ব্যর্থতার দিক ফুটে ওঠেনা?

সরকারের শেষবেলায় ছাত্রশিক্ষকদের রাস্তায় নামা, কোটা সংস্কারের লড়াই, আন্দোলনকারীদের উপর নির্যাতন, আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে আদালতে লাঞ্ছিত করা, স্কুলের ছেলেমেয়েদের রাজপথে নামা ও তাদের প্রতি জনসমর্থন সরকারকে সুফল দেবে না কুফল দেবে?

আর একটি বিষয় বাংলাদেশের সব সেক্টরেই অনুপ্রবেশকারীদের দৌরাত্ম যেন নিয়তি হয়ে উঠছে। কে শত্রু,কে মিত্র বোঝা বড় দায়। নৌকার ব্যাজ লাগিয়ে ভোট দেয় ধানের শীষে। তাজউদ্দিন আহমেদ বলেছিলেন, মুজিব ভাই কে শত্রু আর কে মিত্র তা জেনে যেতে পারলেন না। তিনি কি জীবদ্দশায় জানতেন কারা তার সাথে থেকে তাকেই হত্যার চক্রান্তে লিপ্ত ছিল? নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের ভেতর ছাত্রলীগ পরিচয়দানকারী ছেলেটা কেন ঢুকল? কেন আন্দোলনকারীদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বাস ভাঙলো? শুধু এই একটি মাত্র ছেলেকে নিয়ে ভাবলে হবেনা। নেপথ্যে রয়েছে হয়তো এক চতুর ষড়যন্ত্রের নেটওয়ার্ক। নইলে একটা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে কেন তার অনাকাঙ্ক্ষিত প্রবেশ?

চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের জাল এখন ঘরে বাইরে বিস্তৃত। অনুপ্রবেশকারীদের কারা দলে নিল ও কেন নীল? অবস্থাটা দাঁড়াচ্ছে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগ। আসল আওয়ামী লীগ ও আসল ছাত্রলীগ বোঝায় দায় হয়ে পড়েছে। কাউয়া, মৌসুমি পাখি, হাইব্রিড, ফার্মের মুরগী ইত্যাদি বিশেষণ দেয়া হলো।

কিন্তু এদের কি প্রতিরোধ করা গেল? আসল নকল খুঁজে বের করার কষ্টিপাথরের ভূমিকায় কে? নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্রদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে সহিংসতা সৃষ্টির উদ্দেশ্য কী? কথিত ছাত্রলীগ নেতার নিকট হতে সব তত্ত্ব বের করা হোক। বিষয়টাকে গুরুত্ব না দিয়ে উড়িয়ে দেয়া হবে চরম বোকামি।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে)

বিজ্ঞাপন