চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আশা কিন্তু দুঃস্বপ্নে পরিণত হতে পারে: দীপঙ্কর দীপন

নতুন বছরে নির্মাতার ভাবনা:

নতুন বছরে বাংলা চলচ্চিত্র নিয়ে সবার উচ্ছ্বাস দেখে ভালো লাগছে। কিন্তু আমি একটু ভিন্নভাবে ভাবতে চাই। ২০২০ সালটি বাংলা চলচ্চিত্রের জন্য হতে পারে আশাহত হওয়ার জন্য সবচেয়ে তীব্র বছর। কেন? যেরকম কৃষক প্রতি সিজনেই অপেক্ষায় থাকেন তার ফসল ভালো হবে, তারা ভালোমতো খেতে পারবেন। কিন্তু সেটা সব সময় তার হয়ে উঠে না। ফসল ফলে না বলে ভালোমতো সে খেতেও পারে না। তবু আশা রয়ে যায়, কৃষক আশা ছাড়ে না। যে বছর ফসল বাম্পার হয়, কিন্তু সে বছরেও যখন কৃষকের ঘরে অর্থ আসে না, তখন সে মারাত্মকভাবে হতাশ হয়ে পড়ে। আমার মনে হয় ২০২০ সালটি আমাদের জন্য এরকমও হতে পারে!

বাংলা চলচ্চিত্রের জন্য খুব সম্ভাবনাময় একটি বছর ২০২০। কিন্তু এই সম্ভাবনা দূরাশাও হয়ে যেতে পারে, এই ভাবনাও আমাদের থাকা উচিত।

বিজ্ঞাপন

কারণটা হচ্ছে চলচ্চিত্র মুক্তি নিয়ে, সিনেমা হলে চলচ্চিত্র মুক্তির পদ্ধতি নিয়ে। ছবি রিলিজের সমন্বয় নিয়ে। ২০২০ সালে সত্যি সত্যি অনেক ভালো চলচ্চিত্র আসছে। কিন্তু এগুলো যদি আমরা প্ল্যান না করে রিলিজ করি, তাহলে সব ভেস্তে যাবে। সমস্ত ভালো ছবিগুলো একসঙ্গে রিলিজ করলে দর্শককে বঞ্চিত করার আশঙ্কা থাকে। দর্শক ভাগ হয়ে যায়। ডিস্ট্রিবিউশন কিংবা এই সংক্রান্ত পলিটিক্স এর মধ্যে ছবি পড়ে গেলেতো আরো সর্বনাশ। অতীত অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, যদি এরকম পলিটিক্সের মধ্যে এবছরও আমরা পড়ে যাই তাহলে অনেকগুলো ভালো ছবি আসলেও কোনো ফায়দা হবে না।

সবাই ছবি বানাচ্ছি। সবাই ২০২০ সালে রিলিজ করবো, কখন রিলিজ করবো, কোন ছবির আগে কোন ছবি রিলিজ করবো এ সংক্রান্ত কোনো প্ল্যান কি আমাদের আছে? যদি না থাকে প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশন কিংবা এই সংক্রান্ত চলচ্চিত্রের যে সংগঠনগুলো জড়িত তারা সবাইকে নিয়ে ইন্টার্নালি বসে একটা সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। একটা ছবি ব্যবসার জন্য কি দুই সপ্তাহ পাবে, নাকি দুই সপ্তাহের মধ্যে আরেকটা ছবি চলে আসবে সিনেমা হলে-এই ভাবনাগুলোও আগে থেকে থাকা উচিত বলে আমার মনে হয়। আমাদের প্রত্যেকটা ছবি ব্যবসা করতে দেয়ার সুযোগ থাকা উচিত। 

না হলে, আশা কিন্তু দুঃস্বপ্নে পরিণত হতে পারে! কারণ এই ২০২০ সাল নিয়ে অনেক নির্মাতা অনেক প্রযোজক খুব আশা করে আছেন, ভরসা করে আছেন। সেক্ষেত্রে ছবিগুলোর রিলিজ যদি সমন্বয়হীনতার মধ্য দিয়ে হয়, ক্ল্যাশ করে কিংবা ফিল্ম পলিটিক্সের শিকার হয় তাহলে ইন্ডাস্ট্রি কিন্তু সামনে আর ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস পাবে না। চলচ্চিত্র নিয়ে স্বপ্ন দেখারও সাহস পাবেন না নিয়মিত প্রযোজকরা। একজন প্রযোজক যদি বেশি টাকার ছবি বানিয়ে ব্যবসা না করতে পারেন, প্রতিবছরই তাকে অর্থ সংকটের সম্মুখীন হন তাহলে সে যেই হোক তারপর আর কোনো ছবিতে হাত দিবেন না।

লেখক: দীপঙ্কর দীপন, চলচ্চিত্র নির্মাতা

বিজ্ঞাপন