চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আশাবাদ নিয়েই শিরোনামহীনের এই গান

শিরোনামহীনের ‘শনশন, যদিও কাশবন’- এর সিক্যুয়েল ‘কাশফুলের শহর দেখা’

দেশের শ্রোতাপ্রিয় গানের দল শিরোনামহীন। দুই যুগ ধরে নতুন সুর সংগীত আর কথায় মাতিয়ে রেখেছে দলটি। পুরনো সময়ের গান তো বটেই, তাদের সাম্প্রতিক গানগুলোও তরুণ প্রজন্মের ঠোঁটস্থ! বোহেমিয়ান, যাদুকর, বারুদসমুদ্র কিংবা ক্যাফটেরিয়া পেরিয়ে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়াদের মুখে মুখে।

আবারও আসছে জনপ্রিয় এই দলটির নতুন গান। স্পষ্ট করে বললে, নতুন ‘গান ভিডিও’ নিয়ে আসছে শিরোনামহীন। গান ভিডিওটির শিরোনাম ‘কাশফুলের শহর দেখা’। এরইমধ্যে কয়েক সেকেন্ডর টিজারও প্রকাশিত হয়েছে। যা দেখেই অপেক্ষার প্রহর গুণছেন শিরোনামহীনের শ্রোতা ভক্ত অনুরাগীরা।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

কবে আসছে নতুন এই গান? এমন প্রশ্নে কৌতুহলী সবাই। কিন্তু কবি নিরব! তাই শিরোনামহীনের কৌতুহলী ভক্ত শ্রোতাদের পক্ষ থেকে নিরব কবির কাছে জিজ্ঞাসা, শহর দেখতে কাশফুলটি কবে আসছে? নিরবতা ভেঙ্গে উত্তর দিলেন শিরোনামহীনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, বেইজ গিটারিস্ট ও গীতিকবি জিয়াউর রহমান জিয়া।

‘নতুন গানটি কবে আসছে?’ এই প্রশ্নের উত্তর দেয়ার আগে গানটি হয়ে উঠার পেছনের কথা বললেন তিনি। চ্যানেল আই অনলাইনকে জানালেন, ‘কাশফুলের শহর দেখা’ গানটির রেকর্ডিং সম্পন্ন হয়েছে গত বছরে কোভিড পরিস্থিতির আগেই।

তাহলে এতো দেরী? পাল্টা প্রশ্নে জিয়া জানালেন, মূলত ভিডিও ধারণ অর্ধেক সম্পন্ন হওয়ার পর পর লকডাউন দেয়ায় কাজটি পিছিয়ে যায়। কারণ গানটির ভিডিও যিনি নির্মাণ করছেন, তিনি থাকেন আমেরিকায়। নাম তার নাইমুল বানিন।

বিজ্ঞাপন

তরুণ এই নির্মাতা সম্পর্কে শিরোনামহীনের এই সদস্য আরো জানালেন, বানিন ফিল্মের উপর লেখাপড়া করেছেন। বেসিক্যালি তিনি একজন ফিল্মমেকার। আমেরিকাতেই থাকেন, সেখানেই কাজ করেন।

তাহলে শিরোনামহীনের গানের ভিডিও নির্মাণে তিনিই কি নিজ থেকে আগ্রহী হলেন? এমন প্রশ্নে বেইজ গিটারিস্ট জিয়া জানান, একদম তাই ই। নির্মাতার আর্লি এইজে আমাদের সাথে ফটোগ্রাফির কাজ করতো, আমাদের কনসার্টগুলোতে যেত আমাদের সাথে। ছবি তুলতো। শিরোনামহীনের জন্য তার তুমুল ভালোবাসার জায়গা আছে। সেই জায়গা থেকেই সে শিরোনামহীন ব্যান্ডের একটি ভিডিও বানানোর আগ্রহ দেখায়। যেহেতু সে ফিল্ম মেকিং এর ওপর পড়াশোনা করেছে, তো এই কারণে এসে নিজের আগ্রহ থেকে নিজের মনে করে শিরোনামহীনের জন্য ভিডিওটি নির্মাণ করছে। আমরা তার প্রতি কৃতজ্ঞ।

জিয়া জানান, আমাদের ভিডিওটা করতেই লকডাউনের আগে বানিন আমেরিকা থেকে বাংলাদেশে এসেছিলেন। কিন্তু যখন লকডাউন দিয়ে দিল, তখন সে অনেক দিন অপেক্ষা করে। কিন্তু লকডাউন কবে শেষ হবে, এ অনিশ্চয়তায় একটা সময় সে আবার আমেরিকায় ফিরে যায়। এরপর কিছুদিন আগে যখন লকডাউন শিথিল হলো, সেই ফাঁকে সে আবার বাংলাদেশে আসে এবং ভিডিওর বাকি অংশের শুটিং সম্পন্ন করে। সব ফাইল নিয়ে সে আবার আমেরিকা চলে গেছে। সম্প্রতি একটি টিজার করে আমাদেরকে দিল। জানিয়েছে পুরো ভিডিওটির সম্পাদনা চলছে। তার আগে হয়তো এই গানের আরো এক-দুইটা টিজার প্রকাশ পাবে।

‘কাশফুলের শহর দেখা’ গানটির ভিডিওতে কী আছে, এ বিষয়ে আগাম স্পয়লার দিতে নারাজ শিরোনামহীনের এই সদস্য। শুধু জানালেন, ‘কাশফুলের শহর দেখা’ গানটি আমাদের শেষ অ্যালবামের গান ‘শনশন, যদিও কাশবন’ এর সিক্যুয়াল। ওই গানটি ছিল প্রকৃতি নিয়ে। কাশবন থেকে যদি একটি কাশফুল ছুটে চলে যায়, উড়তে উড়তে। কিংবা চলে আসে শহরে, এইযে উপর থেকে সব কিছু দেখছে- করোনায় আমরা কেমন আছি, আমাদের দুঃখ কষ্ট হাসি আনন্দ বেদনা সব কিছুই দেখতে পাচ্ছে। মূলত উড়ে আসা কাশফুলটার পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে সেইসব ঘটনা আমরা এই গানে ডিসক্রাইব করব। সেটারই একটা ভিডিও প্রেজেন্টেশন থাকবে গানের মধ্যে।

গানটিকে তিনি বলছেন আশাবাদের গান। শিরোনামহীনের বেশির ভাগ গানের মতো এই গানটিরও রচয়িতা জিয়া নিজেই। গানটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই গানটি একটি আশাবাদের গান, গানটির মূল মেসেজ হচ্ছে আমরা জীবন-যাপনের অনেক ক্ষেত্রে হেরে যাই, কিন্তু যদি ডিটারমাইন্ড থাকে তাহলে সে পরিস্থিতিকে জয় করতে পারবো। এমন আশাবাদ থাকবে গানটির কথা ও ভিডিওতে। খুব অপটিমিস্টিক টাইপের একটা গান।

এদিকে আসেছে পহেলা বৈশাখে ২৫ বছর পূর্তি হতে চলেছে শিরোনামহীন এর। এ বিষয়েও কথা বলেন জিয়াউর রহমান জিয়া। জানালেন, আমরা একটি স্বপ্ন দেখেছিলাম, আসছে পহেলা বৈশাখে শিরোনামহীনের জন্মদিন। এবার আমাদের ২৫ বছর। সিলভার জুবিলি। তো আমাদের জন্য একটা মাইলস্টোন। আমরা ভেবেছিলাম এটাকে আমরা খুব ভালোভাবে সেলিব্রেট করবো, সেরকম আগ্রহ ছিল সবার। পরিকল্পনাও এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলাম, কিন্তু কোভিড পরিস্থিতির কারণে কিছুই আর হচ্ছে না। তো ওই সময়টায় অন্তত এই গানটি রিলিজ দেয়ার খুব ইচ্ছা আছে। যদিও এখনও নিশ্চিত নয়, শোনা যাচ্ছে ওই দিনেই রোজা শুরু হতে পারে। এরকম হলে আবার একটু অপেক্ষা করে হয়তো ঈদের জন্য এই গানটি রিলিজ দিতে পারি।

বিজ্ঞাপন