চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আলোচনায় ‘মিস ইন্ডিয়া রানার্স আপ’ মান্য সিং

গত ৯ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ে আয়োজিত হয়েছে ভিএলসিসি ফেমিনা মিস গ্র্যান্ড ইন্ডিয়া-২০২০ গ্র্যান্ড ফিনালে। যে অনুষ্ঠানে ‘সেরা সুন্দরী’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে ভারতের সেরা তিন সুন্দরীর নাম।

যদিও সেরার মুকুটটি উঠেছে তেলেঙ্গানার মেয়ে মানসার মাথায়। তবে সবকিছু ছাপিয়ে স্পটলাইট কেড়ে নিয়েছেন ফেমিনা মিস ইন্ডিয়া রানার আপের খেতাব জয়ী উত্তরপ্রদেশের মেয়ে মান্য সিং!

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

কে এই মান্য সিং? কেনই বা চলছে তাকে নিয়ে এতো চর্চা? মূলত উত্তর প্রদেশের কুশিনগরের মেয়ে মান্য। বাবা সেখানকারই একজন অটোরিক্সাচালক। দিনরাত পরিশ্রম করে, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে স্বপ্ন সত্যি করার জন্য লড়ে গেছেন মান্য। আর তাইতো দারিদ্র্যর সঙ্গে লড়ে ভিএলসিসি মিস ইন্ডিয়া রানার আপ হয়ে ওঠার গল্প সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্প্রতি সকলের সঙ্গে ভাগ করলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

মান্য জানিয়েছেন, ছোট থেকেই অভাবের সংসার তাদের। অটোচালক বাবার রোজগার তেমন ছিল না। ঠিকমতো দু’বেলা খাবার জুটত না। খিদের জ্বালায় রাতের পর রাত ঘুমতেও পারতেন না। তিনি আরও জানান ‘আমার রক্ত, ঘাম এবং চোখের জলই আমাকে স্বপ্ন দেখতে সাহস জুগিয়েছে’।

অটো চালকের মেয়ে হওয়ায় স্কুলে বেশিদিন পড়ার সুযোগ হয়নি। ১৪ বছর বয়স থেকেই কাজ করতে শুরু করি। বলছিলেন মান্য সিং।

তিনি এও জানান, তার স্কুলের টাকা দিতে টুকিটাকি যা সোনার গয়না ছিল একে একে সবই বন্ধক রেখেছিলেন তার মা। তার জন্য তার মা অনেক কিছু সহ্য করেছেন বলে জানান তিনি। মাত্র ১৪ বছর বয়সে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান মান্য। রোজগার করে পড়াশোনার টাকা জমাতে শুরু করে সে। দিনে পড়াশোনা, সন্ধ্যায় বাসন মেজে উপার্জন করে এবং রাতে কল সেন্টারে কাজ করতেন। এভাবে পড়াশোনা শেষ করেন। সামান্য কিছু টাকা বাচাতে গাড়িতে না উঠে ঘণ্টার পর ঘণ্টা হেঁটে যাতায়াত করতেন তিনি।

তবে ভাগ্য সবসময় সহায় ছিল না মান্যর। শত প্রতিকূলতা থাকলেও, স্বপ্ন দেখতে ভোলেননি তিনি। ঘাম, রক্তের বিনিময়ে এই পর্যন্ত তিনি আসতে পেরেই খুশি তিনি।