চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আলুর দাম কেজিতে বেড়েছে ৮ টাকা, চালে ৪

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মজুদ পর্যাপ্ত পরিমাণে রয়েছে, এই তথ্য দিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে আশ্বস্ত করার পরও বাজারে ভীড় জমিয়েছে মানুষ। তাই প্রয়োজনের তুলনায় এক সাথে বেশি কেনায় প্রায় সব ধরণের পণ্যের দাম বেড়ে গেছে।

এর মধ্যে আলুর কেজিতে ৮ টাকা, চালে ৩ থেকে ৪ টাকা, ডিমের হালিতে ২ টাকা বাড়তি দাম নিতে দেখা গেছে।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে করোনা ভাইরাসের রোগী সনাক্ত হয়েছে এই খবর প্রচারের পর থেকে মূলত পণ্যের দাম বাড়তে থাকে। তবে এখন আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। সেজন্য অতিরিক্ত জিনিসপত্র কিনে রাখছেন সবাই। আর ব্যবসায়ীরা এই সুযোগে দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।

তবে সরকারের তরফ থেকে বলা হচ্ছে, দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় কোনো পণ্যের ঘাটতি নেই। দামও বাড়বে না। তাই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি পণ্য না কেনার জন্য ক্রেতাদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বুধবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ কয়েকটি বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ২২ থেকে ২৫ টাকায়। অথচ গতকালও (মঙ্গলবার) প্রতি কেজি আলুর দাম ছিল ১৫ থেকে ১৬ টাকা। এছাড়া মানভেদে চালের কেজিতে বেড়েছে ৪ থেকে ৫ টাকা।

বাড়তি এই দামের তালিকায় রয়েছে আরো কয়েকটি পণ্য। যেমন: ২ টাকা বেড়ে ডিমের হালি বিক্রি হচ্ছে ৩২ টাকা, আদার দাম কেজিতে বেড়েছে ২০ টাকা। এছাড়া প্রায় সব পণ্যের দামই কমবেশি বাড়তির তালিকায় রয়েছে।

সরকারি বিপণন সংস্থা টিসিবির ওয়েবসাইটও বলছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় কয়েকটি পণ্যের দাম বেড়েছে।

সংস্থাটির তথ্যমতে, নাজিরশাইল ও মিনিকেট (সরু চাল) চালের কেজি এএখন বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬৪ টাকা; যা ২/৩ দিন আগেও ছিল ৫০ থেকে ৫৫ টাকা। মাঝারি আকারের চাল (পায়জাম) বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫৫ টাকা; যা ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা। এছাড়া ৩২ থেকে ৩৮ টাকার মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৩৪ থেকে ৪০ টাকা।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে হোসেন নামের একজন ক্রেতা বলেন, সামনে হয়তো বাসা-বাড়িতেই বেশি সময় ধরে থাকতে হবে। তাই এক সাথে বেশি পরিমাণে জিসিনপত্র কিনে রাখছি।

তবে ব্যবসায়ীরা বেচাবিক্রি বেড়ে যাওয়া অনৈতিকভাবে দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। এ বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

দেশে করোনা ভাইরাসের রোগী সনাক্ত হয়েছে এই খবর প্রচারের পর থেকে মূলত পণ্যের দাম বাড়তে থাকে। তবে এখন আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। সেজন্য অতিরিক্ত জিনিসপত্র কিনে রাখছেন সবাই।

তবে আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত পণ্য না কেনার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বুধবার সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ সব ধরনের পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ ও সরবরাহ রয়েছে। তাই করোনা ভাইরাসে আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত পণ্য ক্রয় করার দরকার নেই।

                                         বাণিজ্য সচিব ড. জাফর উদ্দিন

বাণিজ্য সচিব চ্যানেল আই অনলাইনকে জানান, পণ্যের কোনো ঘাটতি নেই। আমদানিও করা হযেছে প্রচুর পরিমাণে। অতএব জিনিসপত্র নিয়ে মানুষের আতঙ্কের কিছু নেই।

তিনি বলেন, কেউ দাম বেশি রাখলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ভোক্তা অধিদপ্তরের টিম বাজার মনিটরিংয়ে কাজ করছে।

বিজ্ঞাপন