চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আলাবামায় গর্ভপাত আইন কেন এত কঠোর করা হলো?

যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা অঙ্গরাজ্যে গর্ভপাত নিষিদ্ধ করে বিল পাস করেছেন রাজ্যের আইনপ্রণেতারা। একে যুক্তরাষ্ট্রে প্রণীত এ ধরনের আইনের মধ্যে এ যাবতকালের সবচেয়ে কঠোর আইন বলে মনে করা হচ্ছে।

বিবিসি জানিয়েছে, আলাবামা সিনেট স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিলটিতে অনুমোদন দেয়।

বিজ্ঞাপন

বিলে এর আগে ধর্ষণ বা রক্তের সম্পর্কের আত্মীয়দের মধ্যে যৌন সম্পর্কের ক্ষেত্রে গর্ভপাত বৈধ করার ছাড় দিয়ে একটি সংশোধনী প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু মঙ্গলবার সেই প্রস্তাবটিকেও বাতিল করে দেয়া হয়।

সিনেটের আগে চলতি মাসের শুরুর দিকে আলাবামার হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে ৭৪-৩ ভোটে এই বিল পাস হয়। বিলটিতে বলা হয়েছে, গর্ভবতী মায়ের স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকলেই শুধু বিশেষ কিছু পরিস্থিতিতে গর্ভপাতের অনুমতি দেয়া হবে।

সিনেটে পাসের পর এবার বিলটি যাবে আলাবামার রিপাবলিকান গভর্নর কে আইভির কাছে। তিনি সেটাতে সই করবেন কিনা তা এখনো জানাননি। তবে তিনি বরাবরই গর্ভপাতের একজন কট্টর বিরোধী হিসেবে পরিচিত।

অ্যাক্টিভিস্টরা মনে করছেন, নতুন এই বিলটি আইনে পরিণত হলে এটি ১৯৭৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে গর্ভপাতকে বৈধ ঘোষণা করে সুপ্রিম কোর্টের দেয়া রুলকে চ্যালেঞ্জ করবে।

কী আছে এই বিলে
যুক্তরাষ্ট্রের যে কয়টি অঙ্গরাজ্যে সম্প্রতি গর্ভপাত নিষিদ্ধ করে আইন পাস হয়েছে সেগুলোতে বলা হয়েছে, সাধারণত গর্ভধারণের ৬ সপ্তাহ সময় থেকে ভ্রূণের হৃদস্পন্দন শনাক্ত করা যায়। ভ্রূণের ওই বয়স হয়ে গেলে গর্ভধারণ নিষিদ্ধ।

যুক্তরাষ্ট্র-আলাবামা-গর্ভপাত নিষিদ্ধ বিল
সিনেটর ক্লাইড ক্যামব্লিস

কিন্তু আলাবামার বিলটি এর চেয়েও অনেক কঠোর।

নতুন বিলটির একটি অংশে স্পষ্ট বলা হয়েছে, গর্ভধারণের যে কোনো ধাপে গর্ভপাত ঘটানো প্রথম শ্রেণির অপরাধ। এ অপরাধে গর্ভপাতের চেষ্টা করা চিকিৎসকের ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। আর যদি সত্যিই গর্ভপাত ঘটানো হয়, তার জন্য ওই চিকিৎসক সর্বোচ্চ ৯৯ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

বিজ্ঞাপন

অবশ্য যে নারীর গর্ভপাত ঘটানো হবে তাকে আইনত অপরাধী ধরা হবে না।

শুধু মায়ের গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির ক্ষেত্রেই গর্ভপাত বৈধ বলে গণ্য হবে।

গর্ভপাত আইন এত কঠোর হলো কেন
নতুন এই বিলের মূল উদ্দেশ্য ১৯৭৩ সালের রো বনাম ওয়েড রায়টিকে ঘুরিয়ে দেয়া। কেননা ওই রায়ের মধ্য দিয়েই নারীকে নিজের গর্ভপাতের সিদ্ধান্ত নেয়ার সাংবিধানিক অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছিল।

গর্ভপাত বৈধ কি অবৈধ, এই বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে রয়েছে ব্যাপক বিভেদ। দেশটির একেক অঙ্গরাজ্যে এ নিয়ে আইন একেক রকম। এজন্য গর্ভপাতবিরোধীদের লক্ষ্য এখন বিষয়টিকে রাজ্য পর্যায় থেকে কঠোর আইনের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া।

এখন ট্রাম্প মনোনীত দু’জন কনজার্ভেটিভ বিচারপতি সুপ্রিম কোর্টে যুক্ত হওয়ায় তাদের আশা আরও বেড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে কেন এবার গর্ভপাত আইন এত কঠোর করা হলো, এ ব্যাপারেই যেন ব্যাখ্যা দিতে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা টেরি কলিনস সিনেটে হওয়া বিতর্কে বলেছেন: ‘আমাদের বিলটি বলছে, গর্ভের ভেতর থাকা ভ্রুণটিও একজন মানুষ।’

সিনেটর টেরি কলিনসই এই গর্ভপাত বিলের স্পনসর।যুক্তরাষ্ট্র-আলাবামা-গর্ভপাত নিষিদ্ধ বিল

আরেক রিপাবলিকান সিনেটর ক্লাইড ক্যামব্লিস বিলটির সমর্থনে বলেছেন, আইনে পরিণত হলে এটি সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে ১৯৭৩ সালের রো বনাম ওয়েড মামলার রায়কে চ্যালেঞ্জ করবে। ওই রায়ের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নারীর গর্ভপাতের অধিকার আইনত প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

অন্যদিকে ডেমোক্রেটিক সিনেটর ববি সিঙ্গেলটন বলেন, নতুন এই বিল ‘চিকিৎসকদের অপরাধী হিসেবে প্রকাশ করে’। তিনি অভিযোগ করেন, নারী তার দেহের সঙ্গে কী করবে তা পুরুষের বলে দেয়ার একটি চেষ্টা এটি।

ডেমোক্র্যাট রজার স্মিদারম্যান বিতর্ক শুরুর আগেই অবশ্য বিলটির প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছেন, ‘আমরা ধর্ষণ বা রক্তের সম্পর্কযুক্ত কারো সাথে অনিচ্ছায় যৌন সম্পর্ক থেকে গর্ভবতী হয়ে যাওয়া ১২ বছরের একটি বাচ্চা মেয়েকে বলছি যে তার কাছে এটা মেনে নেয়া ছাড়া কোনো সুযোগ নেই।’