চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘আরো বহুদিন আমাদের মাথার উপর শীতল ছায়া হয়ে থাকুন’

জন্মদিনে কিংবদন্তী অভিনেত্রী শাবানার উদ্দেশে চিত্রনায়ক শাকিব খান

নাম, যশ, খ্যাতি আর অর্থ! এক জীবনে এসব কিছুর দেখা পাওয়া মানুষের সংখ্যা বিরল। অথচ এমন বিরল সংখ্যক মানুষের মধ্যে দেশের কিংবদন্তী অভিনেত্রী শাবানা একজন!

বাংলা চলচ্চিত্রের জীবন্ত কিংবদন্তী তারকা শাবানা অভিনয় থেকে দূরে সরে রয়েছেন প্রায় দুই যুগ। তারপরেও জনপ্রিয়তার এক বিন্দু চিড় ধরেনি তার। খ্যাতিমান এ অভিনেত্রীকে নিয়ে ভক্তদের কৌতুহলের শেষ নেই। ১৫ জুন শাবানার জন্মদিন।

শাবানা প্রবাসে রয়েছেন। করোনার মধ্যে দেশে কোনো আয়োজন না থাকলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবছরের মতো এবারও জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন তার ভক্ত থেকে শুরু করে চলচ্চিত্র অঙ্গনের সহকর্মীরাও।

বিশেষ করে ঢাকাই ছবির শীর্ষ অভিনেতা শাকিব খান শাবানাকে জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়ে দিয়েছেন একটি দীর্ঘ পোস্ট। তার সে লেখায় উঠে এসেছে, দর্শক হিসেবে তিনি শাবানাকে কীভাবে দেখতেন!

শাবানাকে নিয়ে দেশ সেরা এ চিত্রনায়ক বলেন, যখন সাধারণ দর্শক হিসেবে তাকে পর্দায় দেখতাম, কী যে ভালো লাগা কাজ করতো। মনে হতো মায়া, মমতায় ভরা এই মানুষটি আমার খুব আপনজন। হৃদয়ের খুব কাছে যার বসবাস। আমার মতো হয়তো অনেকেই তার সিনেমা দেখে এমনটিই অনুভব করেছেন! এটাই তার অভিনয়ের ক্যারিশমা। তার অভিনয়, ব্যক্তিত্বে মোহিত হননি এমন দর্শক খুঁজে পাওয়া মুশকিল।

বিজ্ঞাপন

শাকিব খানের চলচ্চিত্রে অভিষেক ১৯৯৯ সালে। কিন্তু তার আগেই অভিনয় ছেড়ে দেন শাবানা। এ বিষয়টিকে ‘দুর্ভাগ্য’ বলেও লেখায় উল্লেখ করেন শাকিব। জানান, ‘আমার দুর্ভাগ্য, আমি চলচ্চিত্রে আসার আগেই তিনি অভিনয় ছাড়েন। তবে এটা ভেবেও প্রশান্তি পাই, চলচ্চিত্রে তাকে না পেলেও ব্যক্তি জীবনে অভিভাবক হিসেবে তাকে পেয়েছি। খুব কাছ থেকে দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। যোজন যোজন দূরে আছেন বটে, কিন্তু এখনও খোঁজ খবর রাখেন। জানতে চান চলচ্চিত্রের হালচাল।’

জন্মদিনে শাবানাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে শাকিব খান আরো বলেন, ‘বিশেষ এই দিনে মমতাময়ী শাবানা ম্যাডামের জন্য শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা রইলো। সুস্থ থাকুন, আরো বহুদিন আমাদের মাথার উপর শীতল ছায়া হয়ে থাকুন।’

শুধু শাকিব খান নয়, কিংবদন্তী এই অভিনেত্রীর জন্মদিনে তাকে নানাভাবে প্রাসঙ্গিক করে তুলছেন চলচ্চিত্র অভিনেতা, অভিনেত্রী থেকে শুরু করে এই প্রজন্মের সাধারণ দর্শক ভক্তরাও।

শাবানার পারিবারিক নাম আফরোজা সুলতানা রত্না। ১৯৫২ সালের ১৫ জুন চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলার ডাবুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। শাবানা গেন্ডারিয়া হাই স্কুলে ভর্তি হলেও তার পড়ালেখা ভালো লাগত না। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার তাই ইতি ঘটে মাত্র ৯ বছর বয়সে। চলচ্চিত্রকার এহতেশাম ছিলেন তার চাচা। তার মাধ্যমেই শাবানার চলচ্চিত্রে আগমন। পরিচালক এহতেশামই তার শাবানা নামটি দেন।

শাবানার চলচ্চিত্রে সূচনা হয় শিশু শিল্পী হিসেবে নতুন সুর চলচ্চিত্র দিয়ে। তিনি ২৯৯ টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। বেশিরভাগ ছবির নায়ক ছিলেন আলমগীর, রাজ্জাক, জসিম। অসংখ্য পুরস্কারের পাশাপাশি ১০ বার জাতীয়ভাবে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার অর্জন করেছেন শাবানা, পেয়েছেন আজীবন সম্মাননা।

শাবানা ১৯৭৩ সালে ওয়াহিদ সাদিকের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ওয়াহিদ সাদিক একজন সরকারী কর্মকর্তা ছিলেন। শাবানার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এস এস প্রোডাকশন্সের মালিক সাদিক। ১৯৯৭ সালে শাবানা হঠাৎ চলচ্চিত্র-অঙ্গন থেকে বিদায় নেওয়ার ঘোষণা দেন এবং ২০০০ সালে সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। শাবানা-সাদিক দম্পতির দুই মেয়ে-সুমি ও ঊর্মি এবং এক ছেলে-নাহিন।

বিজ্ঞাপন