চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আরো অপেক্ষায় তিস্তা চুক্তি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি সফলে ভারতে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করার অংশ হিসেবে সাতটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। আর আগে থেকে অনুমান অনুসারে বহুল আলোচিত তিস্তার পানি বন্টন বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা চুক্তি হয়নি।

সাতটি চুক্তি ও সমঝোতার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে সমুদ্র উপকূলে নজরদারি (কোস্টাল সারভেইলেন্স সিস্টেম-সিএসএস) বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার ও ভারত সরকারের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক, ভারতের পণ্য পরিবহনে চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহার বিষয়ক চুক্তি সম্পর্কিত একটি এসওপি (স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর) স্বাক্ষর এবং ত্রিপুরায় সাবরুম শহরে পানীয় জল সরবরাহ প্রকল্পে ফেনী নদী থেকে থেকে ১ দশমিক ৮২ কিউসেক পানি প্রত্যাহার বিষয়ে বাংলাদেশের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং ভারতের জলশক্তি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

তিস্তার কোনো সুরাহা না হলেও ফেনী নদীর পানি ত্রিপুরাকে দিয়ে আসার বিষয়টি ইতিমধ্যে সামাজিক মাধ্যমসহ গণমাধ্যমে আলোচনা-বিশ্লেষন শুরু হয়ে গেছে। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের প্রাপ্তি সর্ম্পকে। সফর শেষে করে আগামীকাল (রোববার) দেশে ফিরে আসবেন প্রধানমন্ত্রী। হয়তো তিনি দেশে ফিরে রুটিন মোতাবেক সংবাদ সম্মেলন করে জাতিসংঘ অধিবেশন ও ভারত সফর সর্ম্পকে জানাবেন।

তবে বহুল আলোচিত তিস্তা চুক্তির বিষয়ে দু’দেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের পর এক যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছে ভারত সরকার। যেখানে একটি দায়সারা গোছের আশাবাদ এসেছে। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদি (শেখ হাসিনাকে) অবহিত করেছেন যে তার সরকার ভারতে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে নিয়ে সম্ভাব্য দ্রুততম সময়ে চুক্তিটি সম্পাদনের জন্য কাজ করছে।’ যদিও তিস্তা চুক্তির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগেই বলেছেন, আট বছর আগে দুই দেশের সরকারের সম্মতি অনুযায়ী বাংলাদেশ এ চুক্তি আশু স্বাক্ষরের জন্য গভীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছে।

সর্বোপরি তিস্তা চুক্তির অপেক্ষা যে আরো বাড়লো, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। পশ্চিমবঙ্গসহ আরো বিভিন্ন রাজ্যের যোগসূত্র থাকায় এই চুক্তি ‘দ্রুততম সময়ে’ করা মোদি সরকারের জন্য কঠিন বললে ভুল হবে না বিগত আট বছরের অভিজ্ঞতা থেকে। তারপরেও আশাবাদী হওয়া ছাড়া আমাদের বিকল্প নেই, সেইসঙ্গে তিস্তা চুক্তি বিষয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা যথাযথভাবে জারি রাখাও উচিত বলে আমরা মনে করি। উভয়পক্ষের আন্তরিক ও যৌক্তিক চেষ্টায় চুক্তি অনুসারে তিস্তার ন্যায্য হিস্যা দ্রুত বাংলাদেশ বুঝে পাবে, এই আমাদের প্রত্যাশা।

Bellow Post-Green View