চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আরেকবার পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করল ভারত!

অতিবৃষ্টি ও বন্যায় ঘাটতি দেখা দেয়ায় নিজ দেশে যেন দাম না বাড়ে সেজন্য পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে ভারত। ফলে আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে ভারতীয় পেয়াঁজ আমদানি করা যাবে না।

সোমবার হিলি ও ভোমরা কাস্টমস রাজস্ব বিভাগ সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

আমদানিকারক সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের মত এবারও ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে অতিবৃষ্টি ও বন্যায় পেঁয়াজের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এতে ভারতের বাজারে দাম দাম বেড়ে গেছে। দাম যেন অতিমাত্রায় আর না বাড়ে সেজন্য মৌখিকভাবে বাংলাদেশে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে সরকারিভাবে এখনো কোনো ঘোষণা দেয়নি ভারত।

পেঁয়াজ আমদানির জন্য যেসব এলসি খোলা রয়েছে এবং টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে সেগুলোর বিপরীতেও কোনও পেঁয়াজ রপ্তানি করবে না বলে জানা গেছে।

আজ সোমবার হিলি ও ভোমরা স্থলবন্দরের কাস্টমস কর্মকর্তারা জানিয়েছে, সারাদিন কোনো পেঁয়াজ আসেনি ভারত থেকে। আগামীকাল থেকে আর আমদানি হচ্ছে না।

ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে এমন খবরে দেশের বাজারে আরেক দফা বেড়েছে দাম। কারওয়ান বাজারে পেঁয়াজের কেজিতে আজ বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা। বাজারে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৭৫ টাকায় আর আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়।

এ বিষয়ে কারওয়ান বাজারের পেঁয়াজ বিক্রেতা সুমন মিয়া জানান, পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করেছে ভারত। এই কারণে মানুষ হুমড়ি খেয়ে কিনেছে। ফলে কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে। আগামীকাল দাম আরো বাড়বে, এটাতে কোনো সন্দেহ নেই।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সত্যিকারে ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করেছে কি না সেই বিষয়ে খোঁজ নেয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

ভারতের পেঁয়াজের আমদানি বন্ধ হলেও বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, গত বছর বেশ কয়েকটি দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে। এবারও সেসব দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা হবে।
ইতোমধ্যে সে বিষয়ে প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

এছাড়া পেঁয়াজ আমদানির ওপর আরোপিত ৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআরকে) চিঠি  দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জরুরি ভিত্তিতে তুরস্ক থেকে এক লাখ টন পেঁয়াজ আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এছাড়া মিয়ানমার থেকেও পেঁয়াজ আমদানি কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।

পেঁয়াজের রপ্তানি ও মূল্য নির্ধারণ নিয়ে আজ ভারতে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল বলে জানিয়েছেন আমদানিকারকরা।

হিলি স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশিদ হারুন, সোমবার ভারত থেকে পেঁয়াজ বোঝাই কোন ট্রাক হিলি বন্দরে প্রবেশ করেনি। তবে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করবে কি না সে বিষয়ে এখনও কোন চিঠি দেয়নি ভারত।

সম্প্রতি ভারতের বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে এমন খবরে দেশের অভ্যন্তরেও কেজিতে দাম বেড়েছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা।

তাই ক্রেতাদের জন্য গতকাল রোববার থেকে ৩০ টাকা দরে সারাদেশে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করেছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে হঠাৎ করে ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করার ঘোষণা দেয়। এরপর দেশের বাজারে হু হু করে দাম বাড়ে এই পণ্যটির। রেকর্ড ৩০০ টাকা পর্যন্ত ওঠেছিল দাম।

তখন ভাররতের বিকল্প হিসেবে মিয়ানমার, চীন, মিসর ও পাকিস্তান থেকে স্থল, নৌ ও আকাশপথে পেঁয়াজ আমদানি করেছিল সরকার।