চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আরও ১ লাখ দরিদ্র পরিবারকে খাবার কিনতে ১৫ কোটি টাকা দিল ব্র্যাক

কোভিড-১৯ সংক্রমণ সঙ্কটে জীবিকার ঝুঁকিতে পড়া দেশের ৫০টি জেলায় আরও ১ লাখ পরিবারে খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম শুরু করেছে ব্র্যাক। দুই সপ্তাহের জন্য খাদ্য উপকরণ কিনতে প্রতি পরিবারে ১৫ শত টাকা করে মোট ১৫ কোটি টাকা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) এই কার্যক্রম শুরু হয়। এর আগে, ব্র্যাক ১ম পর্বে নিজস্ব তহবিল থেকে ১ লাখ দরিদ্র পরিবারকে সমপরিমাণ অর্থ সহায়তা দেয়, যা সম্প্রতি শেষ হয়েছে। এবারের খাদ্য সহায়তা কার্যক্রমে ব্র্যাকের সঙ্গে থাকছে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য বিষয়ক অধিদপ্তর (ডিএফএটি), গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা (জিএসি) ও ব্র্যাক ব্যাংক।

বিজ্ঞাপন

ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ্ বলেন, ‘এ মাসের প্রথমেই ব্র্যাকের একটি জরিপে দেখা গেছে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও ঘরে থাকার পরামর্শ মানতে গিয়ে নিম্নআয়ের মানুষের আয় অনেক কমে গেছে। ৭২ শতাংশ মানুষ কাজ হারিয়েছেন অথবা তাঁদের কাজ কমে গেছে।

এই পরিস্থিতিতে চরম দারিদ্র্যের হার আগের তুলনায় বেড়ে গেছে ৬০ শতাংশ। ১৪ ভাগ মানুষের ঘরে কোনো খাবারই নেই। ২৯ শতাংশের ঘরে আছে ১ থেকে ৩ দিনের খাবার। এরপর আরও দুসপ্তাহ চলে গেছে, এখন পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার কথা। তাই আমরা ২য় পর্যায়ে খাদ্য সহায়তা চালু করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘ব্র্যাকের এবারের উদ্যোগে সহযোগী হিসেবে ডিএফএটি, জিএসি ও ব্র্যাক ব্যাংককে পাশে পেয়েছি আমরা। আমাদের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর খাদ্য সঙ্কটে এগিয়ে আসার জন্য তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। তবে, এটাও ঠিক প্রয়োজনের তুলনায় এই উদ্যোগ সামান্য। তাই সহানুভূতিশীল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি যেন তাঁরাও এগিয়ে আসেন। তাঁদের সাহায্যে আমরা আরো অনেক বিপণন পরিবারের কাছে পৌঁছাতে পারব।’

বিজ্ঞাপন

আরো বেশি সংখ্যক অতিদরিদ্র পরিবারের কাছে সহায়তা পৌঁছানোর লক্ষ্যে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তহবিল সংগ্রহের জন্য একটি উদ্যোগও গ্রহণ করেছে ব্র্যাক, যার বিস্তারিত পাওয়া যাবে ব্র্যাকের ওয়েবসাইটে:  https://www.brac.net/covid19/donate/

ব্র্যাক ইতিমধ্যে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে দেশজুড়ে সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। এতে যুক্ত রয়েছে এর এক লাখেরও বেশি কর্মী, স্বেচ্ছাসেবক ও স্বাস্থ্যকর্মী। এই কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায়।

এছাড়া ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার জন্য এ পর্যন্ত ৬ লক্ষাধিক তরল সাবান, গোসলের সাবান ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করা হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সুরক্ষা উপকরণ হিসেবে ৫৫ হাজারেরও বেশি সার্জিক্যাল মাস্ক এবং ৮১ হাজার জোড়া গ্লাভস বিতরণ করা হয়েছে।

ইতিমধ্যে ব্র্যাক স্বাস্থ্যসম্মত ও কুটিরশিল্পভিত্তিক পদ্ধতিতে পুনর্ব্যবহারযোগ্য মাস্ক ও সুরক্ষা পোশাক (পার্সোনাল প্রোটেকটিভ ইকুইপমেন্ট বা পিপিই) উৎপাদন শুরু করেছে। এরই মধ্যে প্রায় সাড়ে তিন লাখ পুনরায় ব্যবহারযোগ্য মাস্ক এবং দুই হাজার ১৫০টি সুরক্ষা পোশাক বিতরণ করা হয়েছে।

মাঠপর্যায়ে ব্যাপক জনসচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যম ব্যবহার করেও ব্র্যাক জনসচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এতে যুক্ত হয়েছেন দেশের প্রখ্যাত চিকিৎসক, নীতিনির্ধারক ও শিল্পীবৃন্দ এবং ব্র্যাকের ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।