চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আমি সায়মার জন্য আপনাদের কাছে দোয়া চাই: প্রধানমন্ত্রী

বেগম রোকেয়ার জন্মদিনের দিন মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলেরও জন্মদিন উল্লেখ করে তার জন্য দোয়া চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন: আমি সায়মার জন্য আপনাদের কাছে দোয়া চাই। সেও সমাজে প্রতিবন্ধী এবং অটিস্টিক যারা তাদের নিয়ে সে কাজ করে যাচ্ছে। আজকে তারই উদ্যোগে জাতিসংঘে রেজুলেশন পাস হয়েছে এবং এ ব্যাপারে সচেতনা সৃষ্টি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

বুধবার সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে বেগম রোকেয়া পদক প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকালে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি এই অনুষ্ঠানে যুক্ত হন। সমাজসেবায় বিভিন্ন অবদানের জন্য এ বছর পাঁচ নারীকে বেগম রোকেয়া পদক ২০২০ দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়ার কন্যা আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অটিজম বিশেষজ্ঞ সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের জন্মদিন আজ। ১৯৭২ সালের আজকের দিনে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ৪৯ বছর বয়সে পা দিলেন তিনি। সারাবিশ্বে অটিস্টিক শিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছেন পুতুল। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি পুতুল বাংলাদেশ অটিজম ও নিউরো ডেভেলপমেন্ট ডিসঅর্ডার বিষয়ক জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারপার্সন ও সিআরআই-এর ট্রাস্টি ও ভাইস-চেয়ারপার্সন হিসাবে দায়িত্বে আছেন।

সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ২০০৮ সাল থেকে শিশুদের অটিজম এবং স্নায়ুবিক জটিলতাসংক্রান্ত বিষয়ের ওপর কাজ শুরু করেন। অল্প সময়ের মধ্যে তার কাজ বিশ্বজুড়ে প্রশংসা পায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে পুতুলকে ‘হু অ্যাক্সিলেন্স’ অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত করে।

মনস্তত্ত্ববিদ সায়মা যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান অটিজম স্পিকস এর পরামর্শক হিসেবেও কাজ করেন। তিনি ২০১৩ সালের জুন থেকে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিশেষজ্ঞ পরামর্শক প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত হন ।

ব্যারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের সময় তিনি বাংলাদেশের নারীদের উন্নয়নের ওপর গবেষণা করেন। এ বিষয়ে তার গবেষণাকর্ম ফ্লোরিডার অ্যাকাডেমি অব সায়েন্স কর্তৃক শ্রেষ্ঠ সায়েন্টিফিক উপস্থাপনা হিসেবে স্বীকৃত হয়। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ব্যারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৯৭ সালে মনোবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি, ২০০২ সালে ক্লিনিক্যাল সাইকোলজির ওপর মাস্টার্স ডিগ্রি এবং ২০০৪ সালে স্কুল সাইকোলজির ওপর বিশেষজ্ঞ ডিগ্রি লাভ করেন। সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের স্বামীর নাম খন্দকার মাশরুর হোসেন। তিন কন্যা এবং এক ছেলের জনক-জননী তারা।

সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের উদ্যোগে ২০১১ সালে ঢাকায় প্রথমবারের মতো অটিজমবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।