চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আমি যাই করি, মানুষ তাতে কিছু না কিছু খোঁজে: নুসরাত ফারিয়া

‘আমাদের দেশের মেয়েরা ‘মিস ওয়ার্ল্ড’, ‘মিস ইউনিভার্স’, ‘মিসেস ওয়ার্ল্ড’-এর মতো বিশ্বমঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করছে। আমরা যদি এখনো আগের ওই মেন্টালিটির মধ্যে বন্দি থাকি, তাহলে দিনের পর দিন আমাদের দিয়ে কিছুই হবে না’

দেশের অনেক নায়িকার হাতে যখন ছবি সংকট, নুসরাত ফারিয়া তখন কাজের ব্যস্ততায় দম ফেলার সময় পাচ্ছেন না! ঢাকার পাশাপাশি কলকাতার ছবিতে তার চাহিদা কম নয়। সেখানকার মেইন স্ট্রিমের ছবিতে পরপর কাজ করছেন এই আবেদনময়ী অভিনেত্রী। সম্প্রতি ‘বিবাহ অভিযান’ মুক্তির পর বর্তমানে নুসরাত ফারিয়া কলকাতার ছবি ‘ভয়’-এর শুটিং করছেন বিহারের রাচিতে। সেখান থেকে মঙ্গলবার বিকেলে নুসরাত ফারিয়া কথা বলেছেন চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে..

‘বিবাহ অভিযান’ শেষ হওয়ার পরেই কলকাতার ছবি ‘ভয়’-এর শুটিং শুরু করছেন। এখন কোথায় আছেন?
বিহারের রাচি নামক একটা জায়গায় ‘ভয়’-এর শুটিং করছি। গত ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে টানা কাজ চলছে সেখানে। অলমোস্ট ৩০ পারসেন্ট কাজ শেষ। দেশে ফিরতে ফিরতে ৩০ সেপ্টেম্বর কিংবা ১ অক্টোবর লেগে যাবে। দেশে এসে আবার অন্য কাজে হাত দেব।

বিজ্ঞাপন

সেগুলো কী কাজ, সিনেমা?
বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ‘ওয়েডিং ইন্ডাস্ট্রি’ নামে একটা ওয়েডিং শো হবে ৫ অক্টোবর। ওটার শো স্টপার হিসেবে আমি থাকবো। পরদিন দু’টো পত্রিকার কাভার শুট করবো। আমি মুঠোফোন হুয়াওয়ে’র ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর। ৭ অক্টোবর এটার শুট করবো। পরদিন অর্থাৎ ৮ তারিখ নতুন একটি জুতো কোম্পানির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হয়েছি। সেটার ফটোশুট করবো। ৯ তারিখ শুটিংয়ে দুবাই যাবো। কিসের শুটিংয়ে যাবো সেটা পরে জানাবো!

‘ভয়’ করতে গিয়ে ভয় পাচ্ছেন? দর্শক ‘ভয়’ দেখে ভয় পাবেতো?
(অট্টহাসি…) না না কোনো ‘ভয়’ পাচ্ছি না। আমার পাশে অঙ্কুশ আছে। ভয়ের কোনো কারণ নেই। দর্শক ‘ভয়’ দেখে ভয় পাবে কিনা জানি না। তবে এই ছবি দেখে নিজের ভয়গুলোকে কাটাতে পারবে। আর ‘ভয়’ কোনো ভৌতিক ছবি নয়। পুরোপুরি থ্রিলার ছবি।

যতদূর জানি আপনার চরিত্র অটিজম স্কুলের শিক্ষিকার। গ্ল্যামার ভেঙে এ চরিত্রে নিজেকে মানিয়ে নিতে পেরেছেন?
আমি সবসময় পরিচালক নির্ভর শিল্পী। একেক পরিচালকদের স্কুলিং একেক রকম। অনেকের সঙ্গে কাজ করেছি। এতে আমার ভিন্নভিন্ন অভিজ্ঞতা হয়েছে। পরিচালক রাজা চন্দ এই গল্পটা লিখেছেন। তার চেয়ে ভালো কেউ আমার চরিত্রটা নিয়ে ইমাজিন করতে পারবে না। তার গাইডলাইন অনুসরণ করছি। এই চরিত্রটা আমার জন্য একেবারে নতুন। কথা বলে প্রস্তুত হওয়ার চেয়ে এই চরিত্রের জন্য আমাকে মানসিক প্রস্তুতি নিতে হয়েছে। আমি ‘বেস্ট অ্যাফোর্ড’ দিয়ে যাচ্ছি।

‘আশিকী’, ‘বিবাহ অভিযান’র পর আবার অঙ্কুশ-নুসরাত ফারিয়া জুটি। ‘ভয়’ ছবিতে এ জুটির নতুনত্ব কী থাকছে?
‘আশিকী’ ছিল পুরোপুরি রোম্যান্টিক ছবি, ‘বিবাহ অভিযান’ ছিল কমেডি ছবি। কিন্তু ‘ভয়’ হলো থ্রিলার ছবি। আমি মনে করি, দুটো মানুষকে ভিন্নভিন্ন দেখার আঙ্গিকে এটা তৃতীয় পর্যায়। আমি বিশ্বাস করি, লেডি ক্যারেক্টার ওরিয়েন্টেড ছবি। গল্প প্রধান ছবি। পরিচালক রাজা দা (রাজা চন্দ) খুব ভালো লিখেছেন গল্পটা। আমার কাছে মনে হচ্ছে, গল্প এবং দুটোই দর্শকদের কাছে ফ্রেশ লাগবে।

কলকাতার একাধিক হিট ছবির নির্মাতা রাজা চন্দ। তার নির্দেশনায় কাজ করে কেমন লাগছে?
‘ভয়’ রাজা দা’র ১২ নম্বর সিনেমা। এটা আমারও ক্যারিয়ারে ১২ নম্বর সিনেমা। আমাদের দু’জনের ১২-তে একটা কানেকশন আছে। মানুষ হিসেবে তাকে ভীষণ পছন্দ হয়েছে। একইভাবে ‘ক্যাপ্টেন অব দ্য শিপ’ হিসেবে রাজা দা রিয়েলি ফ্যান্টাসটিক। কাজটা ডেডিকেশন দিয়ে করছি। দেখা যাক ফাইনালি কি হয়! তবে আমার দৃঢ় বিশ্বাস ‘ভয়’ দর্শক পছন্দ করবে।

দেশে অনেকের হাতে কাজ নেই! সেখানে সীমান্তের এপার-ওপারে আপনার তুমুল ব্যস্ততা যাচ্ছে। নতুন ছবিতে কাজের আগে কোন কোন দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন?
আমার কাছে ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ’ বিষয় হলো পরিচালক। মাঝে একটা সিনেমায় পরিচালকের ব্যাপারে কম নজর দিয়েছিলাম বলে ফলাফল ভালো হয়নি। পরিচালকের পর গল্পে নজর দেই। তারপর সহশিল্পী এবং কোন প্রোডাকশন হাউজ লগ্নি করছে; এই চারটি জিনিস নতুন ছবি হাতে নেয়ার আগে আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ভালো প্রডাকশন হাউজের কাজ করলে তারা কাজটাকে সঠিকভাবে দর্শকদের কাছে পৌঁছে দেয়। তাই প্রোডাকশন হাউজের বিষয়টিও দেখতে হয়।

ইফতেখার চৌধুরী’র নতুন সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হলেন, ওটার কী খবর?
ইফতেখার ভাই যখন প্রথম ছবিটার জন্য আমাকে বললেন, আমি খুব উচ্ছ্বসিত হয়ে বলেছিলাম, ‘আমি ফিল্মটার অংশ হতে চাই। কাজটি করতে চাই।’ পরিচালক ইফতেখার চৌধুরী বলেই আমি কথাটা বলেছিলাম। কারণ, নির্মাতা হিসেবে উনি আমার কাছে ব্র্যান্ড! একজন গ্ল্যামার্স হিরোইন হলেও এই ছবিতে অভিনয়ের যথেষ্ট সুযোগ থাকবে। আমি এখনও জানিনা এখানে আমার বিপরীতে কে থাকবেন। তবে এটার কাজ শুরু হতে দেরি আছে। কারণ, ‘ঢাকা ২০৪০’ কাজ শেষ করতে হবে।

শাকিব খানের সঙ্গে প্রথমবার কাজ করলেন ‘শাহেনশান’ ছবিতে। ৪ অক্টোবর এ ছবি মুক্তি পাচ্ছে। অথচ প্রচারণায় আপনাকে দেখা যাচ্ছেনা কেন? আপনার অফিশিয়াল পেজেও ‘শাহেনশান’ নিয়ে কোনো পোস্ট নেই!
শাহেনশাহ’র প্রচারণা নিয়ে দূরে নেই। আমি জানিনা ওখানে কী হচ্ছে। আমাকে কেউ কোনো ইনফর্ম করে না। কেউ যদি আমাকে কিছু না জানায় তাহলে, ‘হাউ উড আই প্রমোট দ্য ফিল্ম’? হঠাৎ ঘুম থেকে উঠে দেখি গান-পোস্টার রিলিজ হয়েছে। এটা একটা টিমওয়ার্ক। প্রোডাকশন হাউজ না পারলেও পরিচালক তো আগে থেকে শিল্পীকে জানাতে পারে। তাও করে না।

ক’দিন আগে আপনার ‘সুইমিং স্যুট’ পরা ছবির কারণে সমালোচনা হয়েছিল। এগুলো কীভাবে দেখে?
আমি যাই করি, মানুষ সেখানে কিছু না কিছু খোঁজে। কারও কাছে ভালো লেগেছে, আবার কারও কাছে আপত্তিকর লেগেছে; এটা আমি সহজভাবে নিয়েছি। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, আমাদের এখন কনজারভেটিভ থাকার সময় না। আমাদের দেশের মেয়েরা ‘মিস ওয়ার্ল্ড’, ‘মিস ইউনিভার্স’, ‘মিসেস ওয়ার্ল্ড’-এর মতো বিশ্বমঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করছে। আমরা যদি এখনো আগের ওই মেন্টালিটির মধ্যে বন্দি থাকি, তাহলে দিনের পর দিন আমাদের দিয়ে কিছুই হবে না। আমার মনে হয় এখন ফ্রেক্সিবিলিটির সময়। আমার ওই ছবিটার ছাড়ার পর জানতে পেরেছি ওটা পোস্ট করা ঠিক হয়নি। কাউকে হার্ট করার ফিলিং ছিল না।

পটাকা’র পর নতুন গান আসবে, এমনটা বলেছিলেন। ওটার কী খবর?
আগামী ডিসেম্বর মাসেই নতুন গান রিলিজ হবে। গানের নাম ‘পটাকা ২’ থাকবে না। নতুনত্ব থাকবে। এটা সারপ্রাইজ দিতে চাই! তারুণ্যকে টার্গেট করেই এবার গানটি করছি। অনেক বড় ধামাকা হবে এই গানেও! তবে এখনই এর বেশি কিছু বলবো না। ডিসেম্বরে গান রিলিজের আগেই সবকিছু জানাবো।

Bellow Post-Green View