চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আমি মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে চাই: আফরিন লাবণী

মিস বেস্ট বিহেভিয়ার, মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০১৮

‘গালা রাউন্ডে অংশ নেয়ার দিনে আমার মা ছিলেন আইসিইউতে’

ইচ্ছে ছিল ডাক্তার হওয়ার। কিন্তু কোন কারণে সেই স্বপ্ন তার পূরণ হয়নি। ভর্তি হর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাকাউন্টিংয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার চাপ বেশি। ডিপার্টমেন্টে ফার্স্ট হয় সে। স্বপ্ন বদলে যায়। ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন ছেড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখতে থাকেন। জনসেবা রাজনীতিও টানে তাকে। সংগঠক হিসেবে সে নিরলস এবং নিবেদিত। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ শাখার সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

ছাত্র রাজনীতির সুবাদে তার সুযোগ হয়েছে অনেকবার গণভবনে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে খুব কাছ থেকে দেখার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাহসিকতা আর দক্ষতায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ভবিষ্যতে দেশ সেবায় ব্রতী হতে চান। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্নও রয়েছে তার দেশের মানুষের কল্যাণে। স্বপ্নের কি শেষ আছে? নিজের উচ্চতা নিয়ে খুশি। তাই মাঝে মধ্যে পুলিশ হয়ে দেশ সেবার স্বপ্নও মনের কোনে উঁকি দেয়। তাই বিসিএস জন্যে প্রস্তুতিও নিচ্ছেন। জীবন নানা দিকে বিস্তৃত। অনেক স্বপ্ন তার দু চোখের পাতায়। একসময় নেভিতে যোগদানের দুর্বার ইচ্ছা দানা বাঁধে তার মনে। যেমন ভাবনা তেমন কাজ। প্রস্তুতি নেয় সে নেভিতে পরীক্ষা দেওয়ার। প্রতিযোগিতামূলক সবগুলো ধাপ পেরিয়ে যখন নেভিতে যোগ দেওয়ার চূড়ান্ত পর্বে তখন এক কালো শক্তির বাঁধাতে পেছনে ফেরে সে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

একেবারে নেভিতে যোগদানের শেষ মুহূর্তে পিছু হটে অপ্রতিরোধ্য এই নারী। তাই বলে দমে যাওয়ার পাত্রী সে নয়। এবার সে আরও আত্মপ্রত্যয়ী হয়ে নাম লেখান মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০১৮ প্রতিযোগিতায়। নিজের মেধা, শিক্ষা, বিহেভিয়ার আর দক্ষতায় গ্রুমিং সেশনের সবগুলো রাউন্ডে নিজেকে মেলে ধরে চলে আসেন সেরা দশের লাইম লাইটে। কিন্তু এখানেও বাঁধা তার পিছু ছাড়েনি। মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতার ভেতরে তার মা অসুস্থ হয়ে পড়েন। ভর্তি হন আইসিইউতে বারডেমে। মায়ের দুটো কিডনিই নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু এবারও বাঁধা পেরিয়ে সে ঠিকই জিতে নেন মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ প্রতিযোগিতার ‘মিস বিহেভিয়ার অ্যাওয়ার্ড’।

বলছিলাম ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০১৮’ প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে ‘মিস বিহেভিয়ার’ হয়ে আলোচনায় আসা আফরিন সুলতানা লাবণীর কথা। পড়াশোনা করছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। অনার্স তৃতীয় বর্ষে। মিষ্টি পরিশীলিত ব্যবহার, শিক্ষা, রুচিবোধ আর নজরকাড়া গ্ল্যামারে এবারের আসরে মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন বিচারক, সাংবাদিক, সমালোচক আর সাধারণ মানুষদের। নিজের ক্যারিয়ার তৈরীতে সবচেয়ে বেশি মনোযোগী তিনি। কে কী বললো, কী ভাবলো-এসব ভুলে আত্মমগ্ন নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার সাধনায় চটপটে এই তরুণী। তার বড় হওয়ার স্বপ্ন, সংগ্রাম ও বাঁধা পেরিয়ে এগিয়ে যাওয়ার গল্পের কথা শোনালেন তন্ময় মাহমুদকে:

মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতা নিয়ে অনেক আলোচনা সমালোচনা হলো। এই জার্নি আপনার কাছে কেমন ছিল?
এই জার্নি আমার কাছে অনেক ভাল লেগেছে। এর কারণ এখান থেকে শেখার অনেক কিছু ছিল যা আমরা বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে পারবো। স্কুল, কলেজ বা ইউনিভার্সিটি যে শিক্ষা দেয় না। তা আমি এখান থেকে পেয়েছি। আমরা তো সবাই কথা বলতে পারি কিন্তু এই কথায় যে আরো সুন্দর করে বলা যায় এখান থেকে সে পাঠ আমরা পেয়েছি। নিজেকে অন্যের কাছে আকর্ষণীয় করে উপস্থাপন করা। নান্দনিকভাবে হাঁটা, চলা, দাঁড়ানো এই সব এখান থেকে শিখেছি। নিজের পোশাক ব্যক্তিত্বের সাথে ম্যাচিং করে কীভাবে পরতে হয়। কোন কালার নিজের সাথে স্যুট করে- এই সব নানা কারণে এই প্রতিযোগিতা পজেটিভ আমার কাছে।

এই প্রতিযোগিতা নিয়ে অনেক আলোচনা সমালোচনা হয়েছে। আপনি নিজে প্রতিযোগি না হলে এই আয়োজনকে কীভাবে নিতেন?
অবশ্যই পজিটিভলি নিতাম। দু’বছর মাত্র এটি আমাদের দেশে শুরু হয়েছে। এই আয়োজন দেশের জন্যে ভালো। ৩০ হাজার প্রতিযোগি ছিলাম আমরা। এদের সবার স্বপ্ন তৈরি করা এবং এখান থেকে শেখা। একে অন্যভাবে নেওয়ার কোন কারণ নেই। নতুন প্রজন্মের শেখার একটা প্ল্যাটফর্ম এটি। আর ভুল তো মানুষ করতেই পারে! আর যারা সমালোচনা করছেন তারাও খারাপ না। সমালোচনা তো হবেই।

বিজ্ঞাপন

আপনাকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি সমালোচনা হয়েছে। গালা নাইটে প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারা এবং পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যাওয়া- সব মিলিয়ে আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
আমার সবকিছুর মূলে ছিলেন মা। তার বাঁচার অবলম্বন ছিলাম আমি আর আমার সাকসেস। কিন্তু যেদিন আমি গালা রাউন্ডে অংশ নেই সেই দিন আমার মা ছিলেন আইসিইউতে। আমি কারো সাথে তা শেয়ার করিনি। শেয়ার করে কী হবে? আমি মানসিকভাবে তখন খুব খারাপ ছিলাম। ওই সময়ে আমার কাছে খবর আসে মা মারা গেছেন। তখন স্টেজে আমার অবস্থা কি ছিল বুঝতেই পারেন? কিন্তু পরে জানতে পারি হাসপাতালে মার পাশের বেডে একজন মারা গেছেন।

আপনাদের গ্রুমিং নিয়েও কথা হয়েছিল। আদৌ কী গ্রুমিং হয়েছে?
অবশ্যই গ্রুমিং হয়েছে। গুলশানে রয়েল প্যারাডাইজ নামে একটি রিসোর্টে ৭ দিন গ্রুমিং হয়। গ্রুমিং কল কোন দিন সকাল ৯ টায় কোন দিন ১০ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত চলতো। একটা মেয়েকে বড় প্ল্যাটফর্ম এ দাঁড় করানোর জন্যে তা জরুরী। আমি সেখানে অনেক কিছু শিখেছি। নাসরিন চৌধুরী ম্যাডাম ছিলেন। স্বপন চৌধুরী স্যারের ওয়াইফ। তিনি গ্রুমিং করাতেন।

পাব্লিকলি কীভাবে কথা বলতে হয়, তা কি শেখানো হয়েছে?
হ্যাঁ। তা তো হয়েছেই। আমাদের ১০ জনের ভেতর এক জন দেশের পতাকা নিয়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে। তাই আমাদের সেভাবেই গ্রুমিং করানো হয়েছে। যাতে দেশের সম্মান রাখতে পারি সেভাবেই আমাদের তৈরি করা হয়েছে।

আপনি বিবাহিত এই রকম সংবাদ এসেছে। সত্যিই কি আপনি বিয়ে করেছেন?
মোটেই না। বিবাহিত হলে মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় আসার সুযোগই পেতাম না। কারণ গত বছর এটি নিয়ে অনেক কিছু হয়ে গেলো। আমিও শুনতে পাচ্ছি গণমাধ্যমে কিন্তু এটি পুরো ফেক একটা ব্যাপার।

গত বছরও একজনের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এসেছিলো। নিউজও হয়েছে। এবার আপনার বিরুদ্ধে। কেন এসব হচ্ছে?
কিছু মানুষ সমালোচনা করতেই বেশি পছন্দ করেন। হয়তো তারা এই প্রতিযোগিতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্যে প্রতিবার এই রকম করেন।

আপনি রাজনীতির সাথে জড়িত?
হ্যাঁ। রাজনীতি করি, এখনো করছি। জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান আমার অনুপ্রেরণা। ছাত্রলীগকে ভালোবাসি। জাতির পিতার কারণে রাজনীতির প্রতি আমার ভালবাসা।

গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ড থেকে রাজনীতি করে শীর্ষে যাওয়া যায়। এই রকম পরিকল্পনা আছে কি?
ওই রকম চিন্তা কখনো করিনি। দেশকে আমি ভালবাসি। দেশের জন্যে কিছু করতে চাই। ক্লাস টু থেকে স্কাউট করেছি। স্কুল কলেজে স্কাউটে কমান্ডার ছিলাম। তখন থেকে কেনো যেনো প্রেরণা পেয়েছি দেশের জন্যে কিছু করার। আর ছাত্রলীগ করলে দেশের জন্যে কিছু করার স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব, তাই এই সংগঠনের সাথে নিজেকে জড়িয়েছি।

বিজ্ঞাপন